সাগরকন্যা কুয়াকাটা;খানা খন্দে ভরা রাস্তায় ভোগান্তি, সমুদ্র স্নানে স্বস্তি

ইসমাঈল হুসাইন ইমু, কুয়াকাটা থেকে ফিরে : সাগরকন্যা কুয়াকাটায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখতে প্রতিদিন হাজারো মানুষের ভীড় জমছে। তবে পটুয়াখালী বা অন্য এলাকা থেকে কুয়াকাটায় যেতে খানা খন্দে ভরা রাস্তায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পর্যটকদের। তবে সমুদ্র সৈকতে স্নান শেষে সেই ভোগান্তি ভুলে যায় সকলেই।
শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টা। কুয়াকাটার জিরো পয়েন্টের আশপাশের হোটেল, রিসোর্ট থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষের ভীড় সমুদ্রের দিকে যাচ্ছে। কেউ অটোরিকশা কেউ ভ্যান আবার কেউ পায়ে হেঁটে যাচ্ছেন সমুদ্র সৈকতের দিকে। কিছুক্ষণ পর শুরু হয় সূর্যোদয়ের দৃশ্য ধারণ। মোবাইল ফোনে আবার কেউনিজস্ব ক্যামেরায়। এছাড়া স্থানীয় ফটোগ্রাফারদের দিয়ে হাতের উপর সূর্য, পিছনে সূর্য অবার কখনো হাতের মুঠোয় সূর্যকে আবিষ্কারের চেষ্টা চলছে ক্যামেরায়।
বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়ে সমুদ্রের ঢেউ। এবার অন্যরকম দৃশ্য। প্রায় সকলেই নেমে পড়েন সমুদ্র স্নানে। কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতের মত অত বড় ঢেউ না হলেও ঢেউয়ের তালে নাচতে দেখা যায় সকলকেই। এর মধ্যে একদল ফটোগ্রাফার ছবি তুলেই যাচ্ছেন। যার ছবি তোলা হচ্ছে তার কাছে গিয়ে ছবি লাগবে কি না জানতে চান। অনেকে ফটোগ্রাফারদের তোলা ছবি নিতে রাজী হন। এছাড়া মুঠোফোনে সেলফি তোলার দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মত। কুয়াকাটা চৌরাস্তা থেকে পূর্ব-পশ্চিমে ৫/৬ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতীদের ছিল এক মিলন মেলা।
সমুদ্র স্নান শেষে হোটেলে ফেরার সময় চোখে পড়ে ২৫/৩০ জনের পেশাদার মটরসাইকেল চালকদের। এরা সকলেই পর্যটকদের ওই এলাকার বিভিন্ন স্পটে আনা নেয়ার কাজ করেন। লেবুরচর, ককড়ার চর, ঝাউবন, রাখাইন পল্লী, বৌদ্ধ মন্দিরসহ আরও কয়েকটি স্পট রয়েছে। শুধু মোটরসাইকেল নয় ভ্যান চালকেরাও একই সেবা দিয়ে থাকে। যাত্রীদের আয়েসের জন্য কুয়াকাটার এসব ভ্যানের উপর তোষক বিছানো দেখা গেছে। এরপর রাখাইন পল্লীর দিকে গিয়ে দেখা যায়, ১৭৮৪ সালে রাখাইনরা তৎকালীন বার্মার আরাকান হতে পালিয়ে এসে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার ৭ নম্বর লতা চাপালি ইউনিয়নে বসতি স্থাপন। বৌদ্ধধর্মাবলম্বী রাখাইনদের রয়েছে নিজস্ব বৈচিত্রপূর্ণ সামাজিক জীবন ও ভাষা। রাখাইন মহিলাদের ব্যতিক্রমধর্মী পরিধেয় বস্ত্র ও পর্যকদের জন্য আর এক আকর্ষণ। সেখানকার বৌদ্ধ মন্দিরের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ৩৬ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন সিমেন্টের তৈরি গৌতম বৌদ্ধের মুর্তি।
পুরানো এই বৌদ্ধমন্দির কুয়াকাটার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। মিস্ত্রীপাড়া থেকে ৭ কিলোমিটার কুয়াকাটার সদরে রয়েছে আরেকটি বৌদ্ধমন্দির। দৃষ্টিনন্দন মন্দিরের মধ্যে রয়েছে ৭ ফুট উঁচু আরেকটি সোনালী রঙের ধাতব বৌদ্ধ মুর্তি। মন্দিরের কাছেই রয়েছে প্রায় ২০০ বছরের পুরানো ২টি কুয়া। রাখাইনরা খাবার পানির চাহিদা মেটাতে এই কুয়া দু’টি খনন করে। জনশ্রুতি আছে এই কুয়া হতেই কুয়াকাটা নামের সৃষ্টি।
একাধিক পর্যটকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটায় যেতে রাস্তার বেহাল দশা। একমাত্র রাস্তা হওয়ায় বাধ্য হয়েই যান সকলেই। খানা খন্দে ভরা রাস্তার উন্নয়ন না করলে সৌন্দর্যমন্ডিত এই সমুদ্র সৈকতে যেতে মানুষের আগ্রহ কমে যাবে বলে মনে করেন তারা।-আমাদের সময়.কম