১০ টাকার কেজি চালে অনিয়মঃওয়ার্কার্স পার্টির মানববন্ধনে পুলিশের বাধা

রাজশাহী অফিসঃ অতিদরিদ্রদের জন্য সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরের চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে মানববন্ধনের আয়োজন করেছিল স্থানীয় ওয়ার্কার্স পার্টির নেতৃবৃন্দ। কিন্তু এতে বাধা দিয়েছে পুলিশ।

শনিবার বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরের শহীদ মিনারে ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে মানববন্ধনের প্রস্তুতি নিলে গোদাগাড়ী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুল করিমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে বাধা দেয়। এ সময় কথা কাটাকাটি শুরু হলে পার্টির নেতাকর্মীকে ধাক্কাধাক্কিও করেন এসআই করিম।

এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ নেওয়াজ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এ সময় ওয়ার্কার্স পার্টির নেতাকর্মীরা ১০ টাকার চালের অনিয়ম ঠেকাতে তার কাছে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি দেন।

এ সময় জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল, সদস্য বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়, উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, জেলা যুবমৈত্রীর সহ সভাপতি কামরুল হাসান সুমন, উপজেলা যুবমৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন নয়ন, যুবমৈত্রী নেতা কবির, মামুন প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। স্মারকলিপিতে তারা দুর্নীতিগ্রস্থ চাল ডিলারদের ডিলারশীপ বাতিলসহ তাদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন।

জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল অভিযোগ করেন, গোদাগাড়ীতে ১০ টাকার চাল বিতরণে চরম অনিয়ম হচ্ছে। ওজনে কম দেয়া হচ্ছে হতদরিদ্রদের। কোথাও কোথাও টাকা নেয়া হচ্ছে বেশি। আবার কোথাও দুইবার স্বাক্ষর নিয়ে চাল দেয়া হয়েছে একবার। চালের কার্ড বিতরণেও স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে।

এসবের প্রতিবাদে তারা শনিবার উপজেলা সদরে মানববন্ধন করতেন। এরপর তারা গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি স্মারকলিপি দিতেন। এ জন্য তারা উপজেলা পরিষদ চত্বরে জড়ো হচ্ছিলেন। এ সময় পুলিশ গিয়ে তাদের মানববন্ধন করতে যেতে বাধা দেয়। এক পর্যায়ে তাদের ধাক্কাধাক্কি করে পুলিশ। ফলে মানববন্ধন না করেই শুধু স্মারকলিপি দিতে হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিপজুর আলম মুন্সি। তিনি দাবি করেন, মানববন্ধন করতে বাধা দেয়া হয়নি। বরং তিনি নিজে গিয়ে সুষ্ঠুভাবে স্মারকলিপি দিতে সহযোগিতা করেছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ নেওয়াজ বলেন, স্মারকলিপিতে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, তিনি সেগুলো খতিয়ে দেখবেন।