৭ দিনের মধ্যে আফসানা হত্যায় অভিযুক্ত রবিনকে গ্রেফতার না করালে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও

যুগবার্তা ডেস্কঃ আফসানা হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত রবিনকে গ্রেফতার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আজ বুধবার বিকালে সংহতি সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন।
লাকী আক্তারের সভাপতিত্বে সঞ্চালনা করেন সহ-সাধারণ সম্পাদক সিয়াম সারোয়ার জামিল। বক্তব্য রাখেন ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জি.এম. জিলানী শুভ, ঢাকা মহানগর সংসদের সভাপতি অনিক রায়, জা. বি. সংসদের সভাপতি দীপাঞ্জন সিদ্ধান্ত কাজল, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সহ-সভাপতি শাহাদাত হোসেন কিরণ, ঢা.বি. সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক অস্মিতা ফরিদ, ঢাকা জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক কাজী রিতা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন সেনগুপ্ত।
সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন আফসানা ফেরদৌসের দুই মামা তৌফিক এলাহী, হাসানুজ্জামান মিন্টু, নটরডেম কলেজের সাবেক অধ্যাপক এবং শিক্ষা বার্তার সম্পাদক এএন রাশেদা, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি লুনা নূর, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অভিনু কিবরিয়া ইসলাম, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ আদনান রিয়াদ, উদীচী সহ-সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার তপন, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক আকরামুল হক, ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক নাসিরউদ্দীন প্রিন্স।
লুনা নূর বলেন, প্রতিটি ধর্ষণের ঘটনার যখন বিচার হয় না তখন বুঝতে হয় এর সাথে রাষ্ট্র ক্ষমতার যোগসাজেশ রয়েছে। রাষ্ট্রক্ষমতা স্বৈরাচারী হলে নিজেদের ক্ষমতার প্রচারের জন্যই তারা ধর্ষকদের এবং খুনীদের বিচার করে না।
অভিনু কিবরিয়া ইসলাম বলেন, তনু হত্যার বিচারকে নানান ঘুরো পথে টালবাহানা করা হচ্ছে কারণ এর সাথে সেনাবাহিনীর যোগসাজেশ থাকতে পারে। আবার আমরা দেখতি পাচ্ছি আফসানা হত্যার বিচারকেও ভুল পথে পরিচালিত করা হচ্ছে কারণ হত্যার সাথে জড়িত সন্দেহভাজন রবিন এবং তার বাবা ক্ষমতা কাঠামোর সাথে যুক্ত। যদি সরকার মনে করে থাকে যে, যারা রাষ্ট্র ক্ষমতার সাথে যুক্ত তাদের কোনো বিচার হবে না। তাদের জন্য অদৃশ্য ইনডেমনিটি রয়েছে তাহলে তারা তা সংসদেই পাশ করিয়ে নিতে পারেন। কারণ তারা সংসদে একচ্ছত্রভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ।
জিলানী শুভ বলেন, অনতি বিলম্বে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেশ করতে হবে এবং রবিনকে গ্রেফতার করতে হবে। নয়তো ছাত্র ইউনিয়ন জানে কিভাবে মৃত্যুকে মহিমান্বিত করে। রাজপথে রক্ত দিয়ে অধিকার ছিনিয়ে আনতে হয়।
বক্তারা আরো বলেন, রিশার হত্যাকারীদেরও পুলিশ ধরতে পারেনি। জনগণই খুনীকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। যেহেতু সে সাধারণ দর্জি সরকারী ক্ষমতা কাঠামোর সাথে যুক্ত নয়। তাই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিন ছাত্রলীগ করতো এবং তার বাবা আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ার কারণেই তাকে গ্রেফতার করার পরেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ রবিনের তিন বন্ধুকে গ্রেফতার রাখা হয়েছে। রবিন যে তেজগাঁও কলেজে পড়ত এবং ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল সেই নির্বাচনী এলাকার এমপি হচ্ছেন বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অতএব তাকে জিজ্ঞাসা করলেই জানা যাবে ব্যাপক গণ জাগরণের মধ্যে রাজপথের আন্দোলন এবং সংবাদ মাধ্যম সোচ্চার থাকার পরেও কিভাবে রবিন ভারতে পালিয়ে গেল।
সমাপনী বক্তব্যে লাকী আক্তার বলেন, ৭ দিনের মধ্যে আফসানা হত্যায় অভিযুক্ত রবিন গ্রেফতার ও ময়নাতদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ না করা হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করা হবে।