সাখাওয়াতের মৃত্যুদণ্ড, বাকি সাতজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

যুগবার্তা ডেস্কঃ মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় যশোরের জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য সাখাওয়াত হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ও বাকি সাতজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বুধবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ রায় দেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন—বিল্লাল হোসেন বিশ্বাস, ইব্রাহিম হোসাইন, শেখ মো. মজিবুর রহমান, এম এ আজিজ সরদার, আবদুল আজিজ সরদার, কাজী ওহিদুল ইসলাম ও আবদুল খালেক। আসামিদের মধ্যে সাখাওয়াত ও বিল্লাল কারাগারে আছেন।
এ মামলার প্রধান আসামি মাওলানা সাখাওয়াত হোসেনকে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর গ্রেপ্তার করা হয়।খাওয়াতের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে যশোরে একাধিক মামলা করা হয়। পরে ওই সব মামলা ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
২০১২ সালের ১ এপ্রিল সাখাওয়াতের বিরুদ্ধে মামলা তদন্ত করার জন্য নথিভুক্ত হয়। ২০১৩ সালের ১৩ নভেম্বর থেকে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেন আবদুর রাজ্জাক খান।
সাখাওয়াত ১৯৯১ সালে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য থাকা অবস্থাতেই তিনি জামায়াত ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দেন।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন সাখাওয়াত। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে নির্বাচন করে পরাজিত হন তিনি।
২০০১ সালের সপ্তম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে পরাজিত হন সাখাওয়াত। এর পর বিএনপি তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে। পরে তিনি এইচ এম এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন।
সাখাওয়াতসহ আটজনের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রথম অভিযোগ : যশোরের কেশবপুর উপজেলার বোগা গ্রামে এক নারীকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও ধর্ষণ।
দ্বিতীয় অভিযোগ : একই উপজেলার চিংড়া গ্রামের চাঁদতুল্য গাজী ও তাঁর ছেলে আতিয়ারকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও হত্যা।
তৃতীয় অভিযোগ : কেশবপুরের চিংড়া গ্রামের মো. নুরুদ্দিন মোড়লকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন।
চতুর্থ অভিযোগ : কেশবপুরের হিজলডাঙ্গার আ. মালেক সরদারকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও খুন।
পঞ্চম অভিযোগ : কেশবপুরের মহাদেবপুর গ্রামের মিরণ শেখকে অপহরণ, আটক, নির্যাতন এবং ওই গ্রামে অগ্নিসংযোগ ও লুণ্ঠন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে যশোরে একাধিক মামলা হলে সেগুলো ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।