সুন্দরবন অঞ্চলের আদি প্রাণী বাটাগুর বাসকা কচ্ছপের অস্তিত্ব সংকটাপন্ন

মোংলা থেকে মোঃ নূর আলমঃ সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে বিরল প্রজাতির একটি ’বাটাগুর বাসকা’ কচ্ছপ সম্প্রতি ( ১১ মার্চ ২০১৯ ) ৩২টি ডিম দিয়েছে। ৬৫/৬৭ দিনের মাথায় নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় এই ডিম গুলি থেকে বাচ্চা ফুটানো হবে। এরপর নির্দিষ্ট বয়সে ’বাটাগুর বাসকা’ কচ্ছপ গুলিকে ছেড়ে দেয়া হবে তাদের আদি নিবাসস্থল সুন্দরবন অঞ্চলে। ২০১৪ সালে মাত্র ৮ জোড়া কচ্ছপ দিয়ে করমজলে অতি সংকটাপন্ন বাটাগুর বাসকার বংশ বিস্তার ও জীবনাচরণ জানতে বাটাগুও বাসক কচ্ছপ প্রকল্পের যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ বন বিভাগ, অস্ট্রিয়ার জু ভিয়েনা, আমেরিকার টারটেল সারভাইভাল এলায়েন্স এবং প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন ।

সুন্দরবনের করমজল বাটাগুর বাসকা কচ্ছপ প্রকল্প ম্যানেজার আব্দুর রব জানান ”সুন্দরবন অঞ্চলের উপকূলীয় গ্রাম থেকে ৮ জোড়া বাটাগুর কচ্ছপ সংগ্রহ করি। তার মধ্যে ৪ জোড়া করমজলে এবং অন্য ৪ জোড়া ভাওয়াল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে রাখা হয়। করমজলে ২০১৭ সালে বাটাগুর বাসকা কচ্ছপ ৬২টি ডিম দেয়, তার থেকে ৫৭টি বাচ্চা হয়। ২০১৮ সালে ৪৬টি ডিম দেয়, তার থেকে ২২টি বাচ্চা হয়। ২০১৯ সালে একটি বাটাগুর বাসকা কচ্ছপ সম্প্রতি ৩২টি ডিম দিয়েছে। করমজলে বাচ্চাদের মেজারমেন্ট নিয়ে ডাটাশীট ˆতরী করা হয়। নির্দিষ্ট একটা সাইজে আসলে সুন্দরবনে ছেড়ে দিতে চাই। যেখানে তাদের আদি বাস ছিলো।” করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির জানান ”বন বিভাগ বাটাগুর বাসকা প্রকল্পের জন্য জায়গা দিয়েছে। ২০১২ সাল থেকে পাহারা, দেখাশুনা খাবার দিয়ে আসছি। বাচ্চাদের সংরক্ষণ এবং অন্যান্য সাপোর্ট দিয়ে থাকি।” প্রকল্পের কেয়ারটেকার লিপটন বিশ্বাস বলেন ”প্রথমে সকালে এসে ৬টা পুকুর দেখাশুনা করি। কোন অসুবিধা থাকলে স্যারকে জানাই। ৯টায় খাবার দিই। মিষ্টি কুমড়া, বাইন পাতা, কচুরিপানা, শুটকি চিংড়ি এদের প্রধান খাবার। দুইদিন অন্তর পটাস দিয়ে পুকুর পরিস্কার করি যাতে কোন রোগ-বালাই না হয়। সকাল ৮টা, ১২টা, ২টা ও বিকেল সাড়ে ৪টায় ডিমের টেমপেচার নেয়া লাগে যা খাতায় রেকর্ড করি। এক সপ্তাহ পর স্যারকে দেখানো লাগে।”

বন্যপ্রাণী বিভাগের প্রধান বনসংরক্ষক মোঃ জাহিদ হোসেন বলেন ”বাংলাদেশের অতি সংকটাপন্ন একটি প্রাণী। শুধুমাত্র বাংলাদেশ-ভারতীয় অংশে পাওয়া যায়। পৃথিবীর আর কোথাও প্ওায়া যায় না। এই প্রাণী এখন খুবই সংকটাপনś অবস্থায় আছে। আমাদের ধারনা মাত্র ১০০টি প্রাণী বেঁচে আছে সারা পৃথিবীতে। তাই সেটা আমাদের রক্ষা করতে হবে। ২০০৮ সালে আমাদের মাথায় প্রথম চিন্তা আসে। প্রাণীটি উপকূল এলাকার। সেই জন্য সুন্দরবনের করমজলে একটি প্রজনন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে যে প্রাণী ˆতরি হবে একটি নির্দিষ্ট বয়সে তা আমরা সুন্দরবনে ছেড়ে দেবো।