সরকার নির্ধারিত দামে ধান ক্রয়ের দাবিতে ২৩ মে জেলায় জেলায় ডিসি অফিস ঘেরাও

যুগবার্তা ডেস্কঃ পুরানা পল্টনের মুক্তিভবনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতির জাতীয় পরিষদের সভা এড. এস এম এ সবুরের সভাপতিত্ব আজ সকালে অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে কৃষক ও কৃষির সংকট নিয়ে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন।

মাঠ পর্যায়ে ধানের দাম ও এই সংক্রান্ত পরিস্থিতি তুলে ধরেন সিরাজগঞ্জের কৃষক নেতা ইসমাইল হোসেন, রংপুরের কৃষকনেতা আলতাফ হোসেন, সুনামগঞ্জের কৃষকনেতা অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার, খুলনার এস এ রশিদ, বাগেরহাটের কাজী সেকেন্দার আলী, কিশোরগঞ্জের এনামুল হক ইদ্রিস, ময়মনসিংহের আবুল হাশেম, পটুয়াখালীর মোতালেব মোল্লা, চট্টগ্রামের মো. নবী, পুলক কুমার দাশ, বগুড়ার সন্তোষ পাল, মৌলভীবাজারের জহর লাল দত্ত, গাজীপুরের লীনা চক্রবর্তী, নোয়াখালীর নূর মোহাম্মদ, কুমিল্লা সুজাত আলী প্রমুখ।

বর্তমানে কৃষি ও কৃষক যেসব সংকট মোকাবেলা করছে তা নিরসনে একটি কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলার কৌশল ও কর্মসূচি নির্ধারণে এই সভায় দেশের প্রায় ৫০টি জেলা থেকে কৃষক আন্দোলনের নেতারা এই সভায় অংশগ্রহণ করে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

বক্তারা বলেন, আমাদেরকে ধান, আলু, সবজির পাশাপাশি মৎস ও প্রাণিজ সম্পদের সমস্যাগুলো নিয়েও কথা বলতে হবে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় আধিবাসীরা তাদের জমি থেকে উচ্ছেদ হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ ও ভূমি অফিসের দুর্নীতি অতীতের যে কোনো রেকর্ড ছাড়িয়েছে। সভায় বলা হয় সর্বগ্রাসী সংকটে নিমľিত কৃষি রক্ষার জন্য টোটকা কোনো চিকিৎসায় কাজ হবে না। এখানে কৃষক ও ভোক্তার পরস্পর বিরোধী স্বার্থের মধ্যে সমন্বয় আনতে হবে। সেজন্য দরকার হলো কৃষির খরচ কমিয়ে আনা। সরকারি উদ্যোগে বীজ, সার, কীটনাশক সরবরাহ করে কৃষককে বহুজাতিক কোম্পানির বীজ বেনিয়াদের খপ্পর থেকে রক্ষা করতে হবে। বিএডিসি’র ৯ হাজার লোকবল থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে ৪ হাজারের কম লোকবল নিয়ে বিএডিসি চলছে। সভায় বলা হয় সরকার তার গদি পাহাড়া দিতে বিভিনś বাহিনীর সদস্য বাড়াতে যতটা তৎপর বিএডিসি’র মতো প্রতিষ্ঠানের লোকবল বাড়াতে মোটেই আন্তরিক নয়।
আগামী বাজেটে কৃষিখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, ধান ক্রয়ে লক্ষ্যমাত্রার পরিমাণ বৃদ্ধি, প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে সরাসরি ধান কিনতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দ্রুততার সাথে অপসারণ, প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য গুদাম নির্মাণ, কৃষিঋণ আদায়ের জন্য কৃষকের নামে সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার ও গ্রেফতারি পরোয়ানা বন্ধের দাবিতে আগামী ২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার জেলায় জেলায় ডিসি অফিসের সামনে বিক্ষোভ, অবস্থান ও ঘোরাও কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর আগে সকালে একটি বিক্ষোভ মিছিল পুরানা পল্টন-বাইতুল মোকাররম-তোপখানা রোড প্রদক্ষিণ করে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত করে।