১০ উইকেটে হারল বাংলাদেশ

5

স্পোর্টস ডেস্ক:লক্ষ্যটা ছিল মাত্র ৮৩। মামুলি এ টার্গেট তাড়া করতে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়ে ১১.৫ ওভারে জয় তুলে নিয়েছে শ্রীলংকা। এ জয়ে রকেট ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে উঠে গেছে দিনেশ চান্দিমালের দল।

জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দারুণ সূচনা করেন লংকান দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান উপুল থারাঙ্গা ও দানুস্কা গুনাথিলাকা। শেষ পর্যন্ত বিজয়ীর বেশে মাঠ ছাড়েন তারা। ৩৩ রানে থারাঙ্গা ও ৩৯ রানে গুনাথিলাকা অপরাজিত থাকেন।

এ নিয়ে ওয়ানডেতে ১২ ম্যাচে ১০ উইকেটে হারের মুখ দেখল বাংলাদেশ।

এর আগে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তবে তার সিদ্ধান্ত যৌক্তিক প্রমাণ করতে ব্যর্থ হন ব্যাটসম্যানরা। লংকান বোলিং বিষে জর্জর হয়ে সাজঘরে ফেরেন একের পর এক ব্যাটসম্যান।

ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের তৃতীয় ওভারে রানের খাতা খোলার আগেই লাকমলের বলে প্লেড অন হয়ে ফেরেন বিজয়। এ নিয়ে টুর্নামেন্টে টানা চার ম্যাচে আস্থার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হলেন এ ওপেনার।

ক্রিজে এসে পর পর দুই বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে প্রাথমিক ধাক্কা সামাল দেয়ার ইঙ্গিত দেন সাকিব। তবে এদিন ব্যর্থ তিনি। অতিরিক্ত চড়া হয়ে খেলতে গিয়ে গুনাথিলাকার অসাধারণ থ্রোতে রানআউটে কাটা পড়েন তিনি।

ভরসা হয়ে ছিলেন তামিম। কিন্তু এ ম্যাচে ইনিংসের ভিত গড়তে ব্যর্থ ড্যাশিং ওপেনারও। এক বল পরই ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে গুনাথিলাকার দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন তিনি। এতে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

দলের বিপদে ত্রাতা হতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ। লাকমলের শর্ট বলে ফাইন লেগে চামিরাকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এর পরই পেরেরার শিকার হয়ে সাব্বির ফিরলে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে টাইগাররা।

এ বিপর্যয়ের মধ্যে পেরেরার শিকার হয়ে ফেরেন দীর্ঘদিন পর দলে ফেরা রাজু। এর পর যাওয়া-আসার মিছিলে যোগ দেন লড়তে থাকা মুশফিক। চামিরার শিকার হয়ে ফেরার আগে তিনি করেন ৫৬ বলে ১ চারে ২৬ রান। এটিই বাংলাদেশের সেরা ইনিংস।

স্কোর বোর্ডে আর ১ রান যোগ হতেই সেই চামিররা শিকার হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন নাসির। এর পর বাংলাদেশের গুটিয়ে যাওয়াটা ছিল সময়ের ব্যাপার। ৮২ রান যেতে সবকটি উইকেট হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। ১১ রানে শেষ ৫ উইকেট হারায় তারা। আর শেষ ৪ উইকেটের পতন হয় মাত্র ৩ রানে।

ওয়ানডেতে শ্রীলংকার বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর। এর আগে ২০০২ সালে কলম্বোতে ৭৬ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল টাইগাররা। সার্বিকভাবে এটি বাংলাদেশের নবম সর্বনিম্ন স্কোর।

বাংলাদেশ ইনিংসে আগুন ঝরিয়েছেন লংকান বোলাররা। প্রত্যেকেই পেয়েছেন উইকেট। ২১ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছেন সুরঙ্গা লাকমল। দুশমন্থচামিরা, থিসারা পেরেরা ও লক্ষণ সান্দাকান নিয়েছেন ২টি করে উইকেট।