৯ মার্চ খুলনায় উপকূলীয় কনভেনশন

11

যুগবার্তা ডেস্কঃ তেল-গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত সমাবেশে নেতবৃৃন্দ অবিলম্বে ‘সুন্দরবনবিনাশী রামপাল প্রকল্প বাতিল, বঙ্গোপসাগরে গ্যাস অনুসন্ধানে জাতীয় সক্ষমতার বিকাশ, রাষ্ট্রায়ত্ব বিদ্যুৎ খাত রক্ষা, জাতীয় কমিটির বিকল্প প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু-বাস্তাবায়ন ও ফুলবাড়ীতে জাতীয় কমিটির নেতৃবৃন্দের নামে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। এসব দাবি বাস্তবায়নে আগামী ৯ মার্চ খুলনায় উপকূলীয় কনভেনশনেরও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয় কমিটি আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, রুহিন হোসেন প্রিন্স, মোশরেফা মিশু। এসময় বজলুর রশীদ ফিরোজ, সাইফুল হক, মোশাররফ হোসেন নান্নু, আজিজুর রহমান, আহসান হাবিব লাভলু, আবুল হাসান রুবেল, ফখরুদ্দিন কবির আতিক, আকবর খান, শামসুজ্জামান, নাসিরউদ্দিন নসু, মাহিন উদ্দিন চৌধুরী লিটন প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সরকার জনগণের স্বার্থরক্ষা না করে দেশি-বিদেশি লুটেরা গোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষায় ব্যস্ত। ‘দেশ-বিদেশের সকল তথ্য গবেষণা ও প্রবল জনমত সত্ত্বেও সরকার এখনও সুন্দরবনবিনাশী রামপাল প্রকল্প নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি ‘শিল্প ও কৃষিসহ সকল ঘরে সুলভে পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য জাতীয় কমিটির বিকল্প প্রস্তাবনা তুলে ধরে বলেন, সরকারের ব্যয় বহুল-ঋণনির্ভর-পরিবেশধ্বংস বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনার বিপরীতে এই প্রস্তাবনা হাজির করেছে। সরকার জনস্বার্থের পক্ষে হলে অবিলম্বে এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু করবেন, এটি আমাদের প্রত্যাশা। তিনি বলেন, দুর্নীতিবাজ খুজতে বেশি দূরে যেতে হবে না, সুন্দরবন এবং তার আশপাশে যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে দখলদারিত্ব কায়েম করে সুন্দরবনকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, তাদেরকে ধরলেই অনেক দুর্নীতিবাজ বেড়িয়ে পড়বে। সরকার পরিবেশ রক্ষার কথা বললেও সুন্দরবনের পাশে অনেক প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিয়ে সুন্দরবনকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সুন্দরবন ধ্বংস করে, দেশের মানুষের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে কোনো উন্নয়ন হতে পারে না। যে উন্নয়ন মানুষের কল্যাণের বিপরীতে প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংস করে তা রক্ষায় জনগণকেই এগিয়ে আসতে হবে। তিনি অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে জনগণের কণ্ঠকে সোচ্চার করার আহবান জানিয়ে বলেন, আগামী ৯ মার্চ খুলনায় উপকূলীয় কনভেনশন থেকে জাতীয় সম্পদ রক্ষায় আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, সরকার জনমত উপেক্ষা করে বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট কাটছে। এখনই প্রতিরোধ না করতে পারলে আগামীতে দাম আরও বাড়বে। সরকার জনস্বার্থ রক্ষার থেকে ব্যবসায়ী ও কমিশনভোগীদের স্বার্থরকআয় ব্যস্ত। তিনি রাষ্ট্রায়ত্ব বিদ্যুৎ খাত রক্ষা করে কম মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও সমুদ্রের গ্যাসের উপর শতভাগ মালিকানা নিশ্চিত করে নিজিদের স্বক্ষমতা বাড়িয়ে গ্যাস উত্তোলনের প্রক্রিয়া শুরু করার আহবান জানান। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল প্রেসক্লাব তোপখানা হয়ে পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়।