‘স্যান্টিনা’র সামনে নয়ের হাতছানি

যুগবার্তা ডেস্কঃ টানা নিজের দ্বিতীয় ডব্লিউটিএ ফাইনালস খেতাবের সামনে সানিয়া মির্জা!
গত বছর চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন জিম্বাবোয়ের কারা ব্ল্যাককে সঙ্গী করে। টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত অপরাজিত সানিয়া এ বারও ফাইনালে পৌঁছলেন মার্টিনা হিঙ্গিসের সঙ্গে।
ডাবলসে বিশ্বের অবিসংবাদী এক নম্বরের শৃঙ্গে ডেরা গড়া ‘স্যান্টিনা’ জুটি এ দিন গুঁড়িয়ে দিল চিনা তাইপের চ্যান বোনেদের শক্তিশালী চ্যালেঞ্জ। সিঙ্গাপুরে মরসুম শেষের ডব্লিউটিএ ফাইনালসের শেষ চারে তৃতীয় বাছাই হাও-চিং চ্যান ও ইয়ুং-জান চ্যানকে ৬-৪, ৬-২ হারিয়ে ‘স্যান্টিনা’ খেতাব যুদ্ধে।
ফাইনালে সানিয়াদের সামনে গারবিনা মুরুগুজা-কার্লা সুয়ারেজ নাভারো। যাঁরা এ দিন হ্লাভাকোভা-হ্রাদেকা জুটিকে হারান ৭-৬ (৮-৬), ৬-০।
এ দিন জেতায় টানা একুশ ম্যাচে অপরাজিত সানিয়ারা। মজার কথা, একুশ ম্যাচ আগে অগস্টের সিনসিনাটি মাস্টার্সের সেমিফাইনালে তাঁরা শেষ বার হেরেছিলেন এই চ্যান বোনেদের কাছেই। এবং নিজেদের নবম খেতাবের সামনে দাঁড়ানো বিশ্বসেরা ডাবলস জুটি যে ম্যাচটা নিয়ে চিন্তায় ছিল, সেটা এ দিন মার্টিনা হিঙ্গিসের কথাতেই স্পষ্ট। যিনি বলেছেন, ‘‘ছ’বার ওদের মুখোমুখি হয়েছি আমরা। প্রতিবারই লড়াই হয়েছে। কী ভাবে খেললে আমাদের জুটিকে সমস্যায় ফেলা যায়, সেটা ওরা জানে।’’
এ দিনও প্রথম সেটটা দাপটে শুরু করে চ্যান বোনেরা এগিয়ে গিয়েছিলেন ৩-১। সেখান থেকে লড়ে জয় ছিনিয়ে আনার কৃতিত্বের সিংহভাগ সানিয়াকেই দিয়েছেন মার্টিনা। সুইস তারকার কথায়, ‘‘আমার সৌভাগ্য যে কোর্টে সানিয়া পাশে থাকে। ও অবিশ্বাস্য রকমের আশাবাদী। তাই এ দিন শুরুতে ১-৩ পিছিয়ে পড়ার পরেও ও দারুণ ইতিবাচক থেকে লড়াই করে গেল। শুধু তাই নয়, আমি খুব সকালে কোর্টে নামতে হলে একটু যেন ঝিমিয়ে থাকি। সানিয়া কিন্তু আজ নিজের সঙ্গে আমাকেও তাতিয়ে দিল!’’
সানিয়া অবশ্য এ দিনের জয়ে নিজের ভূমিকাকে এতটা বাড়িয়ে দেখতে নারাজ। বলেছেন, ‘‘আসল কথা হল ওদের জন্য আমরা খুব ভেবেচিন্তে একটা নিটোল স্ট্র্যাটেজি তৈরি করে নেমেছিলাম। যাতে চমক ছিল। মানে গত কাল যে জুটির বিরুদ্ধে জিতেছিলাম, তাদের শারীরিক শক্তি বেশি ছিল। তাই আমাদের স্ট্র্যাটেজিও আলাদা ছিল। কিন্তু চ্যান বোনেরা দারুণ বুদ্ধি করে খেলে। ওদের বিরুদ্ধে একটা জমাট পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলাটা জরুরি।’’
পাশাপাশি মার্টিনার সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়াটাও জুটির সাফল্যের বড় কারণ, বলেছেন সানিয়া। তাঁর কথায়, ‘‘একে অপরের টেনিস দক্ষতায় ভরসা রাখা খুব জরুরি। এই ভরসাটাই কঠিন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি কাজে দেয়। তাতে এই আত্মবিশ্বাস তৈরি হয় যে, পিছিয়ে পড়লেও যে কোনও সময় প্রতিপক্ষকে ব্রেক করে ম্যাচে ফেরার ক্ষমতা আমাদের আছে। এ দিন যেমন ১-৩ থেকে ২-৩ হল। যদি সেটা না-ও হত, তা হলেও আমরা লড়াই চালিয়ে যেতাম যতক্ষণ না ম্যাচের রাশ আমাদের হাতে আসে।’’
এই নাছোড় মানসিকতাই সম্ভবত চলতি মরসুমে ‘স্যান্টিনা’-র সাফল্যের আসল রহস্য। মার্চের শুরুতে জুটি বাঁধার পর থেকে সানিয়া-মার্টিনা মোট দশটি টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠলেন এই নিয়ে। ন’টি ফাইনালে তাঁদের জয়-হারের রেকর্ড ৮-১। আট খেতাবের মধ্যে রয়েছে উইম্বলডন ও যুক্তরাষ্ট্র ওপেনের ডাবলস ট্রফি। যে একমাত্র ফাইনালটা তাঁরা হেরেছেন, সেটি ইতালীয় ওপেনে। টিমিয়া বাবোস ও ক্রিস্টিনা ম্লাদেনোভিচের হাঙ্গারি-ফরাসি জুটির কাছে।
এমন দাপুটে আধিপত্বের স্বীকৃতিতে মরসুম শেষে ডব্লিউটিএ-র শীর্ষ র‌্যাঙ্কিং ধরে রাখা ‘স্যান্টিনা’র হাতে উঠল এক বিশেষ ট্রফিও। এ বার ফাইনালে জিতলে ডব্লিউটিএ খেতাবটাও তাঁদের হবে। হবে জুটিতে তাঁদের নবম খেতাব।
সানিয়া অবশ্য বছরের শুরুতে আরও একটি খেতাব জিতেছিলেন। পুরনো পার্টনার বেথানি মাটেক স্যান্ডের সঙ্গে সিডনিতে সেই আপিয়া ইন্টারন্যাশলান জেতার পথে কোয়ার্টার ফাইনালে সানিয়ারা হারিয়েছিলেন মার্টিনা হিঙ্গিস-ফ্লাভিয়া পেনেত্তার জুটিকে। এর এক টুর্নামেন্ট পরেই হিঙ্গিসের সঙ্গে জুটি বাঁধেন হায়দরাবাদি মেয়ে।
বাকিটা মেয়েদের ডাবলসে অন্যতম সফল জুটি হয়ে ওঠার রোমাঞ্চ-কাহিনি। এ বার সিঙ্গাপুরের ফাইনালে বছরটার মধুরেণ সমাপয়েতের অপেক্ষায় ‘স্যান্টিনা’-অনুরাগীরা।