লুটেরা ধনীক শ্রেণীর বিরুদ্ধে গরিব মধ্যবিত্তদের সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে–মেনন

যুগবার্তা ডেস্কঃ কেবল মাত্র সমাজতন্ত্রের সংকট নয়, বিশ্ব পুজিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের সংকট বুঝতে হলে মার্কসের কাজ থেকে দীক্ষা নিতে হবে। বর্তমান নয়া উদানৈতিক অর্থনীতির ফলে মানুষে মানুষে যে ˆবষম্য সৃষ্টি হয়েছে তা বুঝতে হলে মার্কসের কাছে ফিরে যেতে হবে। মানুষে মানুষে এই ˆবষম্য দূর করতে হলে কার্ল মার্কস থেকে শিক্ষা-দীক্ষা নিয়ে অর্থনীতিকে ঢেলে সাজাতে হবে। এছাড়া অন্য কোন বিকল্প নাই। মার্ক অন্তত আমাদেরকে সেই শিক্ষাই দিয়েছে। বাংলাদেশে সংবিধানে মৌল নীতির অন্যতম হচ্ছে গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র। বাংলাদেশ সংবিধানে এই মৌলনীতি গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রে পথ ধরেই এগুতে হবে। এছাড়া অন্য পথে বাংলাদেশে মানুষে মানুষে এই প্রকট ˆবষম্য দূরীকরণ সম্ভব নয়। নয়া উদারবাদী অর্থনীতি ধারা বাংলাদেশকে গভীর সংকটের মধ্যে ফেলে দিবে। বৃদ্ধমান নায়া উদারবাদী অর্থনীতির ফলে এক লুটেরা ধনীক শ্রেণী ˆতরী হচ্ছে। যাদের মধ্যে স্বদেশ প্রেম বলতে কিছু নেই। তারা দেশের সম্পাদ বিদেশে পাচার করতে দ্বিধা করে না। এই লুটেরা ধনীক শ্রেণীর বিরুদ্ধে দেশের গরিব-মধ্যবিত্ত শ্রেণীকে সুদৃঢ় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। এই ঐক্যে শ্রমিক শ্রেণীকে অগ্রণী ভূমিকা পালান করতে হবে। আর এই ঐক্যে কৃষক ও মধ্যবিত্ত শ্রেণী যুক্ত হলে দেশের অবস্থা পাল্টে যাবে।
আজ বিকেলে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ঢাকা মহানগর আয়োজিত এক আলোচনা সভায় পার্টি সভাপতি জননেতা কমরেড রাশেদ খান মেনন এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

মহামতি কার্ল মার্কস এর ২০১ তম জন্ম বার্ষিকী ও মহান মে দিবসের ১৩২ তম বার্ষিকী পালন উপলক্ষে পার্টির কার্যালয়ে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর পার্টির সভাপতি কমরেড আবুল হোসাইন। সভায় আলোচক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য কমরেড বিমল বিশ্বাস, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. সুশান্ত দাস, মহানগর নেতা শাহানা ফেরদৌসি লাকী।

আলোচনা সভায় বিপ্লবী কবিতা আবৃত্তি করেন কমরেড মোস্তফা আলমগীর রতন। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক কমরেড কিশোর রায়।

আলোচনায় কমরেড বিমল বিশ্বাস বলেন, মার্কসের ২০১ তম জন্মবার্ষিকী এবং মহান মে দিবসে ১৩২ তম বার্ষিকী অতিবাহিত হলেও বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষের ভাগ্যের তেমন কোন পরিবর্তন হয় নি। ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে লুটেরা ধনীক শ্রেণীর। আজও বাংলাদেশের শ্রমজীবী মানুষরা তাদের অধিকারের জন্য মিছিল করতে হয়, জীবন দিতে হয়। এই অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে শ্রমজীবী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রুখে দাড়াতে হবে।