রাত ৮টার মধ্যে বিসর্জন, বসানো যাবে না মেলা

18

যুগবার্তা ডেস্কঃ দুর্গাপূজায় নিরাপত্তার জন্য এক লাখ ৬৮ হাজার আনসার দায়িত্ব পালন করবে। ইভ টিজিং রোধে প্রতিটি পূজামণ্ডপে নারী পুলিশের পাশাপাশি নারী স্বেচ্ছাসেবকও দায়িত্ব পালন করবে। বিসর্জনের নির্ধারিত সময় মানার আহ্বান জানিয়ে রাত ৮টার মধ্যে বিসর্জন শেষ করতে বলা হয়েছে। বিকেল ৩টা থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে বিসর্জনের শুরু হবে। দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপির তত্ত্বাবধানে দুটি কন্ট্রোল রুম করা হবে। প্রত্যেক মন্দিরে সিসি ক্যামেরা, আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পূজা চলার সময় রাস্তায় কোনো ধরনের মেলা বসানো যাবে না।

গতকাল রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তাবিষয়ক বৈঠক শেষে এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি জানান, গত বছর সারা দেশে ২৯ হাজার ৩০০ মণ্ডপে পূজা হয়েছিল। এবার তা বেড়ে ৩০ হাজার ৭৭ মন্দিরে পূজামণ্ডপ হবে। এর মধ্যে ঢাকায় হবে ২৩১টি পূজামণ্ডপ।

ঢাকার ঢাকেশ্বরী, রমনা, বনানী, কলাবাগানসহ বড় বড় পূজামণ্ডপে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। বিসর্জনের নির্ধারিত সময় মানার আহ্বান জানিয়ে রাত ৮টার মধ্যে বিসর্জন শেষ করতে বলা হয়েছে। বিকেল ৩টা থেকে ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে বিসর্জনের শুরু হবে। পূজার শুরু থেকে বিসর্জন পর্যন্ত কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। কোনো নাশকতাকারী উৎসবে যেন বাধা সৃষ্টি না করতে পারে সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক থাকবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ডিএমপির জন্য ঢাকেশ্বরী মন্দিরে এবং সারা দেশের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করা হবে। নারীরা যাতে ইভ টিজিং বা হেনস্তার শিকার না হন সে জন্য নারী পুলিশের পাশাপাশি

পূজা কমিটির স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যেও নারীদের রাখা হবে। পূজা চলার সময় রাস্তায় কোনো ধরনের মেলা না বসানোর অনুরোধও জানাচ্ছি আমরা। ’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এবার বিসর্জনের দিন আশুরা হওয়ায় শিয়া সম্প্রদায়ের নেতা ও পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতাদের নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে বৈঠক করা হবে। ’

গতকালের বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব মোস্তাফা কামাল উদ্দীন, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন, ডিএমপি কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের নেতারাও বৈঠকে অংশ নেন।-কালেরকন্ঠ