হঠাৎ তিনি ক্রোড়পতি

যুগবার্তা ডেস্কঃ হঠাৎ করেই তিনি ক্রোড়পতি বনে গেছেন। নাম তাঁর ইউনুচ মিয়া। যিনি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর। এই ক্রোড়পতি বনে যাওয়া নিয়ে মহল বিশেষ চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা। এতো অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে জনমনে। বরিশাল নগরজুড়ে তাঁর বেশ কয়েকটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণে অর্থের জোগানের বিষয়টি প্রশ্নবিদ্ধ! গড়ে তুলছে নতুন নতুন ব্যবসা বাণিজ্য। হঠাৎ করে এত টাকা আসলো কোথা থেকে! প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি করে কোটি পতি বনে গেলেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইউনুচ মিয়া। ২০১৪ সালের বরিশাল সিটি নির্বাচনে প্রথমবারের মত কাউন্সিলর নির্বাচিত হন ইউনুচ মিয়া। ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিল হওয়া সত্বেও বিলাস বহুল বাড়ী তুলেছেন ৬নং ওয়ার্ড পুরান কয়লাঘাট এলাকায়। দিনে তিনি মাঝে মধ্যে বেড়াতে যান তাঁর নির্বাচনী ৪নং ওয়ার্ডে বলে অভিযোগ করেছে ওয়ার্ডবাসী। আর বেশিরভাগ সময় থাকেন সিটি কর্পোরেশন ও পুরান কয়লাঘাট এলাকার বাড়ীতে। অভিযোগ রয়েছে , বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৪নং ওয়ার্ড থেকে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে এলাকার উন্নয়নে ভুমিকা রাখতে পারেনি কাউন্সিলর ইউনুস মিয়া। স্থানীয়ভাবে সিসিসি’র দেয়া বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা দিতেও স্বজন প্রীতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এলাকার সাধারণ মানুষের বিভিন্ন ভাতা প্রাপ্ত বই নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন এই কাউন্সিলর। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী জানান, তিনি নামে মাত্র কাউন্সিলর। ওয়ার্ডের মানুষের উপকারে তিনি কখনোই এগিয়ে আসতে সক্ষম হয়নি। কিন্তু নিজের আখের গুছিয়ে নিয়েছেন ঠিকই। এবছর বরিশাল সিটি কর্পোরেশন কর নির্ধারণ (হিয়ারীং) বোর্ডের সদস্য হওয়ার সুবাধে অর্থ কমিয়ে দেয়ার কথা বলে নিজের পকেট ভারী করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সূত্র বলছে, ২০১৪ সালে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৪নং ওয়ার্ড থেকে সাবেক কাউন্সিলর বাদশাকে পরাজিত করে নতুনভাবে কাউন্সিলর নির্বাচিত হন ইউনুচ মিয়া। নির্বাচনের মাত্র ৩ বছরের মাথায় তিনি বরিশাল নগরীর বেশ কয়েকটি এলাকায় নামে বেনামে বাড়ী , জমি, ও ব্যবসা বানিজ্য স্থাপন করেছেন। এর মধ্যে বরিশাল নগরীর আমানতগঞ্জ রেডক্রস ট্রাষ্টের বাড়ী ক্রয় করে। এছাড়াও বরিশাল নগরীর স্ব -রোডে ১ কোটি ৪০লক্ষ টাকায় আরো একটি বিলাস বহুল বাড়ী ক্রয় করেন। তিনি নিজে ঠিকাদার না হয়ে অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করে টুকিটাকি কাজ করেন বলে জানিয়েছে একটি সুত্র। এর মধ্যে বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদে আক্তার ঠিকাদার এর লাইসেন্স এ কাজ শুরু করে। এছাড়াও কাউন্সিলর ইউনুচ মিয়ার নামে বেনামে বরিশাল নগরীতে একাধিক ফ্লাট বাড়ী ও রয়েছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হওয়া সত্বেও থাকেন ৬নং ওয়ার্ডে যেখানে তাঁর নিজস্ব আরো একটি বাড়ী রয়েছে। এ বিষয়ে কাউন্সিলর মোঃ ইউনুস মিয়া বলেন, ৪নং ওয়ার্ডে নিজের টাকায় কেনা জমিতে অফিস রয়েছে। ৪নং ওয়ার্ড নির্বাচনী এলাকায় না থেকে ৬নং ওয়ার্ডে থাকার বিষয়ে বলেন, ৬ নং ওয়ার্ডে আমার বাড়ী রয়েছে। এছাড়াও বরিশালে আমার চারটি বাড়ী রয়েছে। সুত্র বলছে, চলতি কাউন্সিলর বছরে ইউনুচ মিয়া দুটি বাড়ী ক্রয় করেন। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন ছুড়ে এ প্রতিবেদককে বলেন কাউন্সিলর ইউনুচ মিয়া হঠাৎ দৈবক্রমে কি আলাদিনের চেরাগ পেয়ে গেলেন, নাকি নানাবিধ অন্যায় অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে অগাধ বিত্ত বৈভবের মালিক বনে গেছেন ? সবমিলিয়ে সাধারণ জনগণ এবং সচেতনমহল কাউন্সিলর ইউনুচ মিয়ার বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল শীর্ষ কর্মকর্তাদের আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন।-সূত্র: সাংবাদিক আহমেদ জালালের ওয়াল থেকে