৩১ আগষ্ট সারাদেশে এরশাদের জন্য দোয়া মাহফিল

4

মাহাবুবুর রহমানঃ জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের চেহলাম আগামী ৩১ আগষ্ট সারাদেশে অনুষ্ঠিত হবে। ২৩ আগষ্ট প্রয়াত এরশাদের চল্লিশ দিন পূর্ণ হলেও সেদিন হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয়ান উৎসব জন্মাষ্টমী হওয়ায় ৩১ আগষ্ট দোয়া মাহফিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া সভায় বেশ কয়েকজন প্রেসিডিয়াম সদস্য পার্টির গঠনতন্ত্র মোতাবেক পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকে বিরোধীদলের নেতা হওয়ার প্রস্তাব দেন। সভায় এরশাদের চেহলাম পালনের জন্য পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এমপিদের এক লক্ষ টাকা করে পার্টির ফান্ডে জমা দেয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়।

শনিবার জাপার বনানী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠক বেলা ১১টায় শুরু হয়ে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত চলে। সভায় সভাপতিত্ব করেন পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। সভায় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাসহ ৩৫জন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এমপি উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, সভায় মূল আলোচনা হয়েছে এরশাদের চল্লিশা পালন ও বিরোধীদলের নেতা নির্বাচন প্রসঙ্গে। এরশাদের শুণ্য আসন রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

সুত্র জানায়, সভায় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সাহিদুর রহমান টেপা বলেন, এরশাদের চেহলাম কেন্দ্রীয়ভাবে রংপুরে করা উচিত। যেহেতু তাকে সেখানে সমাহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, পার্টির গঠনতন্ত্র মোতাবেক পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরকেই বিরোধীদলের নেতা বানানো প্রয়োজন।

পার্টির অপর প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, পার্টির সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পার্টির গঠনতন্ত্র বিধান মোতাবেক পার্টির চেয়ারম্যান যেকোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে চেয়ারম্যান চাইলে বিরোধীদলের নেতা হতে পারেন।

প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, জিএম কাদেরকে বিরোধীদলের বানানো উচিত। কারণ, তার সাথে পার্টির তৃণমূলের সম্পর্ক রয়েছে। আর পার্টির চেয়ারম্যান বিরোধীদলের নেতা হবেন এটাই স্বাভাবিক।

প্রেসিডিয়াম সদস্য এটিইউ তাজ রহমান বলেন, পার্টির গঠনতন্ত্র মোতাবেক দল পরিচালনা করতে হবে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সর্বসম্মতিক্রমে বিরোধীদলের নেতা নির্বাচন করতে হবে।

জাপার আরেক প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী মামুনুর রশিদ বলেন, পার্টির গতিধারা অব্যাহত রাখতে জিএম কাদেরকে সংসদের বিরোধীদলের নেতা বানানো দরকার। উনি এ দায়িত্ব গ্রহণ করুক এটা নেতাকর্মী ও দেশবাসীর প্রত্যাশা।

সভা সুত্র থেকে জানা যায়, পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের তার বক্তব্যে বলেন, জাতীয় পার্টি ঐক্যবদ্ধ আছে। জনগণের কল্যানে যে ধরণের কর্মসূচি নেয়া দরকার তা ইতিমধ্যে করা হচ্ছে। বন্যা মোকাবেলা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চামড়া ইস্যুতে আমরা রাজপথে সরব ছিলাম। আগামী ৩১ আগষ্ট সারাদেশে একযোগে এরশাদের জন্য দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, বিরোধীদলের নেতা কে হবেন সে বিষয়ে সবার সাথে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্তু নেয়া হবে। যাতে করে পার্টিতে কোনো বিবেদ সৃষ্টি না হয়। রংপুরের উপনির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উপ নির্বাচনে রংপুরের স্থানীয় নেতাদের কাছ থেকে প্রার্থী হিসেবে চারজনের নাম চাওয়া হবে। সেটার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, গঠনতন্ত্র মোতাবেক পার্টির চেয়ারম্যানকে সুপ্রীম পাওয়ার দেয়া আছে। আমাদের দলের মাঝে কোনো বিরোধ নেই। সবার সাথে আলাপ-আলোচনা করে বিরোধীদলের নেতা ও রংপুর-৩ আসনে মনোনয়ন দেয়া হবে।