স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বরিশাল বিভাগবাসীর অগ্রণী ভূমিকা

যুগবার্তা ডেস্কঃ ৪৪তম মহান বিজয় দিবস ২০১৫ পালন উপলক্ষে বরিশাল বিভাগ সমিতি আজ সকালে বাংলাদেশ শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক মন্ত্রী রাষ্ট্রদূত সংসদ সদস্য সচিব ও আওয়ামী লীগ নেতা এম. মতিউর রহমান।

সভায় প্রধান অতিথি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও বরিশাল বিভাগ সমিতির উপদেষ্টা সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন

আলোচনা অংশগ্রহণ করেন বরিশাল বিভাগ সমিতির সভাপতি ইতিহাসবিদ সিরাজ উদ্দীন আহমেদ, আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক ছাত্র নেতা মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান খান, বাংলাদেশ কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামসুল হক রেজা, বিশ্ব বাঙালি সম্মেলনের সভাপতি কবি মুহাম্মদ আব্দুল খালেক, সাবেক অতিরিক্ত সচিব আব্দুল হক, যুগ্ম সচিব মোল্লা রহিম বক্স, আবুল হোসেন, বরিশাল বিভাগ সমিতির সাধারণ সম্পাদ এম.এ জলিল, ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান মোসতাক আহমেদ ভাসানী, জাসদ নেতা হুমায়ুন কবির, বরিশাল বিভাগ সমিতির প্রচার সম্পাদক আ.স.ম মোস্তফা কামাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ছাত্র লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আল নাহিয়ান খান জয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল ছাত্র নেতা শেখ এনাম ও মনোয়ারা বেগম প্রমুখ।

প্রধান অতিথির ভাষণে ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, দেশের ক্রান্তিকালে বরিশাল বিভাগবাসী সবসময় অগ্রণী ভুমিকা রেখেছে যেটি আমরা করেছি এবং ইতিহাস থেকে পাই। পাকিস্তানের সামরিক জান্তা আয়ুব সাহির শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিবাদকারী বরিশাল বিভাগ থেকে ভাষা আন্দোলনে অগ্রনী ভূমিকা রেখেছেন বরিশালবাসী। তেমনি ভাবে বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত বাঙালিদের মুক্তির সনদ ছয় দফার পক্ষে বরিশালরে ছাত্র সমাজ বিশেষভাবে ভুমিকা রেখেছে তার প্রমাণ ৬৯’এর গণঅভুত্থানের নেতৃত্ব দিয়েছেন বর্তমানে আওয়ামী লীগ নেতা ও বানিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। আগরতলা অভিযুক্ত মামলায় দ্বিতীয় আসামী ছিলেন বরিশালের কৃতিসন্তান লেঃ কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন এবং তিনিই ১৯৭১ সনের ২৫মার্চ কালো রাতরে প্রথম শহীদ হন। বঙ্গবন্ধুর হত্যার প্রথম প্রতিবাদকারী চাকুরী জীবী হিসেবে মহাকুমা প্রশাসক সিরাজ উদ্দীন আহমেদ । ৯৬’এর জনতার মঞ্চে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন ইতিহাসবিদ সিরাজ উদ্দীন আহমেদ। আসুন আমরা বরিশালবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করি, বরিশালের উন্নয়নকে তরান্বিত করি তবেই স্বার্থক হবে আজকের আলোচনা সভা।

সভাপতির ভাষণে এম. মতিউর রহমান বলেন, আমি মহাতœা অশ্বিনী কুমার দত্ত ও মহান নেতা শেরে বাংলার আদর্শকে ধারণ করে ছাত্র কর্মজীবী এবং অবসর জীবনে সাধারণ মানুষের সেবা করতে ব্রত হয়েছি। আমি মনে করি বরিশালের উন্নয়ন বাংলাদেশের উন্নয়ন। আমরা বরিশালবাসী যদি ঐক্যবদ্ধ হতে পারি। বরিশালের ধান নদী খাল আমরা ইলিশ মাছ সুপারি বাচিয়ে রাখতে পারি তবেই বাংলাদেশের উন্নতি হবে। বাংলাদেশের মানুষের দারিদ্র মোচন হবে।

বরিশাল বিভাগ সমিতির সভাপতি ইতিহাসবিদ সিরাজ উদ্দীন আহমেদ বলেন বরিশালবাসী ঐক্যবদ্ধ হলেই বঙ্গবন্ধু শেরে বাংলা, ভাাসানী ও সোহরাওর্দীর আদর্শের বাংলাদেশ গড়তে পারবো। যেই বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন এই মহান চার নেতা সেই বাংলাদেশের আদর্শ হওয়া উচিৎ সন্ত্রাস জঙ্গীবাদ সাম্প্রদায়িকতা ক্ষুধা দারিদ্রমুক্ত উন্নত পরিবেশের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে ৭১ ও ৭৫ এর মানবতা বিরোধী শত্র“রা আর কোন দিন ক্ষমতায় অতিষ্ট হতে পারবে না। আজকের এই বিজয় দিবসে আমরা স্মরণ করি যিনি স্বশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেখেশর স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি হলেন বরিশালেরই কৃতিসন্তান লেঃ কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেন। বাঙালি জাতি কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনের কাছে চিরঋণী।