সাম্প্রদায়িকতার সামাজিকীকরণে সরকারের ভূমিকা দূঃখজনক-যুব ইউনিয়ন

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটিরি সভাপতি হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল এবং সাধারন সম্পাদক হাফিজ আদনান রিয়াদ বুধবার এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাবলী থেকে সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে সরকারের প্রচ্ছন্ন মদদে দেশে সাম্প্রদায়িকতার সামাজিকীকরণ চলছে। ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক শক্তি হেফাজতে ইসলামের অন্যায় আবদার মেনে নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে যে যুক্তি দেয়া হচ্ছে তা মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার পরিপন্থি। যদিও এর পেছনে সরকারের ভিন্ন উদ্দেশ্য কাজ করছে বলেই মনে হচ্ছে। সরকার একদিকে গ্যাসের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি করেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধিও নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। অর্থমন্ত্রী এবছর স্মরণকালের সবচেয়ে বাস্তবতা বিবর্জিত একটি বাজেট পেশ করেছেন। প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের বিপুল যুবগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুস্পষ্ট নির্দেশনা এবং বরাদ্দ নেই। অর্থমন্ত্রী তার বাজেট বক্তৃতায় স্বীকার করেছেন প্রতিবছর ২০ লক্ষাধিক যুবক কর্মবাজারে প্রবেশ করে। তাদের কর্মদক্ষ করতে উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মানের কথা বলেছেন। কিন্তু নতুন কর্মক্ষেত্র সৃষ্টির জন্য কোন বরাদ্দের প্রস্তাব করেননি। ফলে বেকারত্ব আরো তীব্র হবে। অন্যদিকে স্বল্প পুজি নিয়ে যে যুবকরা রাস্তায় হকার হিসেবে ব্যবসা করছে তাদেরকেও তুলে দেয়া হচ্ছে। বাজেটে ব্যাংক হিসাব পরিচালনায় যেসব উদ্ভট করারোপের প্রস্তাব করেছেন তাও বিভ্রান্তিকর। ভারতীয় রিলায়েন্স গ্রুপের সাথে দেশের স্বার্থের বিপরীতে এলএনজি বিদ্যূৎ প্রকল্পের চুক্তি করা হয়েছে। সরকারের এ সকল গণবিরোধী কর্মকান্ডের প্রতিবাদে যেন কার্যকর কোন আন্দোলন এসময়ে দানা বাঁধতে না পারে, সেজন্যই সরকার সাম্প্রদায়িকতার প্রসঙ্গ সামনে নিয়ে এসেছে। কিন্তু সাম্প্রদায়িকশক্তির সাথে আপষের পরিণতি কখনো শুভফল নিয়ে আসে না।, শেষ বিচারে পুরো বিষয়টি সাম্প্রদায়িকতার সামাজিকীকরণকেই উৎসাহিত করবে। যা আগামীর বাংলাদেশকে বিপর্যয়ের পথে ঠেলে দিচ্ছে।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ভাষ্কর্য স্থাপন, অপসারণ আবার স্থাপন সরকারের ভেতরের সমন্বয়হীনতা এবং সেইসাথে সরকারের সাম্প্রদায়িক মানসিকতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। ভাষ্কর্য অপসারণের প্রতিবাদে ছাত্র জনতার প্রতিবাদী শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশী হামলা, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী, ছাত্রনেতা মোরশেদ হালিম, রাফিন জয়ও উদীচীর নেতা আরিফ নূরকে গ্রেফতার করে অজামিনযোগ্য ধারায় মিথ্যা মামলা দায়ের, মানবাধীকার কর্মী সুলতানা কামালকে হুমকী প্রদান, গণজাগরন মঞ্চের নেতা ইমরান এইচ সরকার ও যুব ইউনিয়নের সাবেক নেতা বর্তমানে উদীচীর নেতা সনাতন উল্লাসের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের, হত্যার হুমকী প্রদান সত্বেও সাধারণ ডায়েরী লিপিবদ্ধ করতে অপারগতা প্রকাশ, ৫৭ ধারায় অপ্রাপ্তবয়ষ্ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিক্ষার্থী ছাত্র ইউনিয়ন নেতা চায়না পাটোয়ারীকে কারাগারে প্রেরণ এসব কিছুই সরকারের দমনমূলক আচরনের প্রকাশ।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ, অবিলম্বে প্রগতিশীল কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, হুমকীদাতাদের গ্রেফতার ও চায়না পাটোয়ারীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করেছেন।