সীমান্ত আতঙ্ক কতকাল

6

সাহাদাত হোসেন পরশঃ নানা সময়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের শীর্ষ পর্যায়ের সম্মেলনে সীমান্তে নন-লিথ্যাল উইপন (প্রাণঘাতী নয়) অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়। সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার ব্যাপারে সদিচ্ছার কথাও বলেন নীতিনির্ধারকরা। এমনকি উভয় দেশের মধ্যে রাজনৈতিক পর্যায়ের আলোচনায়ও সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ভারত; কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন খুব কমই চোখে পড়ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যার ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। চলতি বছরের প্রথম ২৫ দিনেই এ সংখ্যা ১০ জনে পৌঁছে গেছে। ২০১৯ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩৮। গত এক দশকের মধ্যে কেবল ২০১৮ সালে সীমান্তে হত্যার ঘটনা দুই অঙ্কের নিচে ধরে রাখা সম্ভব হয়েছিল। ওই বছর সরকারি হিসাবে তিনজন হত্যার শিকার হন। ওই সময়ে সীমান্তের পরিবেশও ছিল স্বস্তিদায়ক। অথচ পরের বছরই তা এক লাফে ১৩ গুণ বেড়ে যায়।

নতুন বছরের জানুয়ারিতে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে সীমান্তে ?বিএসএফের হাতে মৃত্যু হয় ছয়জনের। এখন পর্যন্ত এ সংখ্যা বেড়ে ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে উভয় দেশের মধ্যে দ্রুত রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হওয়া দরকার বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্ট সবাই।

নিরাপত্তা বিশ্নেষক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্ত হত্যার ঘটনা মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বের যে সম্পর্ক, তা অব্যাহত রাখতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে হবে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক যে সম্পর্ক, তার প্রতিফলন যাতে মাঠ পর্যায়ে বিএসএফের সদস্যদের আচরণে পড়ে, সেটা নিশ্চিত করা জরুরি। বিজিবি কর্তৃপক্ষ বলছে, সীমান্তে হত্যার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন। এসব হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে বিএসএফের বক্তব্যও গ্রহণযোগ্য মনে করছে না তারা।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে হত্যার ঘটনা ঘটেই চলেছে। এটা বড় উদ্বেগের কারণ। এরই মধ্যে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনারের কাছে এ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা জানানো হয়েছে।-সমকাল