সাহিত্যে গোর্কি অলংকারহীন মানুষকে ভাষা দিয়েছেন

যুগবার্তা ডেস্কঃ বিশ্বসাহিত্যে কিংবদন্তী সাহিত্যিক, তাত্ত্বিক ও কবি ম্যাক্সিম গোর্কি’র ১৫০ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘর আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, ম্যাক্সিম গোর্কি সাহিত্যে অলংকারহীন মানুষকে অলংকার দিয়েছেন। ভাষা দিয়েছেন। লড়াই করে বাঁচতে শিখিয়েছেন।
শুক্রবার বিকালে রাজধানীর ˆমৈত্রী মিলনায়তনে আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘের সভাপতি কবি গোলাম কিবরিয়া পিনু।

এতে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি ড. সফিউদ্দিন আহমদ, কথাসাহিত্যিক শামসুজ্জামান হীরা, লেখক ও অধ্যাপক আকিমুন রহমান, জাকির হোসেন। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সহ-সাধারণ সম্পাদক অভিনু কিবরিয়া ইসলাম।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি-তাত্ত্বিক সাখাওয়াত টিপু।

প্রবন্ধে সাখাওয়াত টিপু বলেন, ম্যাক্সিম গোর্কি দেখিয়েছেন আস্তাকুঁড়ে থেকে বন্ধুর পথ মাড়িয়ে কিভাবে সৃষ্টিশীলতার অমোঘ সূর্যকে ছুঁতে হয়। আর শুধু নিজেকে জাগিয়ে নয়, অন্যের মানসালোক জাগাতে হয় সেই কান্ডটিও। মানতেই হবে ম্যাক্সিম গোর্কি আধুনিক একজন কথাশিল্পী। খেটে খাওয়া মানুষের চিন্তার রƒপকার।

আলোচকরা বলেন, ম্যাক্সিম গোর্কি পৃথিবীর পাঠশালায় এক বিপ্লবী কথাশিল্পী। প্রগতিবাদী চেতনার গণমুখী দর্শন ও সাহিত্যের কর্মের ভেতর দিয়ে বিশ্ব প্রকৃতিকে তিনি গ্রহণ করেছিলেন নিজের একমাত্র পাঠশালা হিসেবে। নিপীড়িত-শোষিত-বঞ্চিত ক্ষুধিত মানুষের জীবনালখ্যে হয়ে তিনি সাহিত্যের ˆশৈল্পিক ভাষায় উপস্থাপন করেছেন নিজের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতার শোকগাঁথা। ক্রমশ বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসে উপনিবেশশক্তির আলোকবর্তিকা হয়ে উঠেছেন।

তারা আরো বলেন, আক্ষরিক অর্থে গোর্কি ছিলেন তাঁর নামের মতোই তিক্ত। তার লেখায় সবসময় ফুটে উঠেছে তিক্ত সত্য। পৃথিবীব্যাপী ফ্যাসিবাদ জীবন সঞ্চিত রাগের প্রকাশ দেখিয়েছেন তার লেখায়। সমাজের নিচুস্তরের মানুষের জীবনের প্রতিচ্ছবি এঁকেছেন তিনি। রাশিয়ার সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের বাঁকগুলো তিনি এঁকেছেন নিঁখুতভাবে।

অধ্যাপক-লেখক আকিমুন রহমান বলেন, বিশ্ব সাহিত্যাঙ্গনে সোশালিস্ট রিয়ালিস্ট ধারার সাহিত্যের অন্যতম হিসেবে তিনি পরিচিত। প্রথম দিকের গল্পগুলোতে নিটোল রোমান্টিকতা থাকলেও পরবর্তীতে গল্পের বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনা ˆশলি ভিনś রƒপ নিতে থাকে। স্বভাবগতভাবেই প্রথাবদ্ধ চেতনার ধারাকে বাদ দিয়ে শুরু করলেন নতুন পথে যাত্রা। সমাজের নিচুতলার মানুষ-চোর, লম্পট, ভবঘুরে, মাতাল, গণিকা, চাষী, মজুর, জেলে উঠে আসতে থাকে তার রচনায়। জীবনের নানান পরিবর্তনের ভেতর দিয়ে গোর্কি হয়ে উঠেন আমাদের প্রেরণা।

সভাপতির বক্তব্যে গোলাম কিবরিয়া পিনু বলেন, ম্যাক্সিম গোর্কির সাহিত্য রাজনৈতিক ও মানুষের মুক্তি আন্দোলনে এ ভুখন্ডে ত্রিশের দশক থেকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করেছে। অন্যদিকে সামাজিক বাস্তবাতাভিত্তিক জীবন-চেতনা নির্ভর সাহিত্য রচনার ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণার প্রধান এক সাহিত্যিক হিসেবে গ্রহণীয় হয়ে উঠে। আর কোনো বিদেশী সাহিত্যিক এতটা গভীরভাবে এ ভুখন্ডে প্রভাব ফেলতে পারেন নি। তাঁকে অধ্যয়নের বিষয়টি বিভিন্ন কারণেও এখনো গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি।

আলোচনা সভার শুরুতে উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সঙ্গীত পরিবেশন করেন।
এছাড়া ম্যাক্সিম গোর্কি’র বিভিন্ন সমায়ের চিত্র নিয়ে আলোকচিত্র ও তথ্য বহুল চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়।