হিজলায় যৌতুকের বলি গৃহবধূ রাবেয়া ॥ আসামি গ্রেফতারে পুলিশের গড়িমসি

বরিশাল অফিসঃ যৌতুকের দাবিকৃত এক লাখ টাকা না পেয়ে অমানুষিক নির্যাতনের পর পরিকল্পিতভাবে এক সন্তানের জননীকে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের পরেও আসামি গ্রেফতারে পুলিশের বিরুদ্ধে রহস্যজনক ভূমিকা পালনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি জেলার হিজলা উপজেলার আসলী আবুপুর গ্রামের।
একই উপজেলার আবুপুর গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক বেপারী জানান, তার কন্যা রাবেয়া আক্তার খাজিদাকে ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর পাশ্ববর্তী আসলী আবুপুর গ্রামের হারুন বেপারীর পুত্র ইসমাইল বেপারীর কাছে সামাজিকভাবে বিয়ে দেয়া হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের আদিবা নামের ৫ মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। রাজ্জাক বেপারী অভিযোগ করেন, বিয়ের সময় বর পক্ষের দাবি অনুযায়ী যৌতুকের নগদ ১ লাখ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩ লাখ টাকার মালামাল দেয়া হয়। সম্প্রতি সময়ে ব্যবসার কথা বলে ইসমাইল ও তার পরিবারের লোকজনে আরও ২ লাখ টাকার জন্য তার মেয়ে খাদিজাকে চাপ প্রয়োগ করে। রাজ্জাক বেপারীর পুত্র আফজাল বেপারী জানান, বোনের সুখের কথা চিন্তা করে ধারদেনা করে দাবীকৃত যৌতুকের ১ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। বাকি ১ লাখ টাকার জন্য যৌতুকলোভী ইসমাইল ও তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময় খাদিজাকে শারিরিক নির্যাতন করে। এনিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিস মিমাংসাও হয়। এরইমধ্যে গত ৭ আগস্ট সকালে পূর্ণরায় যৌতুকের দাবিকৃত এক লাখ টাকার জন্য ইসমাইল বেপারী, তার বোন মাকসুদা, ভাই ইয়াসিন, বোনজামাতা বাদল হোসেন জোটবদ্ধ হয়ে খাদিজাকে অমানুষিক নির্যাতন করে। এতে খাজিদা জ্ঞানশূণ্য হয়ে পড়লে পরিকল্পিতভাবে তাকে (খাদিজা) হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখে এলাকায় আত্মহত্যার কথা রটিয়ে দেয়া হয়।
আফজাল বেপারী আরও জানান, খাদিজার মৃত্যুর সংবাদ তাদের পরিবারের কাছে না জানিয়ে ইসমাইল ও তার পরিবারের লোকজনে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের সহযোগীতায় তড়িঘড়ি করে লাশ দাফনের চেষ্টা চালায়। স্থানীয়দের কাছে বোনের মৃত্যুর খবর জানাতে পেরে তারা থানা পুলিশ নিয়ে খাদিজার লাশ উদ্ধার করেন। পুলিশ লাশের ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় তিনি (নিহতের বড়ভাই আফজাল বেপারী) বাদী হয়ে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইসমাইল বেপারীসহ আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করে। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকান্ডের ২৪দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে এখনও কোন আসামি গ্রেফতার করতে পারেননি। উল্টো আসামি ও তাদের লোকজনে মামলা প্রত্যাহারের জন্য বাদি ও তার পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি অব্যাহত রেখেছে।
এ ব্যাপারে হিজলা থানার ওসি মোঃ মাসুদুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর থেকে আসামিরা আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের (আসামি) গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।