সরকার নারী নির্যাতনের ঘটনাকে বিচারহীন অবস্থায় রেখে দিতে চায় না—আইনমন্ত্রী

2

যুগবার্তা ডেস্কঃ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, মানবাধিকার সম্পর্কিত সরকারের অনেক অর্জন বা সাফল্য রয়েছে।তবে অনেক অর্জনের মধ্য দিয়েও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। বিশেষ করে নারী নির্যাতন বন্ধের ক্ষেত্রে। তিনি বলেন, সরকার ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের অন্যান্য ঘটনাকে কোনভাবেই বিচারহীন অবস্থায় রেখে দিতে চায় না এবং রেখে দিবে না। এ বিষয়ে সরকার অনেক সজাগ রয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারী সংস্থা/সংগঠনগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন। কারণ তারা নারী নির্যাতন প্রতিরোধে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যাপক কাজ করছে।
আজ ঢাকায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অডিটোরিয়ামে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ) আয়োজিত ‘মানুষের জন্য মানবাধিকার পদক-২০২০’ শীর্ষক সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির সাথে মানবাধিকার অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়তি।সেজন্য সরকার সকল উন্নয়নের প্রয়াসে Human Rights based approach বা মানবাধকিার ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে আসছে।তিনি আশা করেন, সমাজের সকল স্তরে জনগণের সক্রিয় সহযোগিতার মাধ্যমে মানবাধিকার রক্ষায় সরকারের আন্তরিক পদক্ষেপগুলো অধিক ফলপ্রসূ হবে এবং আমরা প্রতষ্ঠিা করতে পারব বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বৈষম্যমুক্ত সোনার বাংলা।
আনিসুল হক বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার সকল ক্ষেত্রে ‘আইনের চোখে সমতা’ নীতিকে প্রাধান্য দিয়ে আসছে এবং এ লক্ষ্যে সরকার সকল নাগরিকের আইনের আশ্রয় লাভ, জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার রক্ষা এবং বাকস্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতকল্পে সদা নিয়োজিত রয়েছে। ফলশ্রুতিতে প্রতিটি নাগরিক ধর্ম, শিক্ষা, সমিতি, পেশা, বাণিজ্য ইত্যাদির ক্ষেত্রে সংবিধান মোতাবেক পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করে থাকেন। মানবাধিকার বিষয়ক এনজিওসমূহ মানবাধিকার সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়সমূহকে গঠনমূলকভাবে প্রান্তিক জনগণের সামনে উপস্থাপন করছে এবং বাংলাদেশের প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়াসমূহও নির্ভয়ে ও পক্ষপাতহীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। যা নাগরিক সমাজের মানবাধিকার সম্পর্কিত বিষয় সম্পর্কে সক্রিয় এবং সোচ্চার মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।
এমজেএফ-এর গভর্নিং বোর্ড-এর সদস্য পারভীন মাহমুদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এডভোকেট সুলতানা কামাল, ডিএফআইডি বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ জুডিথ হার্বাটসন, ঢাকাস্থ সুইডিশ দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ক্রিসটিন জোহানসন, এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক কে. এম. আব্দুস সালাম, এমজেএফ-এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

মানবাধিকার রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এমন নিভৃতচারী ১০ জন মানবাধিকার কর্মীকে অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রদান করা হয়। ২০২০ সালের ‘মানুষের জন্য মানবাধিকার পদক’ প্রাপ্তরা হলেন: গাইবান্ধা জেলার মোছাঃ বেলী বেগম, দিনাজপুর জেলার মোছাঃ রেহানা বেগম মালতী রানী, কুষ্টিয়া জেলার মোছাঃ সালেহা বেগম, মোছাঃ হালিমা খাতুন, এবং মোছাঃ নুরজাহান বেগম, সিরাজগঞ্জ জেলার মোঃ খায়রুজ্জামান মুননু, কিশোরগঞ্জ জেলার আনোয়ারা বেগম, ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার মোঃ হেদায়তুল আজিজ (মুন্না) এবং খাগড়াছড়ি জেলার চঞ্চল কান্তি চাকমা।