বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল সমগ্র জনগণের–মেনন

23

যুগবার্তা ডেস্কঃ ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল সমগ্র জনগণের। তারাই ইতিহাসে ব্রাত্যজন হয়ে গেছে। গণযুদ্ধের সেই জনযোদ্ধাদের সম্মান দিতে না পারলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পূর্ণতা পাবে না।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত ‘স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ববাংলা কর্মসূচী থেকে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ সমন্বয় কমিটি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় রাশেদ খান মেনন একথা বলেন।

মেনন বলেন, ’৭০ এর ফেব্রুয়ারিতে ঐ কর্মসূচী ঘোষণা করায় আমাকে ও কাজী জাফরকে সামরিক আদালতে সাত বছর সশ্রম কারাদন্ড দেয়। আত্মগোপন থেকেই আমরা মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করতে কাজ শুরু করি। আর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গঠন করা হয় জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ সমন্বয় কমিটি। অঞ্চল জুড়ে ঐ সমন্বয় কমিটির নেতৃত্বে এই মুক্তিযোদ্ধারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল নয়মাস ধরেই মুক্ত রেখেছিল। কিন্তু তাদের স্বীকৃতি নাই। মুক্তিযোদ্ধা তালিকাতেও তাদের নাম ওঠেনা। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বামপন্থীদের অবদানের স্বীকৃতি প্রদান এবং জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির দ্বারা সংগঠিত মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভূক্তিকরণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের পূর্ণতা আনা প্রয়োজন।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি কমরেড রাশেদ খান মেননের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য কমরেড হায়দার আকবর খান রনোর লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড আলী আহমেদ এনামুল হক। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টির একাংশের মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, বিশিষ্ট সমাজ কর্মী ও গবেষক শামসুল হুদা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হায়দার আকবর খান জুনো। সঞ্চালনা করেন ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্য্যুরো সদস্য কমরেড মাহমুদুল হাসান মানিক।
আলোচনা সভায় কমরেড মেনন বলেন, মুক্তিযুদ্ধে বামপন্থীরা কেবল অংশগ্রহণই করে নাই, সকল প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবালে করে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিস্তীর্ণ অঞ্চল হানাদার বাহিনী মুক্ত রেখেছিল। তিনি বলেন তালিকাভুক্ত হওয়া কিংবা মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাওয়ার জন্য নয়, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বামপন্থী মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান চাই। ইতিহাস তুলে ধরে মেনন আরো বলেন ফ্রিডম ফাইটারস্, জাতীয় মুক্তি সংগ্রাম সম্বয় কমিটি, মুজিব বাহিনী, ছাত্র ইউনিয়ন, ন্যাপ এবং সিরাজ সিকদারের শ্রমিক আন্দোলন এই চারটি ধারার মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। তাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এসব ধারায় কোন একটিকে বাদ দিয়ে ইতিহাস লিখলে তার পূর্ণতা পাবে না।

আগামীদিনে মুক্তিযুদ্ধে বামপন্থীদের ভূমিকা নিয়ে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা এবং নতুন প্রজন্মকে জানানোর জন্য সকলকে উদ্যোগ গ্রহণের আহবান জানান।