স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন করেছে কানাডা ছাত্রলীগ

যুগবার্তা ডেস্ক: শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক ৩৭তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রবাসী কানাডা শাখা। দিবসটি উপলক্ষে টরন্টোর ড্যানফোর্থে এক আলোচনা সভার আয়োজন করে কানাডা শাখার ছাত্রলীগের নব-নির্বাচিত নেতারা।

আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন কানাডা ছাত্রলীগের সভাপতি ওবায়দুর রহমান এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কানাডা ছাত্রলীগের বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক আবু হুরাইরা আশিক।

আলোচনা সভায় প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান প্রিন্স, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ আব্দুল গফ্ফারসহ কানাডা আওয়ামী লীগ, কানাডা মহিলা লীগ, অন্টারিও আওয়ামী লীগ, টরন্টো আওয়ামী লীগ ও কানাডা ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

কানাডা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ আব্দুল গফ্ফার বলেন, “আজ থেকে তিন যুগ আগে ১৯৮১ সালের এই ১৭ মে লাখো জনতার সমাবেশে দেশরত্ন শেখ হাসিনা যে কথা দিয়েছিলেন, তা তিনি আজও অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিশ্ববাসীর কাছে উন্নয়নের রোলমডেল হিসাবে পরিচিত”।

প্রধান অথিতির বক্তব্যে কানাডা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান প্রিন্স বলেন, ৭৫ পরবর্তী ঘটনার চুলচেরা বিশ্লেষণ করেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর বিপর্যস্ত হয়ে পরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাল ধরা শেখ হাসিনার সংগ্রামী জীবনের বর্ণনা দেন। তিনি আরও বলেন, “সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে যখন নেত্রী দেশে ফিরেন, ঝড় বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঢাকায় লাখো জনতার ভিড় দেখে মনে হচ্ছিলো মুজিবের সেই বাংলায় প্রত্যাবর্তন। সেই দিনের সেই লক্ষ লক্ষ জনতা শেখ হাসিনার মাঝে বঙ্গবন্ধুর ছায়া দেখেছিল, আশায় বুক বেঁধেছিল নতুন দিনের, স্বপ্ন দেখেছিল উন্নত ও শক্তিশালী একটি গনত্রান্তিক দেশের। সেই দিনের সেই স্বপ্ন আজ বাস্তব। জননেত্রী শেখ হাসিনা কল্পনাকে হার মানিয়ে বাংলাদেশকে এখন ডিজিটাল বাংলায় পরিণত করেছেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে নিয়ে কঠোর সংগ্রাম আর পরিশ্রমের মাধ্যমে।”।

তিনি তার বক্তব্যের এক পর্যায়ে কানাডা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন কে ধন্যবাদ জানান।

সদ্য নির্বাচিত কানাডা ছাত্রলীগের সভাপতি টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ওবায়দুর রহমান বলেন, “৭৫ পরবর্তী সময়ে আমরা যারা জন্মগ্রহণ করেছি, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে দেখার সৌভাগ্য আমাদের হইনি কিন্তু দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে দেখার সৌভাগ্য আমাদের হয়েছে”। কিউবান বিপ্লবী নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রোর সেই মহান উক্তি অনুকরণে তিনি বলেন “আমরা হিমালয়ও দেখিনি, বঙ্গবন্ধুকেও দেখিনি কিন্তু শেখ হাসিনাকে দেখেছি।”

তিনি অঙ্গীকার করে বলেন,“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা কর্তৃক ঘোষিত আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাবে কানাডা ছাত্রলীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মী। ”

সাধারন সম্পাদক আবু হুরাইরা আশিক পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে আলোচনা সভা সফল করার পেছনে আওয়ামী লীগ কানাডা শাখা এবং ছাত্রলীগ কানাডা শাখার সকল নেত্রীবৃন্দকে শুভেচ্ছা জানান।

বিশেষ ভাবে ছাত্রলীগ নেতারা সাবেক মতিঝিল থানা ছাত্রলীগ এর সাধারণ সম্পাদক সোহেল শাহরিয়ার কে ছাত্রলীগকে কানাডাতে সংগঠিত করার পেছনে বিশেষ অবদান এর জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আবু হুরাইরা আশিক বিশেষ ভাবে আওয়ামী লীগ কানাডা শাখার নেতাদের সাহায্য ও দিক নির্দেশনা আহ্বান করেন।

উল্লেখ্য গত ৭ মে কানাডা শাখা ছাত্রৈীগের কমিটি অনুমোদন দেয়ার পর এটা তাদের বড় কনো অনুষ্ঠান।

ছাত্রলীগ এর এরকম আয়োজনে কানাডা আওয়ামী লীগ এর নেতারা অনেক আনন্দিত এবং কানাডা তে একসাথে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী।

উক্ত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কানাডা আওয়ামী লীগ নেতা জসীম উদ্দিন, লিটন মাসুদ, আশিস নন্দী, নেতাই ঘোষ, রাধিকা রঞ্জন, সোহেল শাহরিয়ার রানা, মুরশেদ মুক্তা, কামরুল ইসলাম, কানাডা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি খালিদ সফিউল্লাহ,তানভীর আহমেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা, সাজ্জাদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক শিকদার তৌফিকুর রহমান প্রমুখ।