জামিনের প্রক্রিয়া শুরু হবে রোববার : ফখরুল

8

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশের আইন অনুযায়ী জামিন পেতে হাইকোর্টে যেতে হবে। সে সঙ্গে তার (খালেদা জিয়ার) জামিন চাইতে হবে। যেহেতু কোর্ট শুক্র ও শনিবার বন্ধ। তাই আশা করছি আগামী রোববার অথবা সোমবারের মধ্যে যদি কাগজপত্র পাওয়া যায় তাহলে এ ব্যাপারে আইনি প্রক্রিয়ার কাজ শুরু হবে।

শুক্রবার রাতে চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে বাদ আসর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে ব্রিফিং করে বিএনপি।

রায়ের সার্টিফাইড কপি পাওয়া না পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এগুলো আইনজীবীরা জানেন। তারা বলছেন যে এটা পসিবল। রোববার সোমবারের মধ্যেই আমরা এটাকে প্রোসেস করতে পারব।

ঠিক এ মুহূর্তে চেয়ারপারসনের কি পরিস্থিতি আপনারা কি জানতে পেরেছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, সবাই যা জানেন আমিও তাই জানি। পত্র পত্রিকায় যা দেখছি, খবর যা পেয়েছি, সেটা হচ্ছে উনাকে পুরোনো এবানডেন্ট সেন্ট্রাল জেলে সুপারের ঘরে রাখা হয়েছে।

‘আর পরিবারের সদস্যরা বিকেলে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তাদের সঙ্গে এখনো কথা হয়নি। আমি ঠিক জানি না।’

খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে অসুস্থ, তার খাবার ঔষুধপত্র সেসব নিয়ে কি পরিকল্পনা করছেন, জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, এসব নিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলতে পারব না। তবে আশা করছি এবং প্রত্যাশা খালেদা জিয়া তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, দুই বারের বিরোধী দলীয় নেত্রী, জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলের নেতা, বৃহৎ রাজনৈতিক দলের চেয়ারপারসন সুতরাং তার যেটা প্রাপ্য সেটা পাওয়া উচিত।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে কি জানিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশের বর্তমান অবস্থা তাদেরকে জানিয়েছি। আপনাদের সঙ্গে তো প্রতিদিন দু’ তিনবার করে কথা হয়। উনাদের সঙ্গে বছরে একবারও কথা হয় না।

প্রশ্ন আসছে ৮ ফেব্রুয়ারি রায়ের তারিখ ঘোষণার পর তা পরিবর্তনের বিষয়ে আবেদন করা হয়েছিল কি-না। কারণ পরের দু’ দিন শুক্র ও শনিবার ছিল? জবাবে ফখরুল বলেন, এটি আমি ঠিক বলতে পারব না। আমি তো আইনজীবী নই।

খালেদা জিয়া কারাগারে রয়েছেন এ পরিস্থিতিতে দল এবং সাধারণ মানুষদের প্রতি আপনাদের কি আহ্বান থাকবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি শুধু বিএনপির চেয়ারপারসন নয়, তিনি ১৬ কোটি মানুষের নেতা, তার রাজনৈতিক জীবনটাই ছিল গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামের জীবন। লড়াই করেছেন। উড়ে এসে জুড়ে বসেননি। এবং তিনি গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। সংসদীয় গণতন্ত্রের এবং দেশে বহু উন্নয়ন কাজের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন।

‘তাকে এভাবে একটা মিথ্যা মামলায় অভিযুক্ত করে এবং এখন তার বিরুদ্ধে যে সব প্রচারণা করা হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে, আমরা শুধু লজ্জিত হচ্ছি না দুঃখিত হচ্ছি না, বলা যেতে পারে এটাকে আমরা ধিক্কার জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমরা আশা করিনি আওয়ামী লীগের মতো একটি পুরোনো রাজনৈতিক দল তারা আজকে এ ধরনের আরেকটি রাজনৈতিক নেতাকে এভাবে টোটাল্লি খারাপ অবস্থায় হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য হীন পন্থার আশ্রয় নেবে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে খালেদা জিয়া নিজেই বলে গেছেন উল্লেখ করে বিএনপির এ শীর্ষ নেতা বলেন, আপনারা শান্ত থাকবেন। আপনারা ধৈর্য হারাবেন না। এবং আমার মুক্তির জন্য বা গণতন্ত্রের জন্য আসন্ন নির্বাচনের জন্য আমাদের যে আন্দোলন তা হলো শান্তিপূর্ণ সম্পূর্ণ অহিংস। নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক উপায়ে।

দলের নেতৃত্বের প্রশ্নে মির্জা ফখরুল বলেন, এটা নিয়ে সংশয়ের কোনো কারণ নেই। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাবসেন্স অব চেয়ারপারসন। তিনি চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করছেন।

এ সময় বিএনপির বিশেষ সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নওশাদ জমির, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ও চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শামসুদ্দিন দিদার উপস্থিত ছিলেন।