সকল বৃত্ত ভেঙ্গে রেকর্ড পরিমাণে প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশে

যুগবার্তা ডেস্কঃ বর্তমানে দেশবাসীর মাথাপিছু আয় বেড়ে  হয়েছে ১ হাজার ৬১০ মার্কিন ডলার, প্রতি ডলার সমান ৮০ টাকা ধরে বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার ৮০০ টাকা। জাতীয় আয় বাড়ার পাশাপাশি মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও বেড়েছে। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। মঙ্গলবার শেরেবাংলা নগর একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিক সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে রাজধানীর শেরে বাংলানগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিবিএস এর প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।
পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা আরো বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আয় ৮ ডলার বেড়েছে। গত অর্থবছরে দেশবাসীর মাথাপিছু আয় ছিলো ১ হাজার ৬০২ ডলার বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার ১৬০ টাকা। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে  মাথাপিছু আয় ছিল ১৩১৬ ডলার। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৭ দশমিক ১০ শতাংশ সেটা বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। এর ফলে জিডিপি’র আকার বেড়ে হয়েছে ২৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশ স্বাধীনের ৩৪ বছরে জিডিপির আকার ছিলো ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলা সেটা এখন ২৫০ বিলিয়ণ মার্কিন ডলার। মূলত জিডিপি’র প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধির কারণেই মানুষের গড় মাথাপিছু আয়ও বেড়েছে। গরুত্বপূর্ণ তিনটা খাতের মধ্যে কৃষিখাতে ২ দশমিক ৯৭, শিল্পখাতে ১০ দশমিক ২২ ও সেবাখাতে ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা বলেন, এটা আমাদের নতুন ইতিহাস বৃত্ত ভেঙ্গে এখন রেকর্ড পরিমোণে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। আমাদের মাথাপিছু আয়ও বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৬১০ মার্কিন ডলার। ২০১৯ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের ওপরে যাবে। আশা করছি ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৯ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে থাকবে। তাহলেই আমরা আমাদের ২০৪১ সালের প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন করতে পারবো। বর্তমানে সারা বিশ্বে কম সময়ে মাত্র তিনটা দেশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশের ওপরে অর্জন করলো। বাকি দেশ দু’টি কম্বোডিয়া ও ইউথুপিয়া।
অন্যদিকে আজকের একনেকের অন্যতম প্রধান প্রকল্প হল ‘শেখ হাসিনা সেনানিবাস বরিশাল স্থাপন’ প্রকল্প। এটি হবে দেশের ৩১তম সেনানিবাস, দেড় হাজারের বেশি একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে যাওয়া সেনানিবাসটি হবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে সেনানিবাসের নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে সেনা সদর ও পূর্ত পরিদপ্তর।
দেশের দক্ষিণাঞ্চলে একটি সেনানিবাস স্থাপন অত্যন্ত জরুরি। দক্ষিণাঞ্চলের ছয়টি জেলায় বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটলে ২০০ কিলোমিটার দূরের যশোর সেনানিবাসের সহায়তা নিতে হয়। এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে সরকারের বেশ কিছু মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে। দুর্যোগ মোকাবেলার পাশাপাশি সেসব প্রকল্পে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বরিশালে একটি সেনানিবাস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেনানিবাসটি মূলত বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলার মধ্যে পায়রা নদীসংলগ্ন এলাকায় লেবুখালীতে পড়ছে।  বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯টি ডিভিশনের আওতায় দেশে এখন ৩০টি সেনানিবাস রয়েছে। তবে দক্ষিণাঞ্চলের বৃহৎ উপকূলীয় এলাকা বরিশাল ও পটুয়াখালীতে সেনানিবাস নেই। জাতীয় নিরাপত্তা ও দুর্যোগ মোকাবেলায় দক্ষিণে একটি সেনানিবাস গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এর মাধ্যমে সরকার ঘোষিত ফোর্সেস গোল-২০৩০-এর আওতায় আন্তর্জাতিক মানের সেনাবাহিনী গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী।
প্রকল্প এলাকাটি চরাঞ্চল হওয়ায় সেখানে জনবসতি গড়ে ওঠেনি। ফলে ঘরবাড়ি কিংবা স্থাপনার জন্য কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের প্রয়োজন পড়বে না। প্রস্তাবিত সেনানিবাসে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে প্রায় ১৭ হাজার। পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে খরচ হবে এক হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা। এ ছাড়া তিন হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ চলছে পায়রায়। সেখানে দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল নির্মাণের কাজও চলছে। একই সঙ্গে একটি বিমানবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। দক্ষিণাঞ্চলজুড়ে সরকারের নেওয়া এসব মেগা প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনানিবাসটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের ছয় জেলা বরিশাল, বরগুনা, ঝালকাঠি, পটুয়াখালী, পিরোজপুর ও ভোলা উপকূলবর্তী জনপদ। এই সেনানিবাসের কাজ শেষ হলে উপকূলীয় অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করা সহজ হবে।
আজকের একনেকের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো হলে- মোংলা বন্দর চ্যানেলের আউটার বারে ড্রেজিং প্রকল্প, শালিখা (মাগুরা)-আড়পাড়া-কারিগঞ্জ (ঝিনাইদহ) জেলা মহাসড়ক প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ প্রকল্প, বরিশাল (দিনারেরপুল)-লক্ষীপাশা-দুমকী জেলা মহাসড়কের ১৪তম কিলোমিটারে রাঙ্গামাটি নদীর উপর গোমা সেতু নির্মান প্রকল্প, বৃহত্তর খুলনা ও যশোর জেলা ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্প, বৃহত্তর বগুড়া ও দিনাজপুর জেলা ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্প, ভেড়ামারা (বাংলাদেশ)-বহরমপুরের(ভারত) দ্বিতীয় ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন (বাংলাদেশ অংশ) নির্মান প্রকল্প, জাতীয় চিত্রশালা এবং জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্রের সম্প্রসারণ ও অসমাপ্ত কাজ সমাপ্তকরণ প্রকল্প, ঝিনাইদহ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপন (৩য় সংশোধিত) প্রকল্প এবং ইনস্টিটিউট অব বায়োইকুভ্যালেন্স স্টাডিজ এন্ড ফার্মাসিটিক্যাল সাইন্সেস প্রতিষ্ঠাকরণ প্রকল্প।

আজকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ৫ম একনেক সভায় উপস্থাপিত ৫টি (নতুন) প্রকল্পরে মোট ব্যয় ৩৪ হাজার ৫৬৭ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে জিওবি ১২ হাজার ৪০২ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য ২২ হাজার ১৬৪ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা।
আজকের ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ১০ম একনেক সভায় উপস্থাপিত ১০টি (নতুন ও সংশোধিত) প্রকল্পরে মোট ব্যয় ৩ হাজার ৩৩৩ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে জওবি ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ৩৯ লক্ষ টাকা, সংস্থার নিজস্ব র্অথায়ন ১৫ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা।
আজকের একনেক সভায় মন্ত্রীবর্গসহ উবর্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল একনেক শেষে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলো নিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।