সিনেমা চললে পর্দা ভেঙে দেয়ার হুমকি

যুগবার্তা ডেস্কঃ রণবীর কাপুর, ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন, আনুশকা শর্মা, ফাওয়াদ খান থাকায় বলিউডে শুরু থেকেই আলোচনায় ছিল অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল সিনেমাটি। এরপর রণবীর-ঐশ্বরিয়ার রোমান্সের কারণে সিনেমাটির প্রতি দর্শকের আগ্রহ আরো বাড়তে থাকে।
কিন্তু গত ১৮ সেপ্টেম্বর কাশ্মীরের উরিতে ভারতীয় সৈন্যদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক অবনতি হয়। এদিকে পাকিস্তানি শিল্পী ফাওয়াদ খান থাকায় অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল সিনেমাটি নিষিদ্ধের দাবি জানায় মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনা (এমএনএস) নামের একটি সংগঠন। পাশাপাশি সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে চললে পর্দা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেয় তারা।
আগামী ২৮ অক্টোবর সিনেমাটি মুক্তির কথা রয়েছে। ভারতীয় সেন্সরবোর্ডও সিনেমাটিকে ছাড়পত্র দিয়েছে। কিন্তু তার আগে সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শন বন্ধ করতে আন্দোলন করছে এমএনএস। সম্প্রতি মুম্বাইয়ের একটি সিনেমা হলের সামনে সিনেমাটি প্রদর্শনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে তারা। ফাওয়াদ থাকায় তারা সিনেমা হলে সিনেমাটি প্রদর্শন না করতে দেয়ার হুমকি দেয়। পুলিশ সিনেমাটি প্রদর্শনের নিরাপত্তার ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেওয়ার একদিন পরই তারা এ হুমকি দিল।
এদিকে তাদের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১২ জন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ প্রসঙ্গে অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার অব পুলিশ সুনীল কুলাওয়েকার ভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং জুডিশিয়াল কাস্টরিতে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত রিমান্ডে রাখা হবে।’
মুম্বাই শহরের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে এমএনএস সংগঠনটির প্রায় ৪০০ কর্মী অপারেটর, টিকেট বিক্রিসহ বিভিন্ন কাজ করেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে সিনেমাটি প্রদর্শনের ব্যাপারে তাদের কর্মীদের সহযোগিতা না করার জন্য বলা হয়েছে।
কামগড় সেনা সভাপতি মনোজ চৌহান বলেন, ‘প্রেক্ষাগৃহগুলোতে আমাদের ৭৫ শতাংশ কর্মী কাজ করে। যদি পরিবেশকরা সিনেমাটি প্রদর্শন করে তাহলে আমাদের কর্মীরা সবাই ছুটিতে যাবে। এতে সিনেমাটি প্রদর্শনে অসুবিধা হবে। এতে যদি কর্মীদের কোনো সমস্যা হয় তা এমএনএস দেখবে।’
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও বিবৃতিতে অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল পরিচালক করণ জোহর জানিয়েছেন, তিনি পাকিস্তানি শিল্পীদের নিয়ে আর কাজ করবেন না। এ বিষয়ে এমএনএস সিনে উইং সভাপতি আমেয়া খোপকার বলেন, ‘এটি দুঃখ প্রকাশের সময় নয়। তিনি তার মন বদলাতে পারেন কিন্তু আমরা নই। অ্যায় দিল হ্যায় মুশকিল সিনেমাটি যেন কোনো প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি না পায় বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করতে চাই। তারা যদি সিনেমাটি প্রদর্শন করে তাহলে আমরা আমাদের স্টাইলে ফিরে যাব এবং তাদের প্রেক্ষাগৃহের পর্দা ভেঙে দেওয়া হবে।’