এম আর ফারজানা: শাহিন-টুরেসি এই দম্পতি দুজনেই মুসলিম, গবেষক । তাদের করোনা ভাইরাসের টিকা আবিস্কারের দ্বারপ্রান্তে। প্রায় ৯৫% ভাগ সফল। তাদের গবেষণা কেন্দ্রে শুধু মুসলিম নয়, অন্য ধর্মের লোকেরাও গবেষণা করে।
তাদের উদ্দেশ্য মহৎ। মানুষকে বাঁচানো। কই তাদের মাঝে তো ধর্ম নিয়ে বিবাদ নেই! তারা তো কাউকে বলেছে না কল্লা ফেলে দেবে তাদের গবেষণায় অন্য ধর্মের কেউ এলে। বরং বিদ্বেষ, হিংসা করব দিয়ে অন্যদের ও সুযোগ করে দিচ্ছে। সৎ আর মহৎ উদ্দেশ্যে কাজ করছে বলে তারা এতদূর এসেছে। কিছুদিন পর হয়ত বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে যাবে তাদের টিকা। সেই সাথে তাদের নামও। তারা কিন্তু এ কথা বলেছে না যে আমাদের টিকা শুধু মুসলমানেরা পাবে অন্য ধর্মের কেউ পাবে না ,বরং যাতে সর্ব স্তরের ,সব ধর্মের লোকেরা পায় সে চেস্টাই করছে। চুক্তি হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে। যদি ও অর্থনৈতিক একটা ব্যপার আছে এই চুক্তির মাধ্যমে। তার চেয়ে বর কথা মানুষের প্রাণ বাঁচানো।
উগুর শাহিনের জন্ম তুরস্কে। শৈশবে বাবা-মার সাথে জার্মানিতে চলে আসেন। অর্থনৈতিকভাবে তখন এত সচ্ছল ছিল না। কিন্তু শাহিন ছিলেন মেধাবী। পড়াশোনা করেন গণিত ও মেডিসিন নিয়ে কোলন বিশ্ববিদ্যালয়ে । এরপর গবেষক হিসাবে যোগ দেন জারল্যাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। তিনি মুলত ক্যান্সারের ঔষধ আবিস্কারের জন্য গবেষণা করতেন। টুরেসির জন্ম জার্মানিতে।তিনিও ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসার জন্যে কাজ করতেন। কাজের সুত্রেই পরিচয় হয় দুজনের এবং পরবর্তিতে বিয়ে। ২০০৮ সালের দিকে এসে বায়োএনটেক প্রতিষ্ঠা করেন তারা যেখানে ক্যান্সারের ঔষধ আবিস্কারের গবেষণা চলত। কিন্তু করোনা ভাইরাস যখন হানা দিল বিশ্বব্যাপী ,যখন লাখে লাখে মানুষ মরতে লাগল তখন তারা করোনা ভাইরাসের টিকা আবিস্কারের জন্য গবেষণায় নেমে গেলেন। বলা যায় সফল ও এই দম্পতি। তারা মুসলিম বলে কি জার্মান সরকার তাদের গবেষণা বন্ধ করতে বলেছে ? না বলেনি, বরং তাদের সুবিধা মত তারা কাজ করে যাচ্ছে যা মানুষের কল্যানে কাজে লাগবে। আসলে বিদেশে প্রত্যেকে প্রত্যেকের ধর্ম পালন করে। পাশাপাশি মানবিক ও তারা। কেউ কাউকে জিজ্ঞেস করতে যায় না কে পালন করল কে করল না । সবার কাছেই ধর্ম ব্যক্তিগত বিষয় তাই সবাই এত সহনশীল। তাই মেধাবী হলে মেধার বিকাশ ও ঘটে।
যাই হোক আমার লেখার বিষয় যদি ও এই মুসলিম দম্পতিকে নিয়ে , তাদের সফলতা নিয়ে , দেশের মানুষের অবস্থা দেখে ধর্মের কথা চলে আসছে। আমি যেটা বলতে চাইছি হিংসা ,বিদ্বেষ দূরে রেখে কাজ করে গেলে সফলতা আসবেই। আপনি মানবিক হলে উদ্দেশ্য মহৎ হলে ধর্ম আপনার কাজের মধ্যেই থাকবে। আমি শুভেচ্ছা জানাই এই দম্পতিকে। হয়ত এ মাসের শেষের দিকেই তাদের করোনা ভ্যাক্সিন বাজারে চলে আসবে। তাদের দীর্ঘায়ু কামনা করি।-লেখক: একজন সাংবাদিক ও প্রবাসী নিউ জার্সি , যুক্তরাষ্ট্র।