স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরনে অর্থ মন্ত্রনালয়ে অভিযোগ নম্বর চালু ও উচ্চতর পরামর্শ কমিটি করা হবে–অর্থমন্ত্রী

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ সবসময় উদাহরণ সৃষ্টিকারী দেশ। স্বাধীনতার পর পর আমরা বিশ্বের দরবারে বিধ্বস্ত, ভুখা-নাঙা, হতদরিদ্র ও অনুন্নয়নের উদাহরণ ছিলাম। একসময় বিশ্বের খ্যাতনাম অর্থনীতিবিদরাও বলেছেন, যদি বাংলাদেশে উন্নয়ন হয় তাহলে পৃথিবীর সর্বত্রই উন্নয়ন সম্ভব। এমন তাচ্ছিল্যভরেই বাংলাদেশকে তখন দেখা হতো। বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ এখন আবার উদাহরণ হয়েছে, তবে এখন বলা হয়ে থাকে যদি অবিশ্বাস্য রকম উন্নয়ন দেখতে চাও তবে বালাদেশে যাও। বিশ্বব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক মন্দা সত্ত্বেও বাংলাদেশ গত ১০ বছরে সরকারের ধারাবাহিক সাফল্যে ৭ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি অর্জনে সমর্থ হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় দাড়িয়েছে ১৯০৯ মার্কিন ডলার। আমরা ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রত্যাশা করছি। জাতির পিতার সুযোগ্য উত্তরসূরী আমাদের সকলের প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসার পর তার দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্বে জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজের দায়িত্ব নিয়েছেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। জাতির পিতা যেমনটি বলেছিলেন “তোমরা আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবানা”, ঠিক তেমন করেই বাংলাদেশ তার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে।

আজ শেরে বাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শক কমিটির ৪০তম সভায় মাননীয় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব কথা বলেন।

মাননীয়মন্ত্রী আরো বলেন, এবার আমাদের রাজস্ব আহরণ টার্গেট দুই লাখ ৯৬ হাজার কোটি টাকা। এটা অর্জন করতে হবে। তবে কাউকে কষ্ট দিয়ে ট্যাক্স আহরণ করা হবেনা। সবার সঙ্গে উইন উইন অবস্থানে রাজস্ব আদায় করা হবে। সরকারের চাহিদা বেড়েছে। দেশের উন্নয়নে আমাদের রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হবে। আমাদের প্রায় ৪ কোটি মানুষ মধ্যম আয়ের। কিন্তু তাদের ১০ শতাংশও কর দেয়না। কর দেওয়ার যোগ্যতা সম্পন্ন সবাই যদি কর দিত এর পরিমান হত আরো অনেক বেশী, প্রায় দ্বিগুণেরও বেশী হয়ে যেত। দূর্ভাগ্য আমাদের যে যারাই কর প্রদান করেন, তারাই কর প্রদান করে যাচ্ছে। যারা কর প্রদান করেনা তারা অনেক বেশী আর্থিকভাবে শক্তিশালী হওয়া স্বত্ত্বেও কর না দিয়ে ক্রমাগতভাবে অব্যাহতি পেয়ে যাচ্ছে। আমি জাতিকে এ অপবাদ থেকে মুক্তি দিতে চাই। যারা এতদিন অনেক বেশী মাত্রায় আয়কর দিয়েছেন তাদের জন্য বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। আর যারা দেননি তাদেরকে এবার কর প্রদান করতে হবে- তাদেরকে অবশ্যই করের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এবারের কর ব্যবস্থায় মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে কোন ভাবেই কোন খাতে কর না বাড়িয়ে করের ক্ষেত্র প্রসারিত করে রাজস্ব বাড়ানো। কর নেওয়া হবে কারো উপর করের বোঝা বাড়িয়ে নয় বরং করের আওতা বাড়িয়ে পরিমান বৃদ্ধি করা হবে, খেয়াল রাখা হবে কেউ যেন কষ্ট না পায়। বিষয়টি এরকম যেন রাজহাসের পালক তুলে নেওয়া হবে যতদূর সম্ভব তবে খেয়াল রাখা হবে যেন রাজহাস ব্যাথা না পায়।
আগামীর চাহিদা পূরণে শিক্ষা সংস্কারের উপর জোর দিয়ে মাননীয় মন্ত্রী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময়ই শিক্ষার উপর অধিক গুরুত্ব দিয়ে আসছেন, এবং এ খাতে বর্তমানে আমরা মানসম্মত অবস্থানে পৌছেছি। সব ছেলেমেয়েরা স্কুলে যায়, আধুনিক মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুমের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে আজ এবং আগামীর চাহিদা পূরণ করতে গেলে আমাদের ক্লাসরুমগুলো সেভাবেই সাজাতে হবে। বর্তমান যুগ হলো আর্টিফিসিয়াল ইনটিলিজেন্স, ম্যাটরিয়াল সাইয়েন্স, বায়ো কেমিস্ট্রি, ব্লক চেইন টেকনোলজি, কোয়ান্টাম সাইয়েন্স, রবোটিক্স, ন্যানো টেকনোলজি ইত্যাদির যুগ। আমাদের ক্লাসরুমগুলোতে পর্যায়ক্রমে এসব বিষয় শিক্ষা প্রদান করতে হবে।

এফবিসিসিআই’র পক্ষে সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনের বিভিন্ন দাবীর প্রেক্ষিতে মাননীয় মন্ত্রী বলেন, যে সমস্ত দাবী আপনারা করেছেন তার পরিমান অসংখ্য বরং নির্দিষ্ট কিছু দাবী হলে ভাল হতো। তবে এ নিশ্চয়তা দিচ্ছি দাবীর ক্ষেত্রে কোথাও আপনাদের উপর ন্যায় ছাড়া অন্যায় হবে না। আমরা এবার বাজেটটিকে উপস্থাপন করব খুব সংক্ষিপ্ত আকরে এবং সহজবোধ্যরূপে, যাতে করে বাজেটটি সকলের বোধগম্য হয়। যাদের জন্য বাজেট সেই সর্বস্তরের মানুষ যাতে সহজে বাজেটটি বুঝতে পারে। বাজেট দেখলেই যেন তাদের কাছে দূর্বোধ্য কিছু, ভীতিকর কিছু মনে না হয়।
আমি আপনাদেরই একজন, আমি এখানে এসেছি দায়বদ্ধতা থেকে। আগামী ৫ বছর কর কমবে ছাড়া বাড়বে না তবে করের আওয়তা বাড়বে। আমার দপ্তরে একটি অভিযোগ নম্বর থাকবে, যে কেউ যে কোন অভিযোগ যে কোন সময়ে করতে পারবে। আশাকরি প্রথম দিকে অভিযোগের ফোন আসতে পারে কিন্তু এক সময় আর ফোন আসার প্রয়োজন থাকবেনা। আপনাদেরকে অনুরোধ করি কোন প্রকার ঘুষ দিবেননা, এবং ঘুষ নিবেননা। পবিত্র কোরআনে ঘুষ দেওয়া নেওয়াকে হারাম করা হয়েছে। আশা করছি এখন থেকে আর দূনীতিতে কেউ সহায়তা করবেন না এবং কেউ দূর্নীতি করবেননা। পাশাপাশি আমাকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য এফবিসিসিআই সদস্য, সরকারের সদস্য, সাবেক এনবিআর কর্মকর্তাদের একটি পরামর্শ কমিটি থাকবে যারা আমাকে পরামর্শ দিবে কিভাবে স্বচ্ছতা নিশ্বিত করা যায়, কিভাবে সঠিক সেবাটি নিশ্চিত করা যায়। আমার সকলে দেশের জন্য কাজ করব, দেশকে তার অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌছে নিয়ে যাবো।
এফবিসিসিআই’র সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যলয়ের এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) মেশাররফ হোসেন ভূঁইয়াসহ প্রমূখ।