20

যুগবার্তা ডেস্কঃ ঐক্যন্যাপ কেন্দ্রিয় কার্যালয়ে এক বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয় শুক্রবার। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, দলের নিবন্ধন ও দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে দলের করণীয় সম্পর্কে আলোচনার জন্য সারাদেশ থেকে মহানগর, জেলা ও উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ সম্মেলনে উপস্থিত হন।
সংগঠনের সভাপতি বর্ষীয়ান জননেতা পঙ্কজ ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ তারেক। সভার শুরুতে সাম্প্রতিক সময়ে পরলোকগত নেতৃবৃন্দের স্মরণে শোক প্রস্তাবপাঠ পূর্বক এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সম্পাদকীয় প্রতিবেদন তুলে ধরেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ তারেক। সংগঠনের নেতৃবৃন্দের জ্ঞাতার্থে রাজনৈতিক প্রস্তাবনা তুলে ধরেন ঐক্যন্যাপ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল মুনায়েম নেহেরু।

সভায় পঙ্কজ ভট্টাচার্য এই সম্মেলন আহ্বানের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে গিয়ে উল্লেখ করেন যে শুধু আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নয় দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, রাজনৈতিক দলের মধ্যে অসহিষ্ণু মনোভাব, হিংসা, হানাহানি প্রভৃতির কারণে দেশ আজ চরম সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। আইসিটি আইনে বিতর্কিত ধারা সংযোজন করে মানুষের মানুষের বাক স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। গুম, খুন, নারী ও শিশু নির্যাতন, মাদক ব্যবসা, বেপরোয়া সিন্ডিকেটের হাতে বাজার ব্যবস্থা জিম্মি, সাম্প্রদায়িক হামলার শিকার ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ অধিকার বঞ্চিত, তারা বসতভিটা, জমি হারিয়ে নিঃস্ব, রিক্ত হয়ে দেশান্তর হচ্ছে। সরকারি দল ও প্রধান বিরোধী দলের মধ্যে নিত্যদিনের বাহাস পরষ্পরের মধ্যে দূরত্ব, অবিশ্বাস ও শত্রুতা প্রকট হয়ে উঠছে যা সুষ্ঠু নির্বাচন তথা গণতন্ত্রের জন্য বাধা হয়ে উঠতে পারে। সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে প্রধান উদ্যোগী হয়ে সকলের অংশগ্রহণে উপযোগী পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক পরিসর সৃষ্টির কর্তব্যটি যথাগুরুত্বের সাথে পালন করার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। প্রধান বিরোধীদলসহ সকল দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথে আইন শৃংখলা বাহিনীর ও সরকারের কোনরুপ বৈষম্যমুলক ও কর্তৃত্ববাদী আচরণ কাম্য হতে পারে না। নির্বাচন কমিশন নিজেকে অংশগ্রহণমুলক নির্বাচনের নিয়ন্ত্রক ও নিরপেক্ষ রেফারীর ভূমিকা পালনে সমর্থ হতে হবে। ‘ক্ষমতার মালিক জনগণ’-কে নির্বাচন তথা গণতন্ত্রের মূখ্য কুশিলবে পরিণত ও ক্ষমতাবান করতে অবিচল থাকতে হবে নির্বাচন কমিশন, সরকার ও প্রশাসনকে। অন্যথায় জাতি নিক্ষিপ্ত হবে ‘গণহীণ গণতন্ত্রে’ তথা ‘দলতন্ত্রের’ নিগড়ে যা নির্বাচনকে অর্থহীন করে তুলবে।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহ-সভাপতি ও কৃষক সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এসএমএ সবুর, সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ সুকুমার দেব রায়, শিক্ষক নেতা ও সিনেট সদস্য রঞ্জিত কুমার সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক অলিজা হাসান, নারী নেত্রী লাইলা খালেদা প্রমুখ। এছাড়াও সারাদেশ থেকে আগত নেতৃবৃন্দরা বক্তব্য দেন। সভাশেষে সাধারণ সম্পাদক সবাইকে দলীয় নীতি ও শৃংখলা মেনে কর্মকা- পরিচালনায় তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে সভা সমাপ্ত ঘোষণা করেন।