মানিক সরকারঃ তিনি ১৯৯৮ সাল থেকে এখনও ভারতের একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ৷

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেতন পান ২৬ হাজার ৩১৫ টাকা।
তবে এটা চলে যায় পার্টির তহবিলে।
পার্টির সার্বক্ষণিক কর্মী হিসেবে মাসে পার্টি থেকে ৯ হাজার ৭০০ টাকা ভাতা পান।
আর সেটা দিয়েই চলে তাঁর সংসার ।

তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু মন্ত্রী হিসেবে কোনও সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেন না ৷
গাড়ির বদলে রিক্সায় চেপে যান বিধানসভায় ৷
বাংলো বাড়ির বদলে থাকেন ছোট্ট একটি বাড়িতে । স্ত্রী চলেন বাসে- ট্রেনে।
নিজের এই আর্থিক অবস্থা নিয়ে নিজে কোনো কথা বলেন না।

গত কয়েক বছরে রাজ্যের জনগণের আয় বাড়লেও এই মন্ত্রীর আর্থিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে । গত বছর ভোটের আগে তাঁর তহবিলে ছিল ৯ হাজার ৭২০ টাকা ৩৮ পয়সা। এবার বিধানসভা ভোটের আগে যে সম্পত্তি ঘোষণা করেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে তাঁর হাতে থাকা হাজার দেড়েক নগদ ছাড়া অ্যাকাউন্টে রয়েছে ২৪১০ টাকা ১৬ পয়সা ।
এই মুহূর্তে তিনিই ভারতের সবথেকে গরিব মুখ্যমন্ত্রী।

এই ব্যক্তিটির সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে কয়েক শতক জমি ৷ তাও উত্তরাধিকার সূত্রেপ্রাপ্ত এবং তাঁর ভাই বোনদের যৌথ সম্পত্তি ৷

আগামী বিধানসভা নির্বাচনে অষ্টম বারের মতো সরকার গঠন করতে জনগণের ম্যান্ডেট নিতে যাচ্ছেন এই ব্যক্তিটি। তবে নির্বাচনী প্রচারণায় নিজের ব্যক্তিগত সততাকে সামনে আনছেন না । আনছেন
তাঁর রাজ্যকে কীভাবে সাম্প্রদায়িক বিজেপির হাত থেকে মুক্ত রাখা যায়-সে কথা।

এ ব্যক্তিটি কোনো দেবতা বা ফেরেস্তা নন। তিনি আমাদের প্রতিবেশী ত্রিপুরা রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।-লেখক: ভারতের মার্ক্সবাদী কমিউনিস্ট পার্টির ( সিপিএম) পলিট ব্যুরোর সদস্য।