সুবলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ছাত্রলীগের গোলাম রাব্বানী ও ডা রেফাতুল্লাহ আইকেয়ার

330

যুগবার্তা প্রতিবেদক: পুরান ঢাকার ফরিদাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় এলাকার বাসিন্দা সুবল চন্দ্র দাসের চোখের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন  ডা রেফাতুল্লাহ আইকেয়ার সেন্টার ও  বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রাব্বানী।

সোমবার সন্ধ্যায় ডা রেফাতুল্লাহ্ আইকেয়ার সেন্টার ও গোলাম রাব্বানী সুবল দাসের চোখের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা কথা যুগবার্তাকে জানান।

ডা. রেফাতুল্লাহ আই কেয়ার সেন্টার সুবল দাসের চোখের ফেকো সার্জারির জন্য প্রয়োজনীয় মেডিকেল সার্ভিস বিনে পয়সায় করে দেবেন। আগামী সপ্তাহের যে কোন দিন সুবল দাসের ফেকো সার্জারির করবে আইকেয়ার সেন্টারটি।

এদিকে সুবল  দাসের  অপারেশন কালীন আনুসাঙ্গিক সকল খরচ বহন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ।

প্রসঙ্গত, সোমবার বিকেলে নতুন ধারার অনলাইন নিউজ পোর্টাল যুগবার্তা ডটকমে  ‘‘সুবলের দৃষ্টি ফিরাতে প্রয়োজন মাত্র ৩০ হাজার টাকা’’ একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হবার পর  ডা রেফাতুল্লাহ্ আইকেয়ার সেন্টারের পক্ষে প্রথমে মো কামরুজ্জামান ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা ও পাঠচক্র বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রাব্বানী যুগবার্তার সাথে যোগাযোগ করেন।

যা ছিল ওই প্রতিবেদনে:  কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন,‘‘ অন্ধজনে দেহ আলো, মৃতজনে প্রাণ।’’ পাহাড়ের বুক বেয়ে নেমে আসা নয়নাভিরাম ঝর্ণাধারা, আকাশে মেঘ-সূর্যের লুকোচুরি খেলা, ঘাসের ডগায় শিশির বিন্দুর ওপর সূর্যের সোনালী কিরণ  দেখে আমরা শিহরিত হই। অনুভব করতে পারি পৃথিবীর অপার সৌন্দর্য। কিন্তু একজন দৃষ্টিহীনের কাছে পৃথিবীর অপার সৌন্দর্যের কথা আরব্য রজনীর গল্পের মত মনে হয়। অন্ধকারই তার কাছে ¯্রষ্টার সৌন্দর্যের চূড়ান্ত প্রকাশ। চোখে যদি আলো না থাকে তবে দেহের আলোও অন্ধকার পর্দায় ঢাকা পড়ে যায়।  তবে যে মানব সন্তান ক্ষণকাল আলো দেখতে পেয়ে যদি আর দেখতে না পায় তার মত অভাগা পৃথিবীতে আর নেই। তাই অন্ধজনে দেহ আলোর নয় বরং অন্ধজনে দাও হে আলো মুমূর্ষু জনে দাও প্রাণ এটাই  আমাদের প্রার্থনা। মাত্র ত্রিশ হাজার টাকার জন্য  এই পরম আরাধ্য চোখের আলো হারাতে বসেছে পুরান ঢাকার সুবল দাস  যার দু চোখের  আলোর উপর নির্ভর করছে তার পরিবারের  আরো চারটি প্রাণ।

জানা যায়, পুরান ঢাকার ফরিদাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় এলাকার সুবল চন্দ্র দাস দারিদ্রের কষাঘাতে চোখে ছানি পড়ে দৃষ্টিশক্তি পুরোপুরি হারাতে বসা যুবক। ফরিদাবাদ লেনে স্ত্রী সন্তান ও বোনদের নিয়ে কোনমতে টিকে আছে। চার বোনের মধ্যে দুজনের বিয়ে দিতে পারলেও  দারিদ্রের কারণে দুই বোন অনেক আগে বিবাহ যোগ্য হলেও  বিয়ে দিতে পারে নি।

সুবল দাশের সাথে কথা বলে জানা যায়, চোখে ছানি পড়ার আগে  আদর্শ ইলেক্ট্রিক ওয়ার্কশপে টেকনিশিয়ানের কাজ করতেন। ছানি পড়ে বা চোখের আলো কমে যাওয়ার কারণে দু বছর আগে ওই ওয়ার্কশপ থেকে চাকরী চলে যায়। চোখের সমস্যার কারণে শরীরে শক্তি থাকার পরও অন্য কোন অধিক আয়ের কাজ করতে পারেন না।ফলে বাধ্য হয়ে বর্তমানে পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকায় প্রতিদিন ২৫০ টাকায় ইসলামিয়া সুইটস নামক এক মিষ্টির দোকানে থালা বাসন ধোয়ার কাজ করেন। থালা বাসন পরিষ্কার করে যা রোজগার তা দিয়ে একজন মানুষের চলাই দায়। নাগরিক জীবনে পরিবার নিয়ে তার জীবন যাপন দিন দিন অসম্ভব হয়ে পড়ছে। তার এক মাত্র সন্তান শয়ন দাস ফরিদাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে। সুবল দাস ও তার স্ত্রী শিখা দাস দুজনে অশিক্ষিত হলেও তারা চান ছেলে লেখা পড়া করে মানবিক মানুষ হোক। এই দম্পতিদের অক্ষরজ্ঞান না থাকায় বাসায় একজন শিক্ষক দিয়ে যে নিজের ছেলেকে পড়াবে তাও পারছে না।

সুবলের এলাকাবাসীরা জানান, সুবল চোখের দৃষ্টি শক্তি হারালেও তার ছেলেকে মানুষ করতে চান। দিন যত যাচ্ছে  চোখের অবস্থা ততই খারাপ হচ্ছে। বর্তমানে বাম চোখে দেখতে পান না বলে চলে। বা চোখের প্রভাব ডান চোখেও পড়ছে। ফলে সে চোখ দিয়েও ঠিক মত দেখতে পান না।

 সুবলের স্ত্রী শিখা দাস জানায়, তার স্বামী চোখের দৃষ্টি সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেললেও রাস্তায় ভিক্ষা করতে নারাজ। তিনি চান সৎভাবে কায়িকশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করতে। সৎ উপার্জনের অর্থে ছেলের লেখা পড়ার খরচ বহন করতে। প্রয়োজনে রিক্সাচালিয়ে, ঈট ভেঙ্গে সম্মানের সহিত ছেলেকে মানুষ করা। কিন্ত তাদের স্বপ্ন পূরণের পথে সুবলের চোখের দৃষ্টি শক্তি বাধা হয়ে পড়েছে।

রবিবার বিকালে সুবল দাস বলেন,  দুবছর আগে আমার চোখের সমস্যা দেখা দেয়। প্রথমে ভেবেছিলাম এমনি ভাল হয়ে যাবে। স্থানীয় ফার্মাসী থেকে চোখের ড্রপ দিতে থাকি। কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায়, আমি মাওলাবক্স চক্ষু হাসাপাতালে চিকিৎসক দেখাই। সেখানকার চিকিৎসকরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বাম চোখে ছানি পড়েছে বলে জানান। তারা অপারেশন করার জন্য অন্য হাসপাতালে রেফার করেন। তবে ছানি অপারেশন করে লেন্স লাগালে চোখ ভাল হবে বলে তাকে জানানো হয়।

তিনি বলেন, ন্যাশনাল মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য গেলে চোখের পরীক্ষা নীরিক্ষার পাশাপাশি রক্ত, বুক ও মলের পরীক্ষা করাতেই আমার জমানো টাকা শেষ হয়ে গেছে। ন্যাশনাল হাসপাতালের কাউন্ডটার থেকে জানানো আমার চোখের অপারেশন করতে আরো ত্রিশ হাজার লাগবে। এত টাকা আমার কাছে নেই।

তিনি বলেন ,  আমি অনেক চেষ্টা করেছি টাকা ধার করে চিকিৎসা করাতে । কিন্তু কেউ ধার দেয় নি। কোন উপায় না দেখে, অনেকের কাছে গিয়েছি আমার চোখের চিকিৎসার জন্য সাহায্যে পাবার আশায়। কিন্তু আমাকে কেউ সাহায্য করে নি। আমি এও বলেছি, আমার চোখের চিকিৎসার জন্য যে টাকা খরচ হবে; আমাকে যে  টাকা দেবে তার বাড়িতে কাজ করে তা পরিশোধ করে দেব। কিন্তু কেউ সাহায্য করে নি।

 তবে সুবলকে স্থানীয় সনাতন ধর্মালম্বী প্রতিষ্ঠানগুলোতে অস্পষ্ট দৃষ্টি শক্তি নিয়ে উৎসবের সময় শারিরীক শ্রমের মাধ্যমে পূর্ণার্থীদের সেবা শুশ্রূষা করতে প্রায় দেখা যায়। এসব প্রতিষ্ঠানে উৎসবরে দিনগুলোতে মন্দির প্রাঙ্গণ ও প্রসাদ বিরতণ শেষে থালা বাসান ধুয়ে মুছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে থাকেন। কখনো অনুষ্ঠান আয়োজকরা সুবলকে কিছু টাকা দেন। আবার কখনো সুবল পরকালের আশায় টাকা নিতে চান না।

সুবল দাসের পক্ষে এই ত্রিশ হাজার টাকা তার অনেক বোঝা হলেও আমাদের সমাজের অনেক বিবেকবান বিত্তশালীর কাছে সামান্য। হৃদয়বান কোন ব্যক্তি সুবল দাসের চিকিৎসার ব্যয়ভার নিলে তার স্ত্রী সন্তান বোনসহ পাঁচজন মানুষ বেঁচে যাবে।  দুজন কন্যার পাত্রস্থ করা হবে। আসুন আমরা সুবল দাসের পাশে দাড়াই।