রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার প্রস্তুত

10

যুগবার্তা ডেস্কঃ বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার প্রস্তুত রয়েছে।
যদিও নির্যাতিত এই জনগোষ্ঠির সদস্যরা তাদের দেশে ফিরে গেলে তাদের উপর আবারও অত্যাচার চালানো হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ বিষয় ঢাকা জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশটিকে তাদের রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য অবশ্যই তাদের এই নাগরিকদের আস্থা অর্জন করতে হবে।
মিয়ানমারের একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে তাদেরকে মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে ফিরে যাবার জন্য বুঝিয়ে শুনিয়ে রাজি করানোর চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র বিষয়ক স্থায়ী সচিব মিন্ত থু ঢাকায় এক নিউজ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আসলে আমি তাদেরকে (রোহিঙ্গাদের) বলেছি যে, তারা দেশে ফিরে যাবে কিনা তা ঠিক করার এখনই উপযুক্ত সময়। কারণ, আমরা তাদের প্রধান সমস্যাগুলোর সমাধান করেছি।’ তিনি মিয়ানমারের এই ১৯ সদস্যের প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দেন।
থু বলেন, ‘মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত। তবে, এটা তাদেরই ঠিক করতে হবে যে তারা ফিরে যেতে চায় কিনা।’
যদিও বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব কামরুল আহসান বলেন, নাপিদোকে অবশ্যই রোহিঙ্গাদের এমন আস্থা অর্জন করতে হবে যেন তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে রাজি হয়।
তিনি আরো বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত তাদের মধ্যে এই আস্তা তৈরি না হবে তারা তাদের দেশে ফিরে যাবে না।’
আহসান একইসাথে এও বলেন, ‘আমরা (বাংলাদেশ) কাউকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠাব না।’
মিয়ানমারের ১৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গত দুই দিন রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেছে। এ সময় তারা রাখাইনের হিন্দু বাসিন্দাদের অবস্থাও পরিদর্শন করে। সংখ্যাগুরু মুসলিমদের সাথে তাদেরকেও জোরপূর্বক দেশত্যাগে বাধ্য করা হয়।
এটা কোন মিয়ানমার প্রতিনিধিদলের রোহিঙ্গা শিবিরে তৃতীয় পরিদর্শন। কিন্তু এবার তাদের সাথে আসিয়ান এর পাঁচ পরিদর্শকও ছিল। তবে, সংবাদকর্মীদের তাদের সঙ্গে যেতে দেয়া হয়নি।
থু আরো বলেন, ‘আমরা রোহিঙ্গা নেতৃবৃন্দ ও আমাদের প্রতিনিধি দলের মধ্যে আস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়েছি।’
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলাপকালে তাদের মিয়ানমারের নাগরিকত্বের এনভিসি কার্ড দেয়ার ব্যাপারে আলোচনা করা হয়।
এদিকে, সোমবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন তার কার্যালয়ে পৃথক এক সাক্ষাতকারে গণমাধ্যমকে বলেন, নেপিদো প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গাদের জাতীয় নাগরিকত্বের বিষয়টি উল্লেখ করেছে। এটি একটি ‘বড় অগ্রগতি।’
তিনি এও বলেন যে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদানের বিষয়টি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং বাংলাদেশ এই ইস্যুটিকে নিয়ে দেশটির উপর চাপ দিতে চায় না। ঢাকা শুধু রোহিঙ্গাদের নিরাপদে তাদের দেশে ফেরত পাঠাতে ও সেখানে তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চায়।’
মোমেন বলেন, মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে দেশটি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, ‘তবে আমি তাকে বলেছি রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটি তাদের দেশে ফিরে গেলেই আমি সেখানে সফর করব।’
তবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের অধিকার ফিরে পেতে তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যাওয়া উচিত। রাখাইন না গেলে তাদের নাগরিকত্বের অধিকার সম্পর্কে বোঝা সম্ভব নয়।’
বাংলাদেশ আজ প্রত্যাবাসনের জন্য ৬ হাজার পরিবারের ২৫ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর করেছে।
আহসান বলেন, বাংলাদেশ এর আগে মিয়ানমারকে ৩০ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা দিয়েছিল। এদের মধ্যে মিয়ানমার ইতোমধ্যেই প্রথম দফায় প্রত্যাবাসনের জন্য ৮ হাজার জনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
কখন প্রত্যাবাসন শুরু হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যে কোন সময়ই হতে পারে।
রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা মেঘনায় দু’দেশের সচিবগণ প্রায় দু’ঘন্টা বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতি দেন।
মিয়ানমার ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি বাংলাদেশের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়। কিন্তু মিয়ানমারের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট পদক্ষেপ গৃহীত না হওয়ায় এবং অনিশ্চয়তা ও অনিরাপত্তাজনিত কারণে রোহিঙ্গাদের ফিরে যেতে অস্বীকৃতির কারণে সেটি খুব বেশিদূর অগ্রসর হতে পারেনি। গত বছরের ১৫ নভেম্বর রোহিঙ্গাদের প্রথম দলটির প্রত্যাবাসনের কথা ছিল।