স্থায়ী রেস্তোরাঁ থাকছে না হাতিরঝিলে

যুগবার্তা ডেস্কঃ হাতিরঝিল সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের বিভিন্ন জায়গায় গড়ে ওঠা স্থায়ী রেস্তোরাঁগুলো উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে আগত দর্শনার্থীদের চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে সেখানে সীমিত সংখ্যক হালকা খাবার ও পানীয়ের ভ্রাম্যমাণ দোকান থাকবে।

গত শনিবার প্রকল্পের এক সমন্বয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান আবদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্প পরিকল্পনা, বাস্তবায়ন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

সভাসূত্র জানায়, সভায় উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি বলেন, মূল নকশায় না থাকলেও হাতিরঝিলে আসা দর্শনার্থীদের চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে প্রাথমিকভাবে কিছু ভ্রাম্যমাণ দোকান বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের বাইরে বেশ কিছু স্থায়ী দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে হাতিরঝিলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সার্বিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় হাতিরঝিলের নান্দনিক সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ বজায় রাখতে স্থায়ী দোকানগুলো উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা হয় শনিবারের সভায় উপস্থিত প্রকল্পের মূল পরিকল্পনাকারী ও সর্বোচ্চ তদারককারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত অনুসারে প্রথমে একটি জরিপের ভিত্তিতে স্থায়ী স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করা হবে। দেখা হবে এসব দোকান বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোথায় কোথায় ব্যত্যয় ঘটেছে। রেস্তোরাঁ হিসেবে কোনো কিছু হাতিরঝিলে রাখা হবে না। যেগুলো এর মধ্যে গড়ে উঠেছে তার সবগুলো উচ্ছেদ করা হবে। তবে ভ্রাম্যমাণ কিছু দোকান থাকবে।’

এর আগে গত ১৪ ফেব্রুয়ারির ‘হাতিরঝিলে খোলা পায়খানা’ শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়, হাতিরঝিলের বিভিন্ন জায়গায় ভ্রাম্যমাণ ও স্থায়ী মিলে ২৯টি দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি স্থায়ী দোকানের দুটি ঝিলের মধ্যে। এমন একটি খাবারের দোকানের কর্মীদের জন্য বানানো হয়েছে খোলা পায়খানাও।

রাজউক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শনিবারের সমন্বয় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন হাতিরঝিল প্রকল্পের নিসর্গ ও স্থাপত্যবিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল হাবিব। তিনি বলেন, সবার সঙ্গে আলোচনা করে সভার সভাপতি রাজউকের চেয়ারম্যান সিদ্ধান্ত দিয়েছেন লেকের পাড়ে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। যেগুলো আছে তা উচ্ছেদ করা হবে। সীমিত আকারে যে অস্থায়ী দোকানগুলো থাকবে তা হতে হবে ভ্রাম্যমাণ।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাতিরঝিল প্রকল্পের সেনাবাহিনী অংশের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাঈদ মো. মাসুদ, প্রকল্প কর্মকর্তা মেজর সাদিক শাহরিয়ার, রাজউক অংশের পরিচালক জামাল আখতার ভূঁইয়া, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামসুল হক, রাজউকের দুই প্রধান প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন (বাস্তবায়ন), এ এস এম রায়হানুল ফেরদৌস (প্রকল্প ও ডিজাইন) প্রমুখ।-প্রথম আলো