‘শহীদ রাসেল লাল সালাম’

রফিকুল ইসলাম সুজনঃ আজ ২৮ অক্টোবর। জামাত-বিএনপি জোটের হাত থেকে দেশ রক্ষার দিন। ২০০৬ সালের এই দিনে সারাদেশব্যাপী চলছিল অবরোধ। তখন ছাত্র সংগঠনের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছি। এই দিন ঢাকার বাইরে ছিলাম, তবে অবরোধ সফলে ছিলাম রাজপথে। সারদেশের খবর নিচ্ছিলাম, আন্দোলনের মুল কেন্দ্রস্থল রাজধানী ঢাকারও। তখন বাপ্পাদিত্য বসু ছিলো ছাত্র মৈত্রী’র সাংগঠনিক সম্পাদক। পল্টনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ছিলো উত্তপ্ত। পল্টন-তোপখানা এলাকায় ছাত্র মৈত্রী’র একটি ছোট টিম ছিলো। বাপ্পা ওখান থেকে ফোনে আমাকে সব খবারখবর জানাচ্ছিলো। চারিদিক থেকে জামাত-শিবিরের চলছিলো হামলা, গুলি, বোমাবর্ষণ। এ অবস্থায় কিভাবে মাঠে থাকবে দফায় দফায় ফোনে বুদ্ধি পরামর্শ লেনদেন করছি। আমাদের পার্টি, ছাত্র-যুবরা একই সাথে অংশগ্রহণে ছিলো। তখন সিনিয়রদের কারা ছিলেন নাইবা বললাম। আর তখন যাদের অস্তিত্বও ছিলো না, কিন্তু এখন তারাই বড় বড় বুলি আওড়াচ্ছে। মুলত তখন ছিলো সাধারন কর্মীরা। তেমনি নিবেদিত মিছিলে আজকের শহীদ রাসেল আহমেদও ছিলেন। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা দিন আনা দিন খাওয়া রাসেল। শুরুটা ছাত্র মৈত্রী, তারপর যুব ও শ্রমিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত। দলের প্রতি ছিলো ব্যাপক আস্থা। তাই অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখতে গিয়ে আজকের এই দিনে শহীদ হতে হলো তাকে। যার রক্তের উপর দাঁড়িয়ে আমরা তথা ১৪ দল, বিশেষ করে ওয়ার্কার্স পার্টি ক্ষমতায়। এমনকি আজ এমপি, মন্ত্রী।
কিন্তু সেদিনের ইচ্ছা, স্বপ্ন কতোটুকু বাস্তবায়ন করতে পেরেছি? শহীদ রাসেলের নিজ এলাকা যশোরে তার নামে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করা হয়েছে। কিন্তু সরকারি স্বীকৃতিটুকু এখনও মেলেনি। যা আমাদের জন্য লজ্জা ও দুঃখজনক। রাসেলের সহযোদ্ধারাও বঞ্চিত।আমাদের তপন সাহা যিনি রাসেলের ঘনিষ্ঠ সহচর, যার মুখ থেকে অনেক কিছু জানার আছে রাসেল সম্পর্কে, সুযোগ দেইনা তাকে।তার নামওটাও ঠিক মত লিখিনা, পোষ্টারে নামের বানান করি ভুল! জানিনা রাসেল কিভাবে আমাদের ক্ষমা করবেন। ভালো থেকো রাসেল। লাল সালাম কমরেড। একদিন তোমার স্বপ্নের জয় হবে।