২০ দল ছাড়ার ঘোষণা পার্থর

বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোট ছাড়ার ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি- বিজেপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। সোমবার রাতে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে বেশি প্রাধান্য ও শপথকে অনৈতিক দাবি করে জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন অন্যতম শরিক এ দলটি।

জানতে চাইলে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, আমরা জোট থেকে বেরিয়ে এসেছি। নতুন কোনো জোটে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই। আমরা স্বতন্ত্র হিসেবে এখন দল গোছানোর কাছ শুরু করব।

দলটির মহাসচিব আবদুল মতিন সাউদ বলেন, ২০ দলীয় জোটের শরিক হলেও বিভিন্ন সিদ্ধান্তে বিএনপি আমাদের পাশ কাটিয়ে গিয়েছে। জোটের চেয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দিকেই তারা বেশি মনোযোগী। বিএনপি সংসদে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। অথচ তারা সংসদে গেল। কিন্তু এ বিষয়ে ২০ দলীয় জোটের সঙ্গে কোনো আলোচনাও হয়নি। অথচ আমরা জোটবদ্ধভাবে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। এসব অবহেলার কারণে জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি- বিজেপি ১৯৯৯ সাল থেকে চারদলীয় জোটে এবং পরবর্তীতে ২০ দলীয় জোটে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হওয়ার পর ২০ দলীয় জোটের কর্মকাণ্ড ক্রমশই স্থবির হয়ে পড়ে। বিরোধীদলীয় রাজনীতি অতিমাত্রায় ঐক্যফ্রন্টমুখী হওয়ায় ২০১৮ সালে ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে এবং পরে সরকারের সঙ্গে সংলাপসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ২০ দলীয় জোটের বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো দলের সম্পৃক্ততা ছিল না। কেবলমাত্র সংহতি এবং সহমত পোষণের নিমিত্তে ২০ দলীয় জোটের সভা হতো।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৩০ ডিসেম্বরের প্রহসন ও ভোট ডাকাতির নির্বাচন হওয়ার পর জোটের সবার সম্মতিক্রমে তা প্রত্যাখ্যান করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে প্রথমে এক্যফ্রন্টের দুইজন এবং বিএনপির চারজন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ায় দেশবাসীর মতো বিজেপিও হতবাক। শপথ নেয়ার এই সিদ্ধান্তে বিএনপি ছাড়া ২০ দলের অন্য কোনো দলের সম্পৃক্ততা নেই। বিজেপি মনে করে এই শপথের মাধ্যমে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট ৩০ ডিসেম্বরের প্রহসনের নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে। জোটের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে বিজেপি ২০ দলীয় জোটের সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বেরিয়ে আসছে।

বিজেপির প্রতিষ্ঠাতা নাজিউর রহমান মঞ্জু ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে চারদলীয় জোটের শরিক হিসেবে বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হন। তার মৃত্যুর পর ২০০৪ সালে দলের দায়িত্ব নেন তার ছেলে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। বিএনপির শরিক হিসেবে পথচলা অব্যাহত রেখে ২০০৮ সালের নির্বাচনে ভোলা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসনে জোটের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হন।-যুগান্তর