৬ জুলাই জাতীয় কনভেনশন করবে জাতীয় কমিটি

যুগবার্তা ডেস্কঃ তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি বলেছেন, দেশে উন্নয়নের সকল পর্যায়ে বিচার বিবেচনাহীন অদূরদর্শী লোভী দায়-দায়িত্বহীন প্রকল্প অনুমোদন করা হচ্ছে, নির্মাণ ও ক্রয় চলছে। জনগণের ওপর নজরদারি বাড়ানোর জন্য শত হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও কারখানা, ভবন, সড়কসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বিধানের কোনো নজরদারি ব্যবস্থা নেই, তদারকি নেই, জবাবদিহি নেই।

আজ এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন জাতীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ। সকাল সাড়ে ১১টায় রাজধানীর কমরেড মণি সিংহ রোডস্থ মুক্তিভবনের ˆমৈত্রী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য রাখেন জাতীয় কমিটির আহবায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

এ সময় আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্ষম ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেই। আর বিপদ, অনিয়ম, দুর্নীতিসহ সকল কিছুকে অস্বীকার করা সরকারের একটা রোগে পরিণত হয়েছে। অনিয়ম, দুর্নীতি আর মিথ্যাচারে সবচাইতে এগিয়ে আছে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত। এই খাতে ‘ব্যাপক উন্নয়নের’ নামে, জনমত, বিশেষজ্ঞমত ও দেশের স্বার্থ উড়িয়ে দিয়ে সরকার যেসব প্রকল্প গ্রহণ করছে তা দেশকে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তাহীনতা, ঋণগ্রস্থসহ মহাবিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে যাতে কথা তুলে প্রতিকার পাওয়া না যায় তার জন্য ২০১০ সালে দায়মুক্তি আইন করা হয়েছিল। ২০১৮ সালের ১১ অক্টোবর এই বিশেষ দায়মুক্তি আইনের মেয়াদ শেষ হবার কথা থাকলেও এর মেয়াদ আবারও বাড়ানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনে যথাযথ ব্যবস্থা না নিয়ে সংকট সমাধানের নামে এলএনজি আমদানি শুরু হয়েছে। আর এর সূত্র ধরেই বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্প কারখানা, ক্যাপটিভ পাওয়ারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরবরাহকৃত গ্যাসের দাম দ্বিগুণ বৃদ্ধির আয়োজন করা হয়েছে। এতে করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, যাতায়াত, বিদ্যুৎসহ ˆদৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ আরেক দফা বাড়বে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রুহিন হোসেন প্রিন্স, সাইফুল হক, অধ্যাপক তানজিম উদ্দিন খান, নজরুল ইসলাম, জুলফিকার আলী, ফখরুদ্দিন কবীর আতিক, নাসিরউদ্দিন নসু, মাহিনউদ্দিন চৌধুরী, আমিরুন নুজহাত মনীষা প্রমুখ।

এসব দাবিতে আগামী ৫ এপ্রিল ফুলবাড়ীতে উত্তরাঞ্চলীয় এবং ২৭ এপ্রিল খুলনায় দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রতিনিধি সভা এবং মে ও জুন মাসে দেশব্যাপী সভা সমাবেশ এবং ৬ জুলাই জাতীয় কনভেনশনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।