হেনোলাক্সের মালিক সস্ত্রীক গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট: বহুল আলোচিত জাতীয় প্রেসক্লাব চত্বরে নিজের গায়ে আগুন দিয়ে গাজী আনিস নামক ব্যক্তির নির্মম মৃত্যুর ঘটনায় হেনোলাক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল আমিন ও পরিচালক ফাতেমা আমিনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর তাদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৩। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করার কথা জানিয়েছে র‌্যাব।

হেনোলাক্স গ্রুপ ছাড়াও গ্রেপ্তার নুরুল আমিন আমিন ম্যানুফাকচারিং কোম্পানি এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। আর তার স্ত্রী ফাতেমা আমিন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক।

গাজী আনিসকে আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে মঙ্গলবার দুপুরে গাজী আনিসের ভাই নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে হেনোলাক্স গ্রুপের মালিক নুরুল আমিন এবং তার স্ত্রী ফাতেমা আমিনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা করেছেন।

এর আগে সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে নিজের শরীরে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন গাজী আনিস। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোরে মারা যান তিনি। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

গাজী আনিসের বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তিনি একসময় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি কুমারখালী উপজেলার পান্টি ইউনিয়নের পান্টি বাজার এলাকার মৃত ইব্রাহিম বিশ্বাসের ছেলে। গাজী আনিস স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে যশোরে থাকতেন বলে জানা গেছে।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন গাজী আনিসের স্বজনরা।

এ সময় গাজী আনিসের মামাতো ভাই তানভীর ইমাম বলেন, আমার ভাই কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন। তিনি ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা পেতেন হেনোলাক্স কোম্পানির কাছে। এই টাকা না দেওয়ায় তিনি নিজের গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেন। টাকা পেতে আমার ভাই কুষ্টিয়া আমলি আদালতে নুরুল আমিন ও তার স্ত্রীকে আসামি করে দুটি মামলা দায়ের করেন, যা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া গত ৩১ মে তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন কিন্তু কোনো ফল না পেয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। তাই গাজী আনিসের মৃত্যুর জন্য হেনোলাক্স কোম্পানির নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী দায়ী।
-আমাদের সময়.কম