সংবিধানের কোথাও ‘মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দের উল্লখ নেই

যুগবার্তা ডেস্কঃ রোববার রাজধানীর পুরানা পল্টন প্রগতি সম্মেলন কক্ষে ‘একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা’ সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল আহবায়ক মুক্তিযোদ্ধা আবীর আহাদ ও সদস্য সচিব মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল বাশারের নেতৃত্বে কমিউনিস্ট পার্টির সাথে মতবিনিময় করে।

সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সিপিবির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পার্টির সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান খান, কন্ট্রোল কমিশনের সদস্য মোর্শেদ আলী, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শামছুজ্জামান সেলিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, কোষাধ্যক্ষ মাহাবুবাল আলম, সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স ও আহসান হাবীব লাবলু। একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন কামাল আহমেদ, মতিউর রহমান, নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

মতবিনিময় সভার শুরুতে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম প্রতিনিধি দলের সদস্যদের স্বাগত জানান। আবীর আহাদ সূচনা বক্তব্যে সংগঠনের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবিধানিক স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে ও মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধাদের নাম অপসারণ করারর দুটি দাবি তুলে ধরেন।

মুক্তিযোদ্ধা আবীর আহাদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘মুক্তিযুদ্ধ’ শব্দটি নেই এবং সংবিধানের কোথাও ‘মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দের উল্লখ নেই। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বকে স্মরণ করে সংবিধানের যথা স্থানে ‘মুক্তিযুদ্ধ’ ও ‘মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দদ্বয় সন্নিবেশিত করার দাবি জানান।

তিনি আরো বলেন, বারবার মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা পরিবর্তন করে ক্ষমতাসীন দলগুলো তাদের দলীয় সমর্থক অমুক্তিযোদ্ধাদেরও তালিকাভুক্ত করেছে। অনেক মুক্তিযুদ্ধবিরোধীও তালিকাভুক্ত হয়ে আছে। তিনি অবিলম্বে তালিকাভুক্ত মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের তালিকা থেকে অপসারণের দাবি জানান।

জনাব আবীর আহাদ তাঁর সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি দুটো আদায়ের জন্য সিপিবি’র সহযোগিতা কামনা করেন।

সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের দাবিসমূহের সাথে ঐকমত্য পোষণ করে বলেন, অবিলম্বে মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের মুক্তিযুদ্ধ তালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। তাদের কর্তৃক গৃহিত আর্থিক সুবিধাদি আদায় করে নিতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ দীর্ঘ জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের সশস্ত্র অধ্যায়। মুক্তি সংগ্রাম চলমান। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ। এ যুদ্ধে জনগণের অবদানকে খাটো করে দেখা যাবে না। এ যুদ্ধ কোন ব্যক্তির একক কৃতিত্ব নয়। গুটি কয়েক মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ব্যতিত সমগ্র জাতি এ যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। তবে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অবশ্যই অগ্রাধিকার পাবেন তারা, যারা সশস্ত্র লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। অন্যদেরকেও যথাযোগ্য মর্যাদা দিতে হবে।
সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম উপস্থিত সকল মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে পরিচালিত করার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান।