শিক্ষা বাণিজ্যের কারণেই প্রশ্নফাঁস হচ্ছে–মেনন

যুগবার্তা ডেস্কঃ সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষার অনেক উনśয়ন হয়েছে, কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো শিক্ষার বাণিজ্য এতই প্রকট আকার ধারণ করেছে যে, তা শিক্ষার্থীদের কলিজায় হাত দিয়েছ। শিক্ষা বাণিজ্যের কারণেই প্রশ্নফাঁস হচ্ছে। ফাঁস কর প্রশ্ন দিয়ে পাস করা যায়, জিপিএ-৫ পাওয়া যায় কিন্তু শিক্ষিত হওয়া যায় না। প্রতিযোগিতার পৃথিবীতে টিকে থাকা যায় না। সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবককে এর বিরুদ্ধে ঘৃণা জাগ্রত করতে হবে। রক্ষা করতে হবে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে।

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতির বক্তব্যে রাশেদ খান মেনন এসব কথা বলেন।

প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান টিটুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় রাশেদ খান মেনন আরও বলেন বঙ্গবন্ধু খুদরত-ই- খুদা শিক্ষা কমিশন করেছিলেন কিন্তু ৭৫ এর পর সেই কমিশন আলোর মুখ দেখে নি। মজিদ খানের শিক্ষানীতি প্রতিরোধ করতে গিয়ে জীবন দিয়েছে আমাদের ছেলে-মেয়েরা। বর্তমান সরকার শিক্ষার উনśয়ন করছে। জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করে শিক্ষার ভিত্তি রচনা করতে সক্ষম হয়েছে। শিক্ষাক্ষেত্রে প্রসার হচ্ছে, কিন্তু সেই অর্জনকে ধূলিসাৎ করছে অব্যাহত প্রশ্নফাঁস।
মাদ্রাসা শিক্ষা প্রসঙ্গে সরকারের এই জেষ্ঠ্য মন্ত্রী বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষা জাতিতে ধবংস করছে। অনেকেই মাদ্রাসায় পড়ে অথচ সুরা ফাতিহা জানে না, নামাজের নিয়ম বলতে পারে না।
মেনন বলেন, তথ্য প্রযুক্তির উনśয়ন হচ্ছে। এটাকে কাজে লাগাতে হবে। ফেসবুকের গুরুত্বকে অস্বীকার করি না, তবে কেবল ফেসবুক নিয়ে থাকলে হবে না। ভালো কাজে তথ্য প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে হবে। ফেসবুকে ডুবে থাকলে মস্তিস্ক নিক্রীয় হয়ে যাবে। একথা ফেসবুক নির্মাতাই বলেছেন।

মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, মাদক সর্বনাশ ডেকে আনছে। সকল শিক্ষক, অভিভাবক মিলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তুলতে হবে।

জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে মেনন বলেন, বিশ্বায়নের যুগে আমাদের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে। তারা জঙ্গিবাদে আকৃষ্ঠ হচ্ছে। জঙ্গবাদ ধর্মের কথা বললেও, ধর্মকে বিকৃত ও অস্বীকার করাই হলো জঙ্গিবাদের কাজ। শিক্ষার্থীদের এ বিষয়েও সচেতন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশেষ অথিতি রইসুল ইসলাম ময়না, ঢাকা জেলা শিক্ষা অফিসার বেনজির আহমেদ, প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আবুল হোসেন। শেষে পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।