সুন্দরবনের করমজলে বিলুপ্ত ”বাটাগুর বাসকা” কচ্ছপ’র ৩২টি বাচ্চা ফুটেছে

মোঃ নূর আলমঃ সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে বিলুপ্ত প্রজাতির ‘বাটাগুর বাসকা’র (কচ্ছপ) দেয়া ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বের হয়েছে। সুন্দরবনের করমজল’র বাটাগুর বাসকা কচ্ছপ প্রকল্পের প্রকল্প ম্যানেজার আব্দুর রব জানান গত ১১ মার্চ একটি কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্রে ৩২টি ডিম দেয়। এরপর ডিমগুলো সংগ্রহ করে রাখা হয় প্রকল্পের ইনকিউভেশনে। ৬৭ দিন ইনকিউভেশনের মধ্যে থাকার পর গত ১৬ মে বৃহস্পতিবার দুপুরে এবং ১৭ মে শুক্রবার সকালে ওই ডিম হতে ৩২টি বাচ্চা ফুটে বের হয়। ডিম থেকে সদ্য ফুটে বের হওয়া বাচ্চাগুলোর শারীরিক অবস্থা খুবই সুস্থ্য-সবল ও ভালো তাই বাচ্চাগুলোর শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রকল্পের ১ নম্বর হ্যাচারীতে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এই প্রথম ৩২টি ডিম থেকে ৩২টি কচ্ছপ ছানা জন্ম নিলো এবং শতভাগ সফলতা আসলো বলে তিনি জানান। বাটাগুর বাসকা ( কচ্ছপ ) প্রকল্প বিষয়ে জানতে চাইলে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির জানান বন বিভাগ বাটাগুর বাসকা প্রকল্পের জন্য জায়গা দিয়েছে। ২০১২ সাল থেকে পাহারা, দেখাশুনা খাবার দিয়ে আসছি। বাচ্চাদের সংরক্ষণ এবং অন্যান্য সাপোর্ট দিয়ে থাকি।
প্রধান বনসংরক্ষক ( বন্যপ্রাণী ) মোঃ জাহিদ হোসেন বাটাগুর বাসকা কচ্ছপ সম্পর্কে বলেন বাংলাদেশের অতি সংকটাপন্ন একটি প্রাণী। শুধুমাত্র বাংলাদেশ-ভারতীয় অংশে পাওয়া যায়। পৃথিবীর আর কোথাও প্ওায়া যায় না। এই প্রাণী এখন খুবই সংকটাপনś অবস্থায় আছে। আমাদের ধারনা মাত্র ১০০টি প্রাণী বেঁচে আছে সারা পৃথিবীতে। তাই সেটা আমাদের রক্ষা করতে হবে। ২০০৮ সালে আমাদের মাথায় প্রথম চিন্তা আসে। প্রাণীটি উপকূল এলাকার। সেই জন্য সুন্দরবনের করমজলে একটি প্রজনন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখান থেকে যে প্রাণী ˆতরি হবে একটি নির্দিষ্ট বয়সে তা আমরা সুন্দরবনে ছেড়ে দেবো।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে এ প্রকল্প চালু হওয়ার পর ২০১৭ সাল থেকে ডিম দিতে শুরু করে প্রজনন কেন্দ্রের কচ্ছপ। সুন্দরবন অঞ্চলের উপকূলীয় গ্রাম থেকে ৮ জোড়া বাটাগুর কচ্ছপ সংগ্রহ করা হয়। তার মধ্যে ৪ জোড়া করমজলে এবং অন্য ৪ জোড়া ভাওয়াল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে রাখা হয়। করমজলে ২০১৭ সালে বাটাগুর বাসকা কচ্ছপ ৬২টি ডিম দেয়, তার থেকে ৫৭টি বাচ্চা হয়। ২০১৮ সালে ৪৬টি ডিম দেয়, তার থেকে ২২টি বাচ্চা হয়। ২০১৯ সালের ১১ মার্চ একটি বাটাগুর বাসকা কচ্ছপ ৩২টি ডিম দেয়। যা থেকে ৬৭দিন পর ৩২টি বাটগুর বাসকা কচ্ছপের ছানা ফুটলো এবং প্রকল্পের কার্য্যক্রমের শতভাগ সফলতা আসলো। এসব কচ্ছপ ছানা গুলো নির্দিষ্ট একটা সাইজে আসলে সুন্দরবনে ছেড়ে দেয়া হবে। যেখানে তাদের আদি বাস ছিলো।