মার্চেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে : পরিকল্পনা মন্ত্রী

2

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বাংলাদেশ এখন একটি অবস্থানে এসেছে, বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখতে এবং স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে শিখেছে। আমাদের বর্তমান প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রজ্ঞা ও জ্ঞানের কথা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রধান মন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ অত্যন্ত দ্রুত এগিয়ে চলেছে। বাংলাদেশ অত্যন্ত নৈপুন্যতার সাথে সামনে এগিয়ে চলেছে আসছে মার্চেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে। বাংলাদেশের অব্যাগত অগ্রগতি অচিরেই বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিনত করবে। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের বন্ধু প্রতিম দেশ এবং সব সময় বন্ধুর মত সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে এসেছে এবং সামনেও যুক্তরাজ্য সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবেন বলে পরিকল্পনা মন্ত্রী আশা ব্যক্ত করেন।

বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সিস্টেম পর্যবেক্ষণ শীর্ষক আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর অংশ হিসাবে যুক্তরাজ্যের লন্ডন সফররত পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সোমবার সকালে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রী পরিষদ কার্যালয়ের ক্রাউন কমার্শিয়াল সার্ভিসের বৈঠকে অংশগ্রহণ করে এ মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎ কালে তাদের মধ্যে পারস্পারিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সিস্টেম নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতের সময় পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বাংলাদেশের পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সিস্টেমের অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলেন।

পরিকল্পনা মন্ত্রী আরো বলেন, সরকারের বাজেটের একটি বিরাট অংশ ব্যয় হয় ক্রয় কার্যক্রমে। জনগণের করের টাকা ব্যয় করেই সরকারের ক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। জনগণের উন্নয়নের লক্ষ্যে সঠিকভাবে এ অর্থ ব্যবহার করতে হবে। সরকারি ব্যয়ে সর্বোচ্চ দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা থাকতে হবে। সঠিকভাবে সরকারের অর্থ ব্যয় করতে পারলে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বাড়বে। আর সরকারি ব্যয়ে সর্বোচ্চ দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আনতেই আমারা সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজ করেছি যা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের অন্যতম একটি শর্ত।

তিনি আরো বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে মোট দেড় লাখ কোটি ডলার বিনিয়োগ লাগবে, যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।এত বেশি বিনিয়োগে ইলেকট্রনিক প্রকিউরমেন্টের কোনো বিকল্প নেই। সেই সঙ্গে প্রকিউরমেন্ট কার্যক্রমে বেসরকারি খাতকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।ই-জিপি’র ফলে ঘরে বসেই টেন্ডারে অংশগ্রহণকারীরা সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারছেন। দেশ-বিদেশে যা ব্যাপকভাবে প্রশংসা অর্জন করেছে। ই-জিপি সার্কভুক্ত দেশে নেতৃত্ব দিচ্ছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ই-জিপিতে সরকারি ৫৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রায় ৮০ শতাংশ ক্রয় ব্যবস্থা অর্থাৎ কেনাকাটা হচ্ছে ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত। ই-জিপি সিস্টেম পরিচালনার জন্য সিপিটিইউ এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলে স্থাপন করা হয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ডাটা সেন্টার। এটিকে অধিকতর বাস্তবায়নের জন্য বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় সিপিটিইউ ‘বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও সরকারি ক্রয় ডিজিটালাইজেশন- ডাইমেপ’ নামে নতুন একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ৫ বছর মেয়াদি প্রকল্পটি ২০১৭ সালের জুলাই থেকে ২০২২ জুনের মধ্যে বাস্তায়ন করার জন্য সরকার নির্ধারণ করেছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরকারি ক্রয় কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে আরেক এক ধাপ অগ্রগতি সাধিত হবে বলে পরিকল্পনা মন্ত্রী জানান।

পরিকল্পনা মন্ত্রী আরো বলেন, অভিজ্ঞতা অর্জনে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট সিস্টেম পর্যবেক্ষন শীর্ষক আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী থেকে অর্জিত জ্ঞান এবং আজকের এই আলোচনা আমাদেরকে ই-জিপি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আরো বেশী অগ্রসর ও বাস্তব ভিত্তিক হতে সহায়তা করবে। যুক্তরাজ্য একটি অত্যন্ত ঐতিহাসিক এবং সুন্দর দেশ, এ দেশটি ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যা আমাদের অনুপ্রানিত করবে।

ক্রাউন কমার্শিয়াল সার্ভিসের বৈঠকে এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো: তাজুল ইসলাম এমপি ও মো: আব্দুল হাই এমপি; সিপিটিইউ এর মহাপরিচালক মো: ফারক হোসেনসহ ৬ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল।