সোনালী ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১

যুগবার্তা ডেস্কঃ ঢাকার ধামরাইয়ে ঘরের মেঝে খুঁড়ে সোনালী ব্যাংক শাখায় ডাকাতির চেষ্টা করার সময় র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে তাঁর দলের নারী ও শিশুসহ আরও পাঁচজনকে।
নিহত ওই ব্যক্তির নাম মাসুদ (৪০)। আটক করা ব্যক্তিরা হলেন শিলা (প্রায় ২০), রোমানা (২২), বাদশা (৪০), রিয়াজুল (বয়স জানা যায়নি), সবুজ (৬০) ও রোমানার ছেলে সাকিব (৭)। তাঁরা র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) হেফাজতে রয়েছেন।
র‍্যাবের বরাত দিয়ে ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিজাউল হক বলেন, চারতলা বাড়ির দোতলায় সোনালী ব্যাংকের শাখা রয়েছে। এক মাস আগে বাড়িটির তৃতীয় তলা মাসুদসহ আটক ব্যক্তিরা ভাড়া নেন। তৃতীয় তলার নিচে দোতলায় ব্যাংকের ভল্ট যেখানে বসানো, ঠিক তার ওপরের মেঝের টাইলস খুঁড়ে রাখা ছিল। বিশেষ কৌশলে মেঝের টাইলস খোলা হচ্ছিল। নিচ থেকে বোঝার কোনো উপায় ছিল না। মেঝের ওই অংশের প্রায় ৭০ ভাগ খুঁড়ে ফেলা হয়। ওই বাড়ি থেকে মেঝে কাটার বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি উদ্ধার করেছে র‍্যাব।
ওসি রিজাউল বলেন, গোপন খবরের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে র‍্যাব বাড়িটিতে অভিযান চালায়। দরজায় শব্দ করার পর সবুজ, বাদশা ও রিয়াজুল বের হয়ে আসেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তাঁরা র‍্যাবকে জানান, এ ব্যাপারে তাঁরা কিছু জানেন না। তাঁদের নেতা মাসুদ সব জানেন। র‍্যাব মাসুদকে ডাকতে বলে। বাড়িটির আরেক ঘরে থাকা মাসুদ বাথরুমে লুকিয়ে র‍্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। র‍্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে মাথায় গুলি লেগে মাসুদ নিহত হন।
বাসার মালিক রিয়াজউদ্দিনের ছেলে রেজাউল করিম বলেন, মাসুদ তিন মাস আগে বাড়িটি ভাড়া নেন। এক মাস আগে সপরিবারে থাকবেন বলে তাঁরা বাড়িতে ওঠেন। তাঁদের আচরণ অন্য সব ভাড়াটেদের মতোই ছিল। তাঁরা আগে থেকে কিছু টের পাননি।
সোনালী ব্যাংকের ওই শাখার ব্যবস্থাপক কাজী সোলায়মান বলেন, বাসার মালিক কাকে বাসা ভাড়া দিয়েছেন, তিনি জানেন না। ওপর তলার মেঝে খোঁড়া হচ্ছে কি না, তাঁরা বুঝতে পারেননি। কোনো শব্দ পাননি।
ওসি রিজাউল হক বলেন, তাঁদের ধারণা আগামী শুক্র, শনি ও রোববার ব্যাংক বন্ধ। এই তিন দিনের মধ্যেই তাঁদের ব্যাংক ডাকাতির পরিকল্পনা ছিল। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রথম আলো