রোহিঙ্গাদের কারনে পরিবেশগত ঝুঁকিতে বাংলাদেশ–প্রধানমন্ত্রী

11

যুগবার্তা ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,
মিয়ানমার থেকে আসা ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বিভিন্ন ধরণের পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠেছে, ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে খারাপ পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রথম অভিজ্ঞতা রয়েছে। অতএব আমাদের ঝুঁকি, প্রভাব এবং মোকাবিলার সক্ষমতার অভাব রয়েছে এমন অরক্ষিত দেশগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য একটি মানদন্ড নির্ধারণ করতে হবে। আমরা জলবায়ু পরিবর্তন সমর্থনও অব্যাহত রাখতে চাই এবং নিয়মিত এর উন্নয়ন অর্থকে কঠোরভাবে পৃথক রাখতে চাই। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে প্রতিটি দেশ বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো জলবায়ুজনিত অরক্ষিত দেশগুলোর জন্য অস্তিত্বের হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা সম্ভবত আমাদের সময়ের সবচেয়ে কঠিন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মানব ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাক অতিক্রম করছিল।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা যদি শিশুদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হই, তাহলে আমাদের শিশুরা আমাদের ক্ষমা করবে না।

প্রধানমন্ত্রী আজ স্পেনে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (কপ-২৫) কপ ২৫ লিডার্স সামিটে ‘এ্যাকশন ফর সারভাইবাল : ভালনারেবল নেসন্স’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় এসব কথা বলেছেন।
আজ সকালে স্পেনের সর্ববৃহৎ এক্সিবিশন কমপ্লেক্স এবং ইউরোপের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থান ফারিয়া দা মাদ্রিদ-এ কপ-২৫ শুরু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বের জন্য একটি কঠিন বাস্তবতা এবং এটি বর্তমানে মানব জীবন এবং পরিবেশ, প্রতিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের অপূরণীয় ক্ষতির কারণ।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের মোকাবেলার সীমিত সক্ষমতা এবং সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক বৈশিষ্টের কারণে আমাদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে। আমরা ক্ষয়ক্ষতির ধকল বয়ে বেড়াচ্ছি অথচ এক্ষেত্রে আমাদের সৎসামান্য অথবা কোন দায়ই নেই।
শেখ হাসিনা বলেন, এটা একটা মারাত্মক অবিচার এবং বিশ্ব সম্প্রদায়কে এটা অবশ্যই স্বীকার করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মালেতে ২০০৯ সালের নভেম্বরে ফোরামের প্রথম বৈঠকের পর থেকে বৈশ্বিক জলবায়ু ভূপৃষ্ঠের যথেষ্ট পরিবর্তন হয়েছে। হতাশার বিষয় হলো ইউএনএফসিসিসি প্রক্রিয়ার আওতায় এই অগ্রগতি খুবই ধীর এবং অত্যন্ত অপ্রতুল।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, ডাচ প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট, কোস্টারিকান প্রেসিডেন্ট কার্লোস আলভারাডো কুইসাদা, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের প্রেসিডেন্ট হিলদা হেইন, ইউএনএফসিসিসির নির্বাহী সম্পাদক প্যাট্রিসিয়া এস্পিনোসা এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার মিশেল বাচলেট জেরিয়া ।