শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ালেন হিজড়া নারী

যুগবার্তা ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রে এক হিজরা নারী একটি শিশুকে তার বুকের দুধ খাওয়াতে সক্ষম হয়েছে, যাকে সম্ভবত এ ধরনের প্রথম ঘটনা হিসেবেই মনে করছেন গবেষকরা।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছর বয়সী এক হিজড়া নারী (ট্রান্সজেন্ডার) একটি শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে সক্ষম হন। ওই হিজরা নারীর পার্টনার তার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে অনীহা দেখালে তিনি (হিজরা) এই কাজটি করতে এগিয়ে আসেন এবং সফলও হন বলে ট্রান্সজেন্ডার হেলথ নামে একটি সাময়িকীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বলা হচ্ছে, বেশ কিছু ওষুধ খাওয়া এবং ব্রেস্ট পাম্পিংয়ের পর এটা করা সম্ভব হয়েছে।

এই খবর প্রকাশিত হওয়ার পর যুক্তরাজ্যের একজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, এটি একটি দারুণ ঘটনা। তিনি বলেন, এ নিয়ে গবেষণার পর হয়তো আরো অনেক হিজড়া নারী শিশুকে তার বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ওই হিজরা নারীর শরীরে গত ছয় বছর ধরে হরমোন থেরাপি চলছিল। কিন্তু লিঙ্গ পরিবর্তনের জন্যে তার শরীরে কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার হয়নি।

শিশুটির জন্মের আগে চিকিৎসকরা তার বুকে কৃত্রিমভাবে দুধ তৈরির জন্যে তাকে সাড়ে তিন মাস ধরে কিছু চিকিৎসা দিচ্ছিলেন। সাধারণত যেসব নারী শিশু দত্তক নিয়ে থাকে অথবা নিজের গর্ভে অন্যের শিশু জন্ম দিয়ে থাকে (সারোগেট মা) তাদেরকে এই চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এসব চিকিৎসার মধ্যে আছে ব্রেস্ট পাম্পিং, মায়েরা সাধারণত যেসব হরমোন উৎপাদন করে থাকে সেগুলো গ্রহণ করা, দুধ তৈরির জন্যে উদ্দীপ্ত করতে পারে এরকম ওষুধ খাওয়া এবং পুরুষ হরমোন উৎপাদন আটকে দেওয়া।

এসব চিকিৎসার পর ওই হিজড়া নারী শিশুর জন্যে উপযোগী দুধ বের করতে সক্ষম হন। খবরে বলা হয়েছে, প্রতিদিন তার বুকে ৮ আউন্সের মতো দুধ তৈরি হচ্ছে।

গবেষকরা বলছেন, নবজাতকের জন্মের পর প্রথম ছয় সপ্তাহ এই বুকের দুধই তার পুষ্টির প্রথম উৎস। এই সময়ের মধ্যেই শিশুর শারীরিক বিকাশ, খাওয়া দাওয়া এবং পেটের ভেতরে খাবারের হজম পক্রিয়া কিরকম হবে সেটা তৈরি হয়।

এই শিশুটির ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে, বুকের দুধ খাওয়ার পাশাপাশি তাকে এখন ফর্মুলা দুধও দেওয়া হচ্ছে। কারণ তার জন্যে পর্যাপ্ত বুকের দুধ তৈরি হচ্ছে না।এই মেয়ে শিশুটির বয়স এখন ৬ মাস। তার ডায়েটের অংশ হিসেবেই তাকে আবার বুকের দুধ খাওয়ানো হচ্ছে।

ইম্পেরিয়াল কলেজের শিক্ষক হরমোন বিশেষজ্ঞ ড. চান্না জয়াসেনা বলেন, এটি দারুণ একটি ঘটনা।

তিনি জানান, যুক্তরাজ্যে তিনি এরকম দু’একটি ঘটনার কথা শুনেছিলেন যেখানে হিজড়া নারীরা বুকের দুধ খাওয়ানোর ব্যাপারে এগিয়ে এসেছেন। তবে এ ধরনের কোনো সাফল্যের ব্যাপরে কোনো রিপোর্ট তার চোখে পড়েনি।

ড. জয়সেনা বলেন, ‘এখন এসব ঘটনা নিয়ে আমাদের আরো গবেষণা করতে হবে। আমরা যা কিছু জানি সেটা অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করতে হবে। তাদের যাতে স্বাস্থ্যগত অন্য কোনো ঝুঁকি তৈরি না হয় সে বিষয়েও খেয়াল রাখতে হবে।’

তবে এই হিজড়া নারীর বুকে দুধ তৈরি হওয়ার জন্যে যতো ধরনের চিকিৎসা চালানো হয়েছে তার সবগুলোরই দরকার ছিল কিনা সেটা নিয়ে গবেষকরা খুব একটা নিশ্চিত নন।

ড. জয়াসেনার মতে, বলেন, হিজড়া নারীদের বুকের দুধের ব্যাপারে আরো গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।-সমকাল