প্রশ্নফাঁসের খবর গুলো সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত

9

ড. মীজানুর রহমান:

আমাদের দেশে টাকার বিনিময় কেউ প্রশ্ন কিনে না বলে আমার ধারণা। কারণ, মানুষ প্রশ্ন তখনই কিনে যখন কেউ আগের রাতে প্রশ্ন পায়। দুই একদিন বা আগের রাতে প্রশ্ন না পেলে কেউ প্রশ্ন কিনে না। কারণ, বহু দুর্নীতিবাজ অভিভাবক আছেন, যারা ছাত্রদের পড়া-লেখার চেয়ে নাম্বারের জন্য এখন ঘুষ দিতে রাজি আছে। তবে আমার মনে হয়, প্রশ্ন ফাঁসের কারণ সেটাও না। আজ থেকে ২০ বছর আগেও যদি এখনকার মত ডিজিটাল প্রযুক্তিগুলো আসতো তখনও এগুলোই হত। এখন যেটা হচ্ছে সেটা হলো, কেন্দ্রগুলোর মধ্যে প্রশ্নগুলো খুলতে হয়। এরপর সেগুলো আবার হল অনুযায়ী ভাগ করে পাঠাতে হয়। একটা কেন্দ্রে অনেকগুলো হল থাকে আবার হলগুলোতে এত পরিমাণ মানুষের পরীক্ষা হয় যে, এই খোলার সময়ই কোন না কোনভাবে এখান থেকে কোন এক দুষ্কৃতিকারীর মাধ্যমে তা ফাঁস হয়। আর আমাদের এখন প্রযুক্তির আর্শিবাদে একটি ছবি তুলতে কয়েক সেকেন্ডের ব্যাপার। আর সেটাই যথেষ্ট প্রশ্নপত্র ফাঁসের জন্য।

এখন আমরা দেখছি প্রতিদিনই প্রশ্নগুলো ফাঁস হচ্ছে নয়টা থেকে সাড়ে নয়টার দিকে। এছাড়া আগে বা আগের রাতে যে প্রশ্নগুলো পাওয়া যায় টাকার বিনিময়ে সেগুলো ভুয়া। প্রশ্নফাঁসের যে খবর গুলো পাওয়া যায় সেগুলো সরকারের বিরুদ্ধে চক্রান্ত বা মন্ত্রীকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য হতে পারে, টাকার বিনিময়ে না। অথবা এটা একটা খবরের উৎসও হতে পারে। আরেকটি বিষয় যেটা দেখলাম সেটা হলো কোন সংবাদ মাধ্যমই কিন্তু সঠিক কোন সময় বা কোথা থেকে কিভাবে প্রশ্নফাঁস হচ্ছে সেটা উল্লেখ করছে না। আমি তো প্রেস থেকে বা যেখানে সরকার প্রশ্ন রাখে সেখান থেকে প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার কোন ধরণের লক্ষণ বা আলামত খুঁজে পাইনি। আর যেটা পাওয়া যায়, সেটা হলো নয়টা থেকে সাড়ে নয়টার মধ্যে। আর এটা ঠেকানোর কারো সাধ্য নেই। আর দশটার সময় তো এমনিতেই প্রশ্ন সবাই কে দিয়ে দেয়া হবে। আর তখন যদি একটা ছাত্র সেটা নিয়ে ফটোকপি করে সবাইকে দিয়ে দেয় তাহলেও প্রশ্ন ফাঁস হবে? প্রশ্ন ফাস হবেই । এটা ঠেকানো সম্ভব নয়। পরীক্ষা নিতে হলে তো প্রশ্ন ফাঁস করতেই হবে! আর সেটা করতে হবে দশটার সময়। কিন্তু কিছু দুষ্কৃতিকারীরা সেটা করে নয়টা থেকে সাড়ে নয়টার মধ্যে। তাই এটা ঠেকানো যাবে না। সারা বাংলাদেশে যেহেতু এক প্রশ্নে পরীক্ষা হয়, এক্ষেত্রে এটা ঠেকাতে হলে ডিজিটাল ট্রাংকের মাধ্যমে পরীক্ষার প্রশ্ন কেন্দ্রে পাঠানো যেতে পারে। ট্রাংকের চাবি পিন নম্বর পরীক্ষা শুরুর দুই মিনিট আগে হল সচিব কে দেয়া হবে। প্রশ্নপত্রগুলো আগে থেকেই ভাগ করা থাকবে এবং প্রশ্নপত্র হলরুমে গিয়েই খোলা হবে। যা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময় করা হয়ে থাকে।

 

লেখক পরিচিত:  উপাচার্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।