জেরুজালেম নিয়ে রাশিয়ার দ্বারস্থ আব্বাস

5

যুগবার্তা ডেস্কঃ জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেওয়ার পর জেরুজালেম ইস্যুতে রাশিয়ার সমর্থন চাচ্ছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। গতকাল সোমবার রাতে তিনি রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর উদ্দেশে রওনা দেন।সেখানে তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মস্কো সফরের দুই সপ্তাহের মাথায় সেখানে সফর করছেন মাহমুদ আব্বাস। তিনি এমন একটি সময়ে রাশিয়ার দ্বারস্থ হলেন, যখন ওয়াশিংটন-মস্কো সম্পর্ক স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী যেকোনো সময়ের তুলনায় খারাপ যাচ্ছে।

গত বছরের শেষ দিকে জেরুজালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী হিসেবে ওয়াশিংটনের স্বীকৃতির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন আব্বাস। এ অবস্থায় আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা মাহমুদ আব্বাসের।

ফিলিস্তিন মনে করে, ওয়াশিংটন এই স্বীকৃতির মাধ্যমে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এর মধ্যেই জাতিসংঘে নিয়োজিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি অভিযোগ করেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু করতে প্রেসিডেন্ট আব্বাসের আগ্রহের অভাব রয়েছে। কিন্তু আব্বাস ওয়াশিংটনের স্বীকৃতির পর শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বলেছেন, তাঁর জনগণ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ স্বীকৃতি আদায়ে কাজ করে যাবে।

এই প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে কাজ করছে ইসরায়েল। এর অংশ হিসেবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গত ২৯ জানুয়ারি মস্কো সফরে গিয়ে সিরিয়া ও ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই সফরে নেতানিয়াহু সিরিয়ায় ইরানের সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করেন। এ অবস্থায় ইনস্টিটিউট ফর ইউএস অ্যান্ড কানাডিয়ান স্টাডিজের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞ আলেক্সান্ডার সুমিলিন সম্প্রতি রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন আব্বাসকে। তিনি নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে যাতে রুশ-ইসরায়েল সম্পর্ককে বিপথে না যায়, সেই পদক্ষেপ নিতে আব্বাসকে পরামর্শ দেন।

এর আগে ২০১৬ সালে এক আহ্বানে রাশিয়া কোনো পূর্ব শর্ত ছাড়া ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠকের আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। সর্বশেষ গত জানুয়ারিতেও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ দু্ই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নিয়েছিলেন।-কালেরকন্ঠ