পাকিস্তানের মানবাধিকার কর্মী আসমা জাহাঙ্গীরের জীবনাবসান

8

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পাকিস্তানের প্রখ্যাত আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী আসমা জাহাঙ্গীর মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রোববার পাকিস্তানের লাহারে তার মৃত্যু হয়। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলে রেখে গেছেন। খবর ডনের।

আসমা জাহাঙ্গীরের পরিবার দেশটির জাতীয় দৈনিক ডননিউজকে বলেছে, তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। পরে তাকে হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানেই মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।

তবে তার শেষকৃত্যের ব্যাপারে এখনো অানুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। মানবাধিকার ইস্যুতে অত্যন্ত স্পষ্টভাষী হিসেবে পরিচিত ছিলেন আসমা জাহাঙ্গীর। দেশটির ইতিহাসে গণতান্ত্রিক পাকিস্তান গড়তে তার অবদান চির-স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

১৯৫২ সালের জানুয়ারিতে লাহোরে আসমা জাহাঙ্গীরের জন্ম। কিনাইআর্ড কলেজ থেকে স্নাতক ও পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরে লাহোর হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে যোগ দেন। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট ছিলেন আসমা জাহাঙ্গীর।

আসমা জাহাঙ্গীরের বাবা মালিক গোলাম জিলানী পশ্চিম পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতারের পর তার মুক্তির দাবিতে জেনারেল ইয়াহিয়া খানের কাছে একটি খোলা চিঠি লেখেন তিনি। আর এই চিঠি লেখার কারণে সে সময় তাকে কারাবরণ করতে হয়।

jagonews24

স্বাধীনতা যুদ্ধে বাঙালির পাশে দাঁড়ানোর জন্য ২০১৩ সালে ১৩ বিদেশি বন্ধুকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সম্মাননা দেয়া হয়। ওই বছর ২৪ মার্চ ঢাকায় এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে বাবার পক্ষে সম্মাননা নেন আসমা জাহাঙ্গীর।

২০১৫ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বাংলাদেশে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা নিয়ে পাকিস্তান সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে। এসময় পাক সরকারের ক্রোধকে দ্বৈতনীতি হিসেবে মন্তব্য করে এর কঠোর সমালোচনা করেন আসমা জাহাঙ্গীর।

সেই সময় তিনি বলেন, এর মাধ্যমে (পাক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্বেগ) বোঝা যাচ্ছে, নিজেদের নাগরিকদের চেয়ে বাংলাদেশের বিরোধীদলীয় সদস্যদের জন্য পাকিস্তান সরকারের অতিরিক্ত ভালবাসা রয়েছে।

পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট বারের প্রথম নারী সভাপতি আসমা জাহাঙ্গীর আরো বলেন, পাকিস্তানের সামরিক আদালতে বা সৌদি আরবে অন্যায়ভাবে কারো ফাঁসি কার্যকর হলে সরকারকে উদ্বেগ প্রকাশ করতে দেখা যায় না। আমরা আশা করি এসব ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে সমান উদ্বেগ জানাবে পাকিস্তান সরকার।