সুন্দরবনের বাঘ পিটিয়ে হত্যা

খুলনা অফিসঃ সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের জিউধরা ষ্টেশন সংলগ্ন দক্ষিণ গুলিশাখালী গ্রামে ধান ক্ষেত্রে বাঘ পিটিেিয় হত্যা করেছে উত্তেজিত জনতা। এসময় বাঘের আক্রমনে ৬জন গ্রামবাসী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে মাসুম দলাল (৩৫) নামক এক যুবকের অবস্থা আশংকাজনক। অন্যান্য আহতরা হলেন মজিবর সরদার, সগীর সরদার, হাউম হ্ওালাদার, ইয়াসিন হ্ওালাদার ও আলামিন। আহতদের মধ্যে ৪জনকে খুলনা ২৫০ শয্যা হাসপাতাল এবং ২জনকে মোড়েলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়েছে। স্থানীয় ১৩ নং নিশানবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাচ্চু জানান বন বিভাগের অবহেলায় এবং সংশ্লিষ্টতায় উত্তেজিত জনতা বাঘকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মৃধা মনিরুজ্জামান জসিম বলেন, জনতা বাঘকে ঘিরে রেখেছিলো। বন বিভাগের কর্মকর্তা আসলে আমরা তাদেরকে বাঘ বুঝিয়ে দিই। কিন্তু বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এবং তাদের সংশ্লিষ্টতায় জনগন বাঘকে পিটিয়ে হত্যা করে।

ডিএফও ( বন্যপ্রাণী ) খুলনার মোঃ মদিনুল ইসলাম জানিয়েছেন ভোর বেলায় কয়েকজন ধান ক্ষেত্রে খড় ( নাড়া ) কাটতে গেলে মাসুম দলাল নামক এক যুবককে বাঘ আক্রমন করলে লোকজন ছুটে এসে পিটিয়ে বাঘকে হত্যা করে। বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোন ধরনের অবহেলা করা হয়নি। মৃত বাঘটিকে পোস্ট মর্টেম করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। গুলিশাখালী এলাকার কমিউনিটি পেট্রোল গ্রুপের টিম লিডার নুরু মৃধা বলেন ফোন পেয়ে বাঘে স্থানে ছুটে যাই। কে বা কারা মেরেছে জানিনা। তবে বাঘের কাছে যেয়ে দেখি মৃত।

অন্যদিকে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা’র বাগেরহাট জেলার সমন্বয়কারী মোঃ নূর আলম শেখ বলেন সুন্দরবনে খাদ্যাভাবের কারনে কয়েকদিন যাবৎ চাঁদপাই রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বাঘ লোকালয়ে আসছিলো। বন বিভাগের সতর্কতা এবং বন সংশ্লিষ্ট জনসাধারনের সচেতনতার অভাবে সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষিত বাঘকে প্রান দিতে হলো। এদিকে বাঘ হত্যার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান খুলনা

বিভাগীয় বন কর্মকতা ( বন্য প্রাণী ) মোঃ মদিনুল ইসলাম, সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা মাহমুদ হাসান, মোংলা উপজেলা নির্বাহি অফিসার মো রবিউল ইসলাম, মোড়েলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রাশেদুল ইসলাম, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা’র বাগেরহাট জেলার সমন্বয়কারী পশুর রিভার ওয়াটারকিপার মোঃ নূর আলম শেখ প্রমূখ।