স্থির হচ্ছেই না শেয়ারবাজার

যুগবার্তা ডেস্কঃ কোনো মতেই যেন স্থির হচ্ছে না শেয়ারবাজার। শেয়ার বিক্রির চাপে কখনো একটানা পতন ঘটছে। আবার কখনো হঠাৎ শেয়ার কেনার চাপে উত্থান ঘটছে। নির্বাচনী বছরে বাজারে উত্থানের চেয়ে পতনই বেশি। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের নানামুখী উদ্যোগে বাজার স্থিতিশীলতার পথেই এগোচ্ছে। উত্থান-পতন বাজারের স্বাভাবিক চিত্র। তবে একটানা উত্থান-পতন স্বাভাবিক চরিত্র নয়। কোনো একটি গোষ্ঠীর কারসাজি থাকতে পারে।

তথ্য বিশ্লেষণে জানা যায়, গত মার্চ মাসজুড়ে মন্দাবস্থার মধ্যেই চলেছে শেয়ারবাজার। শেয়ার বিক্রির চাপ বেশি থাকায় বাজার একদম তলানিতে নেমে আসে। তারল্য সংকট ও কম্পানির শেয়ারে ব্যাংকের বিনিয়োগ হিসাবে প্রাতিষ্ঠানিকের সক্ষমতা কমার কথা জানিয়েছিল মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান। তারা বলেছিল, পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগে সমন্বিত ভিত্তিতে গণনায় তারল্য প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। কম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ হিসাবে মার্ক টু মার্কেট হিসাবেও ওভার এক্সপোজার হওয়ায় অনেক প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ার কিনতে পারছিল না। যার জন্যই সমন্বিত হিসাব বাদ দিয়ে একক হিসাব আর মার্ক টু মার্কেট হিসাব গণনা না করে কেনা দামে বিবেচনার দাবি জানায়।

গত ১ এপ্রিল ব্যাংকের সিআরআর ১ শতাংশ কমানো আর সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। সিআরআর কমানোয় ব্যাংকের ১০-১২ হাজার কোটি টাকা তারল্য বৃদ্ধি পায়। এতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর সক্ষমতা বাড়ানোর প্রত্যাশা করেছিল বাজারসংশ্লিষ্টরা। এই ঘোষণার পরই বাজারে উল্লম্ফন সৃষ্টি হয়। সূচক বৃদ্ধির সঙ্গে লেনদেনও বৃদ্ধি পায়। তবে দু-এক দিন উত্থানের আবারও কমতে থাকে সূচক। সর্বশেষ শেয়ার বিক্রির চাপে চার দিন সূচক কমার পর ঊর্ধ্বমুখিতায় ফেরে বাজার। একদিন উত্থানের পর আবারও কমেছে সূচক ও লেনদেন।

বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজার ওঠানামা স্বাভাবিক চিত্র। শেয়ার বিক্রির চাপ থাকলে সূচক কমে আর কেনার চাপ থাকলে সূচক বাড়ে। বর্তমান বাজার অনেকটা স্থিতিশীলতার পথেই এগিয়ে চলছে। আশা করছি বাজার পরিস্থিতি ক্রমেই উন্নতি করবে। ’

ডিএসইর এক পরিচালক নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, ‘বাজার উঠবে নামনে এটাই স্বাভাবিক। তবে মাঝেমধ্যে মনে হয়, কোনো সংঘবদ্ধ গোষ্ঠী টার্গেট করে শেয়ার কেনে আর বিক্রি করে। এতে বাজার প্রভাবিত হয়। বাজার যেন স্বাভাবিক থাকে সেই বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কঠোর মনিটর করা প্রয়োজন। ’

গতকালের বাজার : সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস গতকাল সোমবার দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক কমেছে। ডিএসইতে সূচকের সঙ্গে লেনদেন কমলেও সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে। যদিও আগের দিন দুই বাজারেই সূচক ও লেনদেন উভয়ই ঊর্ধ্বমুখী হয়েছিল।

গতকাল মঙ্গলবার ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫০৭ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। আর সূচক কমেছে প্রায় ৭ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৫১৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা। আর সূচক বেড়েছিল ১১ পয়েন্ট। সেই হিসাবে লেনদেন ও সূচক উভয়ই নিম্নমুখী।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, লেনদেন শুরুতে শেয়ার কেনার চাপে সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও পরে কমেছে। সকাল পৌনে ১১টার পর থেকে শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়তে থাকলে সূচকও নিম্নমুখী হয়। এতে দিনের সূচক কমার মধ্য দিয়েই লেনদেন শেষ হয়েছে। দিন শেষে সূচক দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৭৭৭ পয়েন্ট। ডিএস-৩০ মূল্যসূচক ৩ পয়েন্ট কমে দুই হাজার ১৭৬ পয়েন্ট ও ডিএসইএস শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট বেড়ে এক হাজার ৩৫৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া ৩৩৫টি কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১২৬টির, কমেছে ১৬৮টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ৪১টি কম্পানির শেয়ারের দাম।

লেনদেনের ভিত্তিতে শীর্ষে রয়েছে বেক্সিমকো। কম্পানিটির লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্সের লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ১৮ লাখ টাকা। আর তৃতীয় স্থানে থাকা লাফার্জ হোলসিম সিমেন্টের লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ২১ লাখ টাকা। অন্য শীর্ষ কম্পানি হলো ফার্মা এইড, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, ড্রাগন সোয়েটার, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউনাইটেড পাওয়ার, ব্র্যাক ব্যাংক ও স্কয়ার ফার্মা।

মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে রয়েছে এশিয়া প্যাসিফিক ইনস্যুরেন্স, ফার্স্ট প্রাইম ফাইন্যান্স মিউচ্যুয়াল ফান্ড, সিএপিএম আইবিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড, সিএপিএম বিডিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড, অ্যাডভেন্ট ফার্মা, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, এসইএমএল আইবিবিএল শরিয়াহ ফান্ড, আইসিবি, এসইএমএল এলইসি মিউচ্যুয়াল ফান্ড মেঘনা সিমেন্ট। অন্যদিকে দাম কমার শীর্ষে রয়েছে রিপাবলিক ইনস্যুরেন্স, এফএএস ফাইন্যান্স, পপুলার লাইফ ইনস্যুরেন্স, স্টাইল ক্র্যাফট, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, লিব্রা ইনফিউশনস, খান ব্রাদার্স পিপি, অলটেক্স ইন্ডাস্ট্রি, শাশা ডেনিমস ও জেমিনী সি ফুড।

অন্য বাজার সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৬৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। আর সূচক কমেছে ০.৫৯ পয়েন্ট। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ২৭ কোটি ২৭ লাখ টাকা। আর সূচক বেড়েছিল ১৫ কোটি টাকা। লেনদেন হওয়া ২৩০টি কম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৯৪টির, দাম কমেছে ১১৫টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ২১টি কম্পানির শেয়ারের দাম।-কালেরকন্ঠ