সমাজকল্যাণমন্ত্রী হিসেবে জননেতা রাশেদ খান মেননের দশ করণীয়

150

সঞ্জীব রায়ঃ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী হিসেবে কার্যত মাত্র এক বছর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই মন্ত্রণালয় যে বাজেট নিয়ে চলছে তার মূল কৌশল হলো আর্থ-সামাজিক অবস্থান উন্নয়নের লক্ষ্যে সাম্যতার বিধান। সামাজিক সুরক্ষা, পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের মধ্য দিয়ে দারিদ্র বিমোচন করার মহাপরিকল্পনা রয়েছে এই মন্ত্রণালয়ের। চলতি অর্থবছরে এই মন্ত্রণালয় বরাদ্দ পেয়েছে ৪৮৩২ কোটি টাকা যার মধ্যে দারিদ্র নিরসনে ১৩৮১ কোটি এবং নারী উন্নয়নে ২০৪০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই অর্থের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকৃতঅর্থে পিছিয়ে পড়া, দুস্থ, দরিদ্র মানুষের সাথে যুক্ত হওয়া সম্ভব। এই অল্প সময়ে বড় মাপের কর্মপরিকল্পনা করা একদমই অসম্ভব। তবে, সার্বিক বিবেচনায় কিছু উদ্যোগ নেয়া জরুরি। প্রাথমিকভাবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিম্নোক্ত দশটি করণীয় নিয়ে ভাবা যেতে পারে:

মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের অবসর ও পারিবারিক ভাতা পেতে দীর্ঘ ভোগান্তি ও জটিলতা দূরীকরণে তাৎক্ষনিক পদক্ষেপ।

মহাজোট সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের ƒপ্রকল্পকে সামনে রেখে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে দারিদ্র দূরীকরণ, সামাজিক সুরক্ষা ও উন্নশনের যে বিবৃতি কর্মকান্ড সম্পাদন করা হয়েছে তার তথ্য-উপাত্ত ডিজিটাল আর্কাইভের মাধ্যমে জনগণের সামনে উপস্থাপন।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকান্ডে শুদ্ধাচার আনয়ন এবং গণমাধ্যমে উপস্থাপন। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনিষ্পন্ন অডিট সংখ্যা ৯৪৬ যার টাকার পরিমান ৩৮ কোটি, জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের ২১ টি টাকার পরিমান ৩০ কোটি এবং জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ণ ফাউন্ডেশনের ৩৯ টি যার অর্থমূল্যও ৩০ কোটি। সব মিলিয়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকার অনিষ্পন্ন অডিট নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া।
প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক, বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের বিকাশ ও সহায়তায় উল্লেখ্য মন্ত্রণালয়ের যুগপযোগী কর্মসূচিগুলো সম্পর্কে আন্তর্জাতিক প্রচারণা চালাতে প্রথমত দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক পর্যায়ে নেতৃত্ব গ্রহণ করা।

অটিজম, প্রতিবন্ধীতা ও শিশুর বিকাশে মন্ত্রণালয়ের গৃহিত কর্মসূচি এবং বাংলাদেশের অগ্রগতির রিপোর্ট আন্তর্জাতিক উন্নয়ণ সংস্থাগুলোতে (ইউএনডিপি/ইউনিসেপ) পেশের মধ্য দিয়ে বিশেষ সম্মাননা অর্জনের উদ্যোগ গ্রহণ।

সাজাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী খাতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৮৮.৪৯ লাখ মানুষের জন্য ৩০৬৪০.৪৮ কোটি টাকা মন্ত্রণালয়ের কাছে রয়েছে। এই অর্থ যথাযথ বন্টনসহ ভাতা ও অনুদান প্রদানে স্বচ্ছতা এনে নজির সৃষ্টি করা সম্ভব।

সামাজিক সুরক্ষার বিবিধ তহবিলে বরাদ্দ ১১০০.৬১ কোটি টাকা যথোপযুক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য সময়পযোগী এবং সাড়া জাগানো পদক্ষেপ গ্রহণ।

পথশিশু ও ভিক্ষুকমুক্ত ঢাকা শহর তথা বাংলাদেশ গড়তে মহাজোট সরকারের দৃঢ় প্রত্যয়কে সামনে রেখে এ বিষয়ে একটি বিশেষ ”ভিজিল্যান্স অ্যান্ড র‌্যাপিড অ্যাকশন টিম” মাঠে নামানো। এ খাতে ইতোমধ্যেই বরাদ্দ রয়েছে।

সামাজিক ক্ষমতায়ন (উন্নয়ন খাত) বাবদ বরাদ্দ ৯৮১২.৯৫ কোটি টাকায় গৃহিত যে পদক্ষেপগুলো সেগুলোকে পর্যবেক্ষণ এবং পর্যালোচনার মাধ্যমে ইমপ্লিমেন্টেশন রিপোর্ট গণমাধ্যমে প্রকাশ করা। এই খাতের আওতাধীন রয়েছে ভূমিহীন, পশ্চাৎপদ জনমানুষের উনśয়নে বিভিনś প্রকল্প এবং দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি।

২০১৬-১৭ অর্থবছরের সমাজকল্যাণ মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রীর পার্বত্য অঞ্চলে সফর সংখ্যা শুন্য। পার্বত্য চট্টগ্রামের পিছিয়ে পড়া এথনিক গ্রুপগুলোকে সামাজিক সুরক্ষা দিতে বরাদ্দ অর্থ ও সহায়তা পৌছে দিতে দায়িত্ব গ্রহণের অব্যবহিত পরে পাহাড়ে সফরের কর্মসূচি নেয়া যেতে পারে।-লেখক: গবেষক ও গণমাধ্যমকর্মী।