সাদ্দাম জেনে গিয়েছিলেন, লঞ্চেই তাকে মেরে ফেলা হবে

32

সালেহ্ বিপ্লব : এফডিসির কর্মচারী সাদ্দামের (২৩) মৃতদেহ গত শনিবার বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার সুগন্ধা নদী থেকে উদ্ধার করে ময়না তদন্ত শেষে গতকাল সোমবার উজিরপুর উপজেলার ওটরা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে সাদ্দামকে দাফন করা হয়। গত ৩১ মে ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়ার পথে এমভি ফারহান-১০ লঞ্চে অজ্ঞান পার্টি ও লঞ্চের স্টাফদের আক্রমণের শিকার হয়েছিলেন সাদ্দাম। ধারণা করা হচ্ছে, সেরাতেই নদীতে ফেলে দেয়া হয়।

নিহতের বড় ভাই মো. আনিছ জানান, ঈদের ছুটিতে গত ৩১ মে ঢাকা-ভান্ডারিয়া লাইনের এমভি ফারহান-১০ লঞ্চে বাড়ির উদ্দেশে রওয়ানা হন সাদ্দাম। বাড়িতে আসার পথে লঞ্চের ভেতরে অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়েন তিনি। এ সময় তাদের সঙ্গে হাতাহাতি হয় সাদ্দামের। একপর্যায়ে লঞ্চের স্টাফরাও সাদ্দামের ওপর হামলা চালান। ওই হামলার কথা মুঠোফোনে রাত দেড়টার দিকে বড় ভাই আনিছ ও ভগ্নিপতি মাইনুল ইসলামকে জানান সাদ্দাম।

লঞ্চে সাদ্দাম নিজ এলাকার দুইজনকে পেয়েছিলেন যাদের একজনের নাম নাঈম। সাদ্দাম তার ভগ্নিপতি ভাগ্নে-ভাগ্নির জন্য কেনা নতুন পোশাক নাঈমের হাতে তুলে দেন। তিনি নাঈমকে বলে দেন, ‘আমি যদি কোনো কারণে বাড়িতে পৌঁছাতে না পারি তাহলে এই ব্যাগটা আমাদের বাড়িতে তুমি পৌঁছে দিও।’

এফডিসিতে কর্মরত নিহত সাদ্দামের বন্ধু আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘লঞ্চের কর্মচারীরা তাকে মেরে ফেলবে এ কথা সাদ্দাম আগেই বুঝতে পেরেছিলেন। কারণ আমাকে সাদ্দাম রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে আমার কাছে ফোন করে বলে, বন্ধু লঞ্চ স্টাফদের সাথে আমার হাতাহতি হয়। একপর্যায়ে তারা আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে এবং লঞ্চের স্টাফরা আমাকে ফলো করছে।’

সাদ্দামের ভগ্নিপতি মাইনুল ইসলামের অভিযোগ, শনিবার ভোরে তিনি বানারীপাড়ার মীরের হাট লঞ্চঘাটে সাদ্দামের খোঁজে যান। সেখানে তার কোনো সন্ধান না পেয়ে ওই দিন উজিরপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার জন্য গেলে পুলিশ অভিযোগটি আমলে নেয়নি। তার ধারণা সাদ্দাম হোসেনকে লঞ্চ থেকে ফেলে হত্যা করা হয়েছে।

পরে এ ঘটনায় নিহত সাদ্দামের ভগ্নিপতি ১০ থেকে ১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বাবুগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিবাকর চন্দ্র দাস বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত হৃদয় (২৬) নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কাজ চলছে।’-আমাদের সময়.কম