হায়রে বাঙালি কবে মানুষ হবি

87

মুক্তার হোসেন নাহিদঃ ডিম সেদ্ধ খেয়ে পরীক্ষা দিলে রেজাল্ট ভালো হবে। তার জন্য ছোটবেলায় পরীক্ষার দিনগুলোতে অনেক কেঁদেছি। কিন্তু ডিম ছাড়াই পরীক্ষা দিয়ে প্রায় সব ক্লাসে ফাস্ট হয়েছি। গমের পুকুর- বানিয়ার পুকুরে নামলে পানির মধ্য দোষ আছে, খেয়ে ফেলবে। বড় হয়ে বহুবার ওই দুই পুকুরে সাঁতরে এপার-ওপার করেছি, দোষে খায় নি, দেখাও দেয় নি। কার্ত্তিক মাসের অমাবস্যার রাতে চকপাড়ার তমেজ ফকির হাতে সিঙ্গা নিয়ে সাড়া গ্রাম ফুঁকে দৌড়াতো আর বলতো ওলাবিবি ওই পাড়ায় গেছে। গ্রামে কলেরা হবে। আমি তাড়াচ্ছি চাল দাও। সবাই চাল দিত। বড় হয়ে জানলাম বাঁশি পচা ভাত আর পচা খাবার খেয়ে ডায়রিয়া হতো। ওষুধ ছিল না বলে মানুষ কলেরা ডায়রিয়াতে মারা যেত। এইতো সেদিনও শুনেছি মাংসে আল্লাহ লেখা। কচুর পাতায় ধানের শীষ কিংবা নৌকা দেখা গেছে। এবার অমুক মার্কা সরকার হবে। সারাদেশে চাঁদে সাইদীকে দেখা গেছে বলে কী না তাণ্ডব হলো। এবার করোনায় শুনলাম থানকুনি পাতা খেলে করোনা থেকে মুক্তি মিলবে। ব্যাস যাবে কোথায় মানুষ হুমরি খেয়ে পড়লো থানকুনি পাতায়। সেটা না যেতেই কোথায় যেন এক নবজাতক শিশু জন্মের পরেই মুখ দিয়ে করোনা বলেছে। বলেছে এক যোগে সব মসজিদে রাতে আযান দিতে হবে। আদা, গুলমরিচ আর কালোজিরা মিশ করে খেতে হবে। তাহলেই করোনা থেকে মুক্তি মিলবে। কথা বলেই শিশুটি নাকি মারা গেছে। ব্যাস যাবে কোথায় গুলমিরচ, কালোজিরা, আদা মিশিয়ে খাওয়া শুরু হয়ে গেল। আমার কাছেও অনেক ফোন এলো। আচ্ছা বিজ্ঞান কি একেবারেই মিথ্যা। বিজ্ঞান না হয় বাদই দিলাম, চিরাচরিত নিয়মও কী মিথ্যা। কি করে একজন নবজাতক শিশু কথা বলে! তাও এক সাথে এতগুলো কথা! হায়রে বাঙালি কবে মানুষ হবি। কবে জ্ঞান ফিরবে। করোনার মতো এই মহামারীর মধ্যেও গুজব ছড়ানো হলো, সেই গুজবে কান দিয়ে গভীর রাতে গ্রামে গ্রামে এক সাথে আযানও হলো। প্লিজ গুজবে কান না দিয়ে করোনার সঙক্রমণ রোধে সচেতন হোন, সতর্ক থাকুন, ঘরে থাকুন। নিজে বাঁচুন, পরিবার সমাজ ও দেশের মানুষকে মহামারীর হাত থেকে বাঁচান।-লেখক: সহ-সম্পাদক, যুগবার্তা।